Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

১১ খাতে ওয়াসায় দুর্নীতি

প্রতিবেদনে দুদকের ডজন সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

রাজধানীবাসীর জন্য পানি সংগ্রহ প্রকল্পে ৫শ’ ৫২ কোটি টাকা বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে। মিরপুরে ৫শ’ ২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে ৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা এ দুর্নীতি করেন। এছাড়া সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও সেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয় আরো বাড়বে। ওয়াসার প্রকল্পের কাজ বেশিরভাগই দেয়া হচ্ছে পছন্দসই ঠিকাদারদের। ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ওভারটাইম না করেই বিল তুলে নেন। এরকম দুর্নীতির অন্তত: ১১টি পর্যায় বা খাত চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ওপর দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে দুদক এসব খাত চিহ্নিত করে। দুর্নীতি প্রতিরোধে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুদক টিম দুর্নীতিপ্রবণ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ওপর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করে। প্রাতিষ্ঠানিক টিম অতীতের রেকর্ডপত্র, বার্ষিক প্রতিবেদন, স্টেক হোল্ডারদের মতামত, বিদ্যমান আইনকানুন, ওইসব বিভাগে যারা কর্মরত আছেন তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে এ প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। এর আগে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থার কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন আকারে দুর্নীতির চিহ্নিত খাত এবং সুপারিশসমুহ হস্তান্তর করেন। মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এ প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পরে মন্ত্রী এবং দুদক কমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং দুদকের নিজস্ব অনুসন্ধানে ওয়াসার দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াসায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সীমা ও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়। এক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকেন। তিনি বলেন, ওয়াসার সরবরাহ করা পানি এখনও পানযোগ্য নয়। ওয়াসার ১১টি দুর্নীতি আমরা পেয়েছি। এজন্য ১২টি সুপারিশ করেছি। বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, প্রকল্পের খরচ বেড়ে গেছে। কালক্ষেপণের কারণে এমন হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারদের তাদের কাজের চেয়ে বেশি টাকা দেয়া হয়েছে। এতে কাজ তুলে নিতে পারছে না। তাই কাজের মান ও পরিমাণ বিবেচনা করে টাকা ছাড় করলে ভালো ফল পাওয়া যেতো। তাই বলা যায়, স্পষ্টতই এখানে ওয়াসার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

দুদক কমিশনার বলেন, এসব বন্ধে টেকনিক্যাল লোকজনদের নিয়ে সারভেইলেন্স টিম গঠন করা যেতে পারে। প্রাক্কলন পর্যায়ে পেশাদারিত্ব বাড়াতে হবে। ওয়াসার অনেক কাজই অসমাপ্ত। সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ও পদ্মা-যশলদিয়া প্রকল্পেরও অগ্রগতি নেই। মনিটরিং না বাড়ালে এভাবেই পড়ে থাকবে এসব। প্রকল্পগুলোতে বিদেশি অর্থায়নও থাকে। সরকারি অর্থও থাকে; উভয় স্বার্থ যেন রক্ষা পায়। সরকারের স্বার্থ তথা জনগণের স্বার্থ রক্ষা পাচ্ছে কম। এজন্য নিরীক্ষা জোরদার করতে হবে।
দুদকের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, দুদকের প্রতিবেদনটি আমরা পেয়েছি। ওয়াসার যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি চিহ্নিত করা হয়েছে সেসব নিয়ে আমরা কাজ করবো। কানো অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। এটি এ সরকারের অঙ্গীকার। সব জায়গায় দুর্নীতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আমরা দুদকের অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছি। আমরা এগুলো তদন্ত করব। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন