Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

লক্ষ্মীপুরে ধান চাষে আগ্রহ নেই কৃষকের আউশ আবাদ অর্ধেকে নেমেছে

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ জুলাই, ২০১৯, ৬:৪৯ পিএম

লক্ষ্মীপুরের ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। সিন্ডিকেটের কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রান্তিক কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারেননি। আউশ ধান আবাদে প্রতিবছরই লক্ষ্মীপুরে বাম্পার ফলন হয়। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, শ্রমিক সংকট, উৎপাদন খরচ না উঠাসহ নানান প্রতিকূলক কারনে এ বছর আউশ ধান চাষে কৃষকদের তেমন আগ্রহ নেই। ফলে চলিত বছর আউশ আবাদ অর্ধেকে নেমে এসেছে । জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষি জমি এখন অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

লক্ষ্ণীপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে জেলায় ২৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭১৫ হেক্টর। রায়পুরে ৪ হাজার হেক্টর, রামগঞ্জে ৫০০ হেক্টর, রামগতিতে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর ও কমলনগরে ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর।
চলিত বছর এ পর্যন্ত জেলার ৫ উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়। এরমধ্যে সদরে ১ হাজার ৫৬০, রায়পুরে ৩ হাজার ৮০০, রামগঞ্জে ৩৫০, রামগতিতে ৭ হাজার ৫৫০ ও কমলনগরে ৪ হাজার ৭৪০ হেক্টর।

গত মৌসুমে লক্ষ্ণীপুরে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকরা খুশি হয়েছেন। কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফোটেনি। ধানের কাঙ্খিত দাম পায়নি কৃষক। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়েছেন। তাদের এখনো হতাশা কাটেনি। বাধ্য হয়ে কম দামেই কৃষকরা ধান বিক্রি করছেন। কেউ কেউ বেশি দাম পাওয়ার আশায় সংরক্ষণ করছেন। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।

কৃষকরা জানাচ্ছেন, প্রতিমণ ধানে তাদের উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ৮শ টাকা। কিন্তু সেই ধান বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। মণ প্রতি লোকসান গুনতে হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

চর মার্টিন গ্রামের বর্গাচাষি দীন মোহাম্মদ বলেন, গত বছর তিনি ১৬০ শতাংশ জমি বর্গা চাষ করেন। তাতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হয়েছে ৬০ মণ। জমির মালিককে দিতে হয়েছে ৩০ মণ। বাকি ৩০ মণ আউশ বিক্রি করে তার উৎপাদন খরচের টাকা উঠেনি। যে কারণে তিনি এবার সামান্য জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। আবাদ ধানের আশায় নয়, গরুকে খাওয়াতে খড়ের আশায়।

লক্ষ্ণীপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, আউশ ধান বৃষ্টি নির্ভর, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কৃষক পানির অভাবে চারা রোপণ করতে পারেনি। এছাড়া ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধান চাষে কৃষককের আগ্রহ কমেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ