Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

এনআরসি নথিকে মূল্যবান মনে করছেন আসামের মুসলিমরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১২:১৬ এএম

ভারতের বানভাসি আসাম রাজ্যের মরিগাঁও জেলার টেঙাগুড়ি গ্রামে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) জওয়ানেরা। বুক পানি ভেঙে এক ব্যক্তিতে এগোতে দেখে নৌকো নিয়ে এগোলেন তার দিকে। লোকটির হাতে একটি প্লাস্টিকের প্যাকেট। এত পানিতেও মাথার উপরে হাত তুলে প্রাণপণে আগলে রেখেছেন সেটা। উদ্ধার করে নৌকায় তোলার পরে জানা গেল তার নাম সামসুল। বাড়িতে পানি ঢোকার পরে ঘর ছেড়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে। তাদের নিয়ে উঁচু জায়গায় পৌঁছনোর পরে আচমকাই মনে পড়ে, আধ-ডোবা ঘরে থেকে গেছে এনআরসির কাগজপত্র। সুতরাং কলার ভেলায় চড়ে গ্রামে ফিরেছেন। দু’দিন খাওয়া জোটেনি। তবু এনআরসির নথি পাওয়ার লড়াই ছাড়েননি। সামসুলের কথায়, ‘‘বাড়িঘর আজ ডুবেছে। কাল পানি নেমে যাবে। কিন্তু এনআরসির কাগজ যদি না থাকে তা হলে তো দেশহীন হয়ে পড়ব!’’ ত্রাণকার্যে নামা এনডিআরএফের জওয়ানেরা জানাচ্ছেন, মরিগাঁও, ধুবুড়ি, বঙাইগাঁও, নগাঁওÑ সংখ্যালঘুপ্রধান সব এলাকাতেই একই ছবি। ঘর ডুবলেও ভিটে আঁকড়ে থাকতে চাইছেন প্রান্তিক, সংখ্যালঘু মানুষেরা। বাড়তে থাকা পানি, অনাহার, সাপের কামড়ের চেয়েও তীব্র আশঙ্কায় ভুগছেন সকলে। আর কয়েক দিন পরেই এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা বেরোবে। সেখানে নাম থাকলে ভালো, কিন্তু যদি নাম বাদ পড়ে, তা হলে তো এই সব কাগজপত্র সম্বল করেই ফের ফরেনার্স ট্রাইবুনালে হাজির হতে হবে। তাদের কথায়, ‘‘বিচারক তো আর বন্যার অজুহাত শুনবেন না!’’ তাই অনেক সময়েই আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে পৌঁছে দেয়ার পরে তাদের কান্নাকাটিতে বাধ্য হয়ে আবার বন্যায় ভেসে যাওয়া গ্রামে ফিরে যেতে হচ্ছে এনডিআরএফ জওয়ানদের। ঘর খুঁজে নিয়ে আসতে হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র। এমনকি লাহরিঘাটির একটি পরিবারের কাতর অনুরোধে বন্যায় পুরো ডুবে যাওয়া একটি কুঁড়ের ভিতর থেকে এনআরসির ফাইল উদ্ধার করতে ডুবুরি নামাতে হয় উদ্ধারকারীদের। এবিপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন