Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

কুষ্টিয়ায় কুকুরের ভ্যাকসিন সঙ্কট : বিপাকে রোগীরা

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া থেকে | প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

কুষ্টিয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই কুকুরের কামড়ানোর ঘটনা ঘটছে। কুকুরে কামড়ানো রোগীরা প্রতিদিই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসছে। কিন্তু জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই কুকুরে কামড়ানো রোগীর ভ্যাকসিন। কয়েক বছর আগে হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ওই ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হলেও এখন আর তা সরবরাহ করা হয় না। মাঝে মধ্যে স্বল্প পরিমাণে আসলেও তা রোগীদের চাহিদা পূরণ হয় না। তাই কুকুরে কামড়ানো রোগী নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে রোগীর আত্মীয় স্বজন। মানুষ হাসপাতালের বাইরে থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনে তা ব্যবহার করছে। কিন্তু ওই ভ্যাকসিনের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না রোগীরা। তাই দারুন শংকা আর হতাশায় রয়েছে কুকুরে কামড়ানো রোগীরা।

জানা যায়, কুকুরের উপদ্রব্য বেড়েছে। জেলার ৬টি উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে কিনে আনতে হয় ভাওয়েল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে হাসপাতালে বিনামূল্যে কুকুরের কামড়ানো ভায়েল বিনামুল্যে দেয়া হতো কিন্তু সরকার সরবরাহ বন্ধ করায় তা আর আসেনা। ভাওয়েলের অভাবে রোগীদের চিকিৎসকরা ঠিকমতো চিকিৎসা প্রদান করতে পারছে না। এরপর ভাওয়েল রাখার ফ্রিজ ও আসবাবপত্র না থাকায় চিকিৎসকরাও বিড়ম্বনায় পড়ছে বলে জানান।

এদিকে রোগীরা জানান, চিকিৎসকরা তাদেরকে বাইরে থেকে কুকুরে কামড়ানো ভাওয়েল কিনে আনতে বলছেন। যার মূল্য ৬৪০ টাকা। একটি ভাওয়েল ৪ জন ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও একজন রোগী কিনে এনে তা একবারই ব্যবহার করতে পারছেন। অনেক সময় ৩/৪ জন মিলে একটি ভাওয়েল কিনে ব্যবহার করছেন। অনেক রোগী কম দামে ব্যবহার করার জন্য অন্য রোগীর অপেক্ষায় সময় পার করছেন। কয়েকজন একত্রিত হলে একটি ভাওয়েল কিনে তা ৪ জন করে ব্যবহার করছেন। এভাবেই ৪টি ডোজ নেওয়ার জন্য তাদেরকে দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানায় রোগীরা।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো ভাওয়েল না থাকায় কুষ্টিয়া পৌরসভা তা সরবরাহ করছেন বলে রোগীরা জানিয়েছে। তবে সেখানে প্রতিজনের ডোজ প্রতি নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। এভাবে ৪ ডোজ নেয়ার কুষ্টিয়া পৌরসভায় অনেক রোগী ভীড় করছেন।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, কুকুরে কামড়ানো রোগী প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু কুকুরে কামড়ানো ক্ষতস্থানে জীবাণু মারা যাওয়ার একমাত্র নিশ্চিত ভ্যাক্সিন রেবিস ইমোনো গেøাবিন (আরআইজি) সরবরাহ বন্ধ। ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় তারা চিকিৎসা দিতে পারছেন না তারা।

চিকিৎসকরা আরো জানায়, কুকুর প্রজননের এখন সময় তাই কুকুর এখন হিংস্র ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তাদের কাছে গেলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষকে কামড়াচ্ছে। সেই সাথে জেলায় পাগলা কুকুরের সংখ্যাও কম নয় বলে জানান। বেওয়ারিশ কুকুর জেলায় অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

চিকিৎসকরা জানান, কামড়ে কোন রক্ত বের হয়নি ও আঘাত একেবারে সামান্য সেই ক্ষেত্রে নরমাল ভ্যাক্সিন দিলে জলাতংক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে কুকুরের কামড়ে রক্ত বের হলে সেই ক্ষেত্রে আরআইজি দিতে হবে। নরমাল ভ্যাক্সিনের পাশাপাশি আরআইজি না দিলে ক্ষতস্থানে জীবাণু মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। জলাতংক রোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আরআইজি সরবরাহ নেই। তবে বাইরে কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আরআইজি সরবরাহ করা হয়।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণ যেমন বেড়েছে তেমন বেড়েছে ক্ষিপ্রতা ও হিংসতা। তাই এ সকল কুকুর নিধন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। অন্যথায় ঘরে ঘরে মরণব্যাধি জলাতংক রোগ দেখা দিবে বলে আশংকা করছেন চিকিৎসকরা।

কুষ্টিয়া মেডিকেলের আবাসিক অফিসার জানান, হাসপাতালে প্রতি মাসে চাহিদা ৫০০ ভাওয়েল সেখানে পাওয়া যায় মাত্র ৫০টি। এরপরও মাঝে মধ্যে আসা বন্ধ থাকে। এ জন্যই তারা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে।

তাই কুষ্টিয়াকে জলাতংকমুক্ত করতে হলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো ব্যাকসিন আরআইজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি রোগীদের। সেই সাথে বেওয়ারিশ কুকুর নিধল করলে রোগীর সংখ্যা কমবে বলে মত দেন তারা। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এ দাবি জেলাবাসীর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন