Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

লৌহজংয়ে পদ্মার তীব্র ভাঙন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০১৯, ১:১৫ পিএম

উত্তাল হয়ে উঠেছে পদ্মা। এখন পদ্মার বুকে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ, সঙ্গে স্রোতের তীব্রতায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের নদী-তীরবর্তী গ্রামগুলোয় চলছে তীব্র ভাঙন। গত তিন দিনে উপজেলার খড়িয়া গ্রামের ১০টি পরিবারের ভিটেমাটি বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে খড়িয়া গ্রামের আরও প্রায় ৩০ পরিবার, মসজিদ ও বিভিন্ন স্থাপনা। টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নদী-তীরবর্তী গ্রামগুলোতেও পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পদ্মায় ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী-তীরবর্তী গ্রামগুলোয় দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। নদী-তীরবর্তী গ্রামের শত শত মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করায় লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া, কুমারভোগ ইউপির শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রাম, মেদিনীমন্ডল ইউপির কান্দিপাড়া গ্রাম, যশলদিয়া গ্রাম, মাওয়া পুরোনো ফেরিঘাটসহ তীরবর্তী গ্রামগুলোয় ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নদী-তীরবর্তী এসব গ্রামের শতাধিক পরিবার তাদের বসতবাড়ি ভেঙে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া লৌহজংয়ের ছয়টি গ্রামের দুটি বাজার, একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদসহ নানা স্থাপনা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

লৌহজংয়ের মতো টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া, হাসাইল বানারী ইউনিয়নের নদী-তীরবর্তী গ্রামগুলোতেও পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা একাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

গত শুক্র ও গতকাল শনিবার ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষায় বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত ক্ষতিগ্রস্তরা। পদ্মার বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছিল খড়িয়া গ্রামের বিভিন্ন বসতবাড়ির আঙিনায়। এদিকে উপজেলা সদরের লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন, সামুরবাড়ী, হারিদিয়া, ডহরী ও বেজগাঁও গ্রামেও নদীভাঙন চলছে।

লৌহজং উপজেলার তেউটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রুহুল আমিন জানান, পদ্মার ভাঙনে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরগতিতে ভাঙন চলছে। নদী-তীরবর্তী গ্রামগুলোয় বসতবাড়ি ছাড়াও বিস্তীর্ণ ফসিল জমি পদ্মায় চলে যাচ্ছে। লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া, কুমারভোগ ইউপির শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রাম, মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রাম, যশলদিয়া গ্রাম, মাওয়া পুরোনো ফেরিঘাটসহ পদ্মা-তীরবর্তী গ্রামগুলোয় এখন ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক পরিবার বসতবাড়ি হারিয়েছে। বর্তমানে লৌহজংয়ের ছয়টি গ্রামের দুটি বাজার, একাধিক মসজিদ, মাদরাসা, বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি লৌহজং-বেজগাঁও-গাঁওদিয়া বেড়িবাঁধটি পদ্মার স্রোতে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী।

উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন জানান, গত দুদিনে প্রায় ৬০ হাত এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। খরস্রোতা পদ্মা এখন খড়িয়া গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন এত তীব্র যে, ছয়টি ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতেও কষ্ট হচ্ছে, প্রতিনিয়তই এগোচ্ছে রাক্ষুসী পদ্মা। তার মতো প্রতিবেশী জিন্নত আলী, সুজন শেখ, রিমা আক্তারও একই কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রফিজউদ্দিন জানান, মাসের পর মাস নদীতীরে ভারী জাহাজ ও ট্রলার নোঙরে রাখায় ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি নদীতীরে জাহাজ নোঙর করার সুযোগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিলেও ক্ষতির বিষয়টি আমলে নেয়নি।

এ প্রসঙ্গে লৌহজংয়ের ইউএনও মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান জানান, পদ্মার ভাঙনের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্নিষ্টদের। খড়িয়া গ্রামটি পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদী শাসনের আওতায় রয়েছে। আগামী অর্থবছর ভাঙনরোধে কাজ করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পদ্মা

৪ জুলাই, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ