Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

এমডিজির মতো এসডিজিতেও সফল হবো পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ৬ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ সহ¯্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) নির্ধারিত ৮টি লক্ষ্যের সব কটি কেবল অর্জনই করেনি বরং লক্ষ্যসমূহ অর্জনের বিরল সফলতা দেখিয়ে ৮টি পুরস্কার অর্জন করেছে। অনুরূপ টেকসই উন্নয়নে লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) নির্ধারিত ১৭টি লক্ষ্যের সবক’টি সফল জনকভাবে অর্জনে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে সফলতার জন্য ১৭টি লক্ষ্যের সবক’টি অর্জনের সফলতা পুরস্কার অর্জনেও আমরা আশাবাদী। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ অপরিহার্য। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোববার ইউএনডিপি আয়োজিত বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্যের গুরুত্ব বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে অগ্রগতির চলমান ধারা অব্যাহত থাকে তবে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে বেসরকারি খাত। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতিশীলতার জন্য প্রয়োজন কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার গুণগত অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া গ্রাম এবং শহরের মধ্যে ব্যবধান হ্রাস টেকসই উন্নয়নের জন্য খুবই অপরিহার্য। সরকার সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, বিশে^র শিল্পোন্নত ৫টি দেশ শতকার ৫৫ ভাগ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্বন নির্গমন করছে। অথচ কার্বন নির্গমনকারী দেশ না হয়েও আমাদেরকে পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিরাট ঝুঁকি সামলাতে হবে। এ সকল নানা ঝুঁকি সত্যেও বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলম, ইউএনডিপি কান্ট্রি ডাইরেক্টর পাইলিন টামেসিস, ইউএনডিপির প্রাইভেট সেক্টর উপদেষ্টা শাবা সোবানি, বেসরকারি সংস্থা বিল্ড-এর চেয়ারপার্সন আসিফ ইব্রাহিম এবং নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ইনক্লিউসিভ বিজনেস ডাইরেক্টর জামালউদ্দিন বক্তৃতা করেন।
এদিকে, ঢাকায় এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে বিসিএস ৩৪তম ব্যাচে ইকোনোমিক ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ২ দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যারা এগুতে পারবেন তারাই বীর। এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য জাতির পিতা আজীবন কাজ করেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে কাজটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। কিন্তু তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দক্ষতার সাথে তা বাস্তবায়ন করছেন। বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ^ অর্থনীতিতে সম্মান জায়গায় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি পরিবর্তনে বিশ^াস করি, পরিবর্তন হচ্ছে উন্নয়ন। দেশ পরিচালনার জন্য লক্ষ মানুষের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন দক্ষ একজন মানুষের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য ২০২১, ২০৩০ এবং ২০৪১ সালে কতটুকু যাবে তিনিই স্থির করে দিেেয়ছেন। খেলার মাঠে ক্যাপ্টেন যেভাবে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। অগ্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন এক বিস্ময়। মন্ত্রী নবাগত কর্মকর্তাদের দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, ড. শাসমুল আলম, খোরশেদ আলম চৌধুরী, সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী এবং আবদুাল মান্নান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ বছর ইকোনোমিক ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ২০ জন কর্মকর্তা এ ওরিয়েন্টেশনে অংশ নেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।