Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

চট্টগ্রামে যানজট বন্দরের কারণে নয়

মতবিনিময়ে বন্দর চেয়ারম্যান জুলফিকার আজিজ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

চট্টগ্রামে যানজট বন্দরের কারণে হচ্ছে না উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ। তিনি চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। এর পাশাপাশি যানজট নিরসনে সহায়ক এবং আমদানি-রফতানি পণ্যসামগ্রী পরিবহন কার্যক্রমের দ্রুততা, উন্নয়ন, আধুনিকায়নে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চলমান কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেন।
গতকাল (শনিবার) বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বন্দর চেয়ারম্যান একথা বলেন। তিনি বলেন, প্রবল বর্ষণে সাম্প্রতিক পানিবদ্ধতা, পোর্ট কানেকটিং (পিসি) সড়ক সংস্কার, বারিক বিল্ডিং থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য খোঁড়াখুড়ি ও সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য মূল সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট সমস্যা আগের চেয়ে বেড়ে গেেেছ। তিনি জানান, টানা ১০ থেকে ১২ দিন বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বিভিন্ন সড়কে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এরফলে চট্টগ্রাম নগরী ও বন্দর সংলগ্ন সড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্দরে ট্রাক, ট্রেইলার ও কাভার্ডভ্যান প্রবেশের বিকল্প ব্যবস্থা নেই। এতে করে বন্দরের বাইরে যানজটের সৃষ্টি হয়। যা কোনো অবস্থাতেই চট্টগ্রাম বন্দরের কারণে সৃষ্টি হয়নি। এ সময় বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি ৪ হাজার টিইইউসেরও কম ছিল। কাজেই তীব্র যানজটের পেছনে মূলত বৈরী আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্দরের যানবাহন ও গণপরিবহন একই সড়কে চলাচল এবং নগরীতে বিকল্প সড়ক তৈরি না হওয়াকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণির পর গত ৬ মে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০০ টিইইউএস কন্টেইনার এবং ব্যাপক হারে কার্গো ডেলিভারি হয়। এ সময়েও বন্দরের বাইরে তীব্র যানজট দেখা যায়নি।


চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান যানজট সমস্যার টেকসই নিরসনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বন্দরের বাইরে তীব্র যানজট নিরসনে নগরীতে প্রস্তাবিত দুটি রিং রোড বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এক. আগ্রাবাদ এক্সেস রোড-বড়পুল-আনন্দবাজার-ইপিজেড সড়ক। দুই. জিইসি-সাগরিকা-বেড়িবাঁধ কাম সড়ক। এ রিং রোড দুটি অবিলম্বে নির্মিত হলে চট্টগ্রাম নগরীর প্রধানতম ব্যস্ত সড়ক ও লাইফ লাইন এয়ারপোর্ট-আগ্রাবাদ-লালখানবাজার সড়কে যানজটের তীব্রতা কমবে। যানজট নিরসনে বন্দরের পক্ষ থেকে বে-টার্মিনাল ইয়ার্ড নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে কন্টেইনার ডেলিভারির সাথে একটি আধুনিক ট্রাক টার্মিনালও নির্মিত হচ্ছে। বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, বন্দরে দৈনিক ৭ হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার প্রবেশ করে। আইএসপিএস কোডের শর্ত অনুযায়ী এসব গাড়ি, চালক ও সহকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে। এরমধ্যে ৩২ হাজার ৭৬৯ জন চালক-সহকারী ডাটাবেজভুক্ত হয়েছেন। ২৯ হাজার ৭৬৯ জনকে ডিজিটাল পাস দেয়া হয়েছে। সহকারীর বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছর হলে শ্রম আইন মেনে বন্দরে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বেসরকারি অফডকের ট্রেইলার ২৪ ঘণ্টা চলাচলের জন্যও ডাটাবেজ সম্পন্ন হয়েছে। ডাটাবেজের কাজ দ্রুত করতে বন্দরের গেটগুলোর পাশাপাশি সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম শিগগির শুরু করা হবে। বুথ বাড়ানো হবে। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম, সচিব ওমর ফারুক প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ