Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ভুঞাপুরে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে বানবাসী মানুষ

৫০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সেনা মোতায়েন

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৪:১৫ পিএম

যমুনায় অস্বভাবিক বৃদ্ধির ফলে ভুঞাপুরে ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে । ভাঙন ও বন্যার কারণে দিশেহারা মানুষ মানববেতর জীবন যাপন করছেন। জায়গাসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেনএবং অনেকে ভূঞাপুর -তারাকান্দি সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চারটি গ্রাম, নিকরাইল ইউনিয়নে আটটি, গাবসারা ইউনিয়নে ছয়টি, অর্জুনা ইউনিয়নে ১৮টি ও ফলদা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর আগে গত কয়েকদিনের নদীভাঙনে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বৃহস্পতিরবার তারাই নামক স্থানে বাধঁ ভেঙ্গে আরও অন্তত নতুন করে ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক গ্রামের ভাঙনে ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, বন্যাকবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, বন্যাকবলিত মানুষদের সহযোগিতার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবার জন্য মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল পাউবো’র বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভাঙন ও বন্যা কবলিত মানুষের অভিযোগ, ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পাউবো। সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করলে কাউকে বাড়িছাড়া হতে হতো না। আঘাত হানতে পারতো না প্রমত্তা যমুনা।স্থানীয় গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনিরুজ্জামান মনির জানান, এই ইউনিয়ন পুরোটাই চরাঞ্চল। বন্যার কারণে পুরো ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা পরিস্থিতি


আরও
আরও পড়ুন