Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি রোধে সরকারের ধীর পদক্ষেপ !

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০১৯, ৫:৪১ পিএম

সাভারে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার অজ্ঞাতনামা এক নারী রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের তেঁতুলঝোড়া কলেজ রোড এলাকায় শনিবার গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে এমনিতেই গুজব চলছে। এর মধ্যে ওই নারী ওই এলাকায় নতুন ছিলেন। যার কারণে আশেপাশের লোকজনের সন্দেহের মুখে পড়েন তিনি। তবে এখনো তার পরিচয় জানা যায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে, কেরানীগঞ্জের খোলামুড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার গণপিটুনির শিকার অজ্ঞাতনামা আরেক জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই গণপিটুনিতে মারা গেছেন ৩৬ জন। আর গত চার দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। সংগঠনটির কর্মকর্তা নিনা গোস্বামী বলেন, বিভিন্ন কারণে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে থাকলেও সম্প্রতি গুজবের কারণে গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে। তিনি জানান, জুন মাসের মধ্যবর্তী থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত হওয়া গণপিটুনির পিছনে কাজ করেছে গুজব।


তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন গণপিটুনি ও গুজব প্রতিরোধে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে। তিনি বলেন, যে সমস্ত জায়গায় এ ঘটনাগুলো ঘটেছে সেখানে ইতিমধ্যেই অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা এগুলো ঘটিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং হবে।

তবে আতঙ্ক এ পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আগে সরকার কেন ব্যবস্থা নিল না - এমন প্রশ্নের উত্তরে মিস্টার মাহমুদ বলেন, "সাথে সাথেই সমস্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।"
"এখন আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে আজকের পরিস্থিতি আর ১০ বছর আগের প্রেক্ষাপট আর আগের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।"

তবে সরকার গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অমূলক একটি গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো যে, পদ্মা সেতুতে শিশুদের বলি দেয়া এবং এজন্য শিশু অপহরণ করা হচ্ছে- এই গুজব ছড়িয়ে দেয়ার বিপক্ষে সরকার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।"

তিনি বলেন, গণপিটুনি চরম অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ। এজন্যই সরকার ইতিমধ্যেই সব জেলায় জেলায় প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। টেলিভিশনে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়েছে কিছুটা, আরো ব্যাপকভাবে করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

ব্যাপক হারে প্রচারণার জন্য আগামী ৩১শে জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক সাথে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, "মানুষ যাতে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় সেজন্য জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিভিসিসহ নানা ভাবে প্রচারণা চালানো শুরু হয়েছে এবং আরো ব্যাপকতর করা হচ্ছে।"

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ