Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

প্রিয়া সাহা ইস্যুতে উত্তাল ফেইসবুক

শাহেদ নুর | প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০১৯, ৫:১৫ পিএম

আমেরিকার হোয়াইট হাউজে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ‘গুম’ (ডিসএপ্যায়ার্ড) হয়ে গেছে, তারা বাংলাদেশে নিরাপদ নন। এজন্য মুসলিম উগ্রবাদী আর রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে দায়ী করে তিনি ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করেন। ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মহল থেকেও এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার প্রিয়া সাহার অভিযোগের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ফেইসবুকে শুরু হয়েছে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়। বিভিন্ন স্টাট্যাস দেয়া পাশাপাশি তার শাস্তির দাবিতে বেশ কিছু ইভেন্টও খোলা হয়েছে। সর্বোপরি প্রিয়া সাহাকে দেশে এনে গ্রেফতারপুর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফেইসবুক।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু নোমান লিখেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার দ্বায়ে প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এই কাজটা কোন মুসলিম করলে, হতো জঙ্গি। অনেকে মুখে ফেণা তুলে ফেলতেন। আজ তারা সংখ্যালঘু সাইনবোর্ড লাগিয়ে করছে অপকর্ম, সাহস পাচ্ছে দেশদ্রোহের। আমি বলবো বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, এখানে সকল ধর্মের অধিকার সমান। যারা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেশকে ছোট করার পায়তারা করছে, তাদের জন্য আমার এই শ্যামল ভূখন্ড না। বয়কট করা হোক সকল দেশদ্রোহীকে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে হবে, সে যেই হোক।’

‘বাংলাদেশকে ভালবাসলে প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে হিন্দু-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া উচিত। সরকারের উচিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ব্যবস্থা করা। যে দেশ ১০-১২ লাখ রোহিঙ্গাকে কোনো শর্ত ছাড়া আশ্রয় দেয়, যে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ সরকারের পিয়ন থেকে সচিব পর্যন্ত পদে চাকরি করে, বসবাসকারী জনসংখ্যার শতকরা বিচারে যেখানে ৫০ ভাগের বেশি সরকারি স্কুল শিক্ষক সংখ্যালঘু, সেই দেশ নিয়ে এমন অভিযোগ যে শুধু পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সেটেল হওয়ার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয় তা বোধহয় ১০ বছরের বাচ্চাও বুঝবে। সরকার বলছে তিনি দেশে আসলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি আসবেন তো?’ - লিখেছেন শামীম আহমেদ শিশির।

প্রিয়া সাহার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিতু হক লিখেন, ‘ঈদে সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে গান বাজালে পুলিশ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পূজায় পুলিশ পাহারায় সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে গান বাজানো হয়। এরপরেও বাংলাদেশে হিন্দুরা অবহেলিত নির্যাতিত! বাংলায় পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজদ্দৌলার পতন হয়েছিল এই ঘসেটি বেগমদের কারণে। যুগে যুগে এরা রক্ত চোষা জোঁকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। ধিক্কার জানাই।’

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশংকা প্রকাশ করে ‎সাংবাদিক সাহিদ ইসলাম‎ লিখেন, ‘প্রিয়া সাহার অপ্রিয় আর মিথ্যা বক্তব্যের কারণে যদি কোন প্রকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরি হয়, তবে এর দায়ভার সংখ্যালঘুদেরই নিতে হবে।’

‘প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে খেয়ে পড়ে আবার আমেরিকাতে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করে। মহিলাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ - লিখেন প্রবাসী আইনজীবি ব্যারিস্টার মোশারফ হোসাইন।

‘সরকারি উদ্যোগে এ মহিলা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া উচিত। অন্তত আ.লীগ সরকারের আমলে এমন অভিযোগ গ্রহনযোগ্য নয়।’ - শামসুজ্জামান নাঈমের মন্তব্য।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশাল মিডিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ