Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

২৪ ঘন্টায়ও সনাক্ত করতে পারেনি তলিয়ে যাওয়া ট্যাক্সি ক্যাবের অবস্থান

| প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০১৯, ৮:২৫ পিএম | আপডেট : ৮:৫৪ পিএম, ২২ জুলাই, ২০১৯

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের সালেহপুরে তুরাগ নদীতে পড়ে যাওয়া ট্যাক্সি ক্যাবটির অবস্থান ২৪ ঘণ্টা পরও শনাক্ত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে আমিনবাজার পেরিয়ে সালেহপুর সেতুর কাছে একটি বাসের ধাক্কায় ট্যাক্সি ক্যাবটি তুরাগ নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন জয় সাংবাদিকদের বলেন, সাভার থেকে ঢাকামুখী একটি হলুদ রঙয়ের ট্যাক্সি ক্যাবটিকে একটি বাস ধাক্কা দিলে নদীতে ছিটকে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন; তখন পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।
ওই গাড়িতে চালক ছাড়া অন্য কেউ ছিল কি না অন্ধকারে তা দেখতে পাননি জয়। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

রাতভর তুরাগ নদীতে বুবুরী দল তল্লাশী চালালেও ক্যবটির কোন হদিস পায়নি। এদিকে উদ্ধার কাজে ধিরগতি দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও কোন কিনারা করতে পারেননি উদ্ধারকারী ডুবুরী দল।

এদিকে নিখোঁজ ট্যাক্সি ক্যাব চালকের খোঁজে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তারাও উদ্ধার অভিযানের ধরিগতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অন্তত চালকের লাশটি ফেরত চাই।
এদিকে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার রাত থেকে তাদের একটি গাড়ি ও চালকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। জিপিএস ট্র্যাকারে গাড়ির সর্বশেষ অবস্থান ছিল সাভারে। তবে ওই গাড়িটিই দুর্ঘটনায় পড়েছে কি না- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের জোনাল কমান্ডার আনোয়ারুল হক বলেন, সোমবার ভোর রাত ৩টা পর্যন্ত ডুবুরিরা কাজ করেছেন, প্রাইভেট কারটির সন্ধান মেলেনি। সোমবার সকাল ৭টা থেকে আবার তল্লাশি চলছে। প্রবল স্রোতের কারণে কাজে বেগ পেতে হচ্ছে।

আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন বলেন, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের উপ পরিচালক ফজলুল হক সোমবার ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি বলেন, তাদের একটি গাড়ি রোববার রাত থেকে নিখোঁজ। চালক জিয়াউর রহমানের ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকার সর্বশেষ অবস্থান দেখিয়েছে সাভারে। নদীতে পড়ে যাওয়া গাড়িটি তাদের কি না সেটারই খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের জোনাল কমান্ডার আনোয়ারুল হক আরও বলেন, সাভার পুলিশের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে গাড়িটি কোন দিকে পড়তে পারে সেই ধারণা নিয়ে ডুবুরিরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, গাড়িটি হয়ত পড়ার সাথে সাথে ডুবে যায়নি। কিছুক্ষণ ভেসে থাকলে সেটা ভাটির দিকে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ডুবুরিরা তলায় গিয়ে তল্লাশি করতে পারছে না। ফলে অ্যাংকর নামিয়ে গাড়িটি খোঁজা হচ্ছে।

লাশের আসায় তুরাগ পাড়ে চালকের স্বজনরা : ভাতিজির স্বামী জিয়াউর রহমান গাড়িসহ নিখোঁজ হয়েছেন তুরাগ নদে। ক্লান্ত শরীর নিয়েই নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ নিতে তুরাগ পাড়ে ছুটে এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম।
বাসায় বাচ্চা দুই মেয়েসহ নিজেকে সামলাতে পারছেন না জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। তাই তিনি ঘটনাস্থলে না এলেও এসেছেন দুই নিকটাত্মীয় । তাদের এখন একটাই আশা, অন্তত জিয়াউর রহমানের লাশ যেন ফিরে পায় পরিবার।
তপ্ত রোদ, নদীর পাড়ের ময়লার দূর্গন্ধ ও প্রচুর ধুলা-বালিতে যেখানে দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্ট সেখানে ঠায় দাড়িয়ে আর্দ্র চোখ দুটি খুজছে হারানো স্বজনকে। কান অপেক্ষায় আছে লাশ খুজে পাওয়ার সংবাদ পেতে। নিশ্চিত দুঃসংবাদ জেনেও আশায় বুকে পাথর বেঁধে অপেক্ষমান জিয়াউরের পরিবার।

নিখোঁজ চালকের আত্মীয় নাসিম জানান, এখানে স্থানীয় জনগণ যারা রোববার রাত থেকেই আছে, তাদের কাছ থেকে শুনেছি উদ্ধার কাজে গাফেলতি আছে। এটা আমরা কিভাবে মেনে নিবো। আমাদের তো লাশটা দরকার। গাড়িটা না হোক আমাদের লাশটা চাই। আমরা চাই আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে জানান তারা যেন দ্রুতই উদ্ধার করে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সাভার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ