Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর, গাইবান্ধায় দ্বিতীয় দফা বন্যা

গাইবান্ধায় বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে ডেপুটি স্পীকার

গাইবান্ধা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ জুলাই, ২০১৯, ১০:১৩ এএম

নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় বৃদ্ধি পেয়ে গাইবান্ধায় দ্বিতীয দফা বন্যা দেখা দিয়েছে । বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, গত২৪ ঘন্টায় টায় ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর এবং ঘাঘটে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গাইবান্ধা শহরের ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । তিনি জানান, আবারও উজানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ গুলো মেরামতের কাজ ব্যাহত হচেছ ।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত গাইবান্ধার ২ টি পৌসভা সহ ৭ উপজেলার ৫০ টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এতে ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯১ লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ১ শ ৯৭ টি আশ্রায় কেন্দ্রে ৭৯ হাজার ৯ শ ৯৭ জন বন্যার্ত মানুষ আশ্রায় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পাানি নেমে না যাওয়ায় বন্যার্তরা ঘরে ফিরতে পারছে না। এছাড়া ৬২ হাজার ঘড় বাড়ি বন্যার পানিতে বিধবস্ত হয়েছে।

এপর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকায় ২টি পৌরসভা সহ ৭ উপজেলায় ১৩শ ৫০ মে: টন চাল, নগদ ২৫ লাখ ৫০হাজার টাকা, ৬ হাজার ৭০ প্যাকেট শুখনা খাবার সহ ১০ আইটেমের ত্রাণ প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। এদিকে জরুরী ভিত্তিতে ঔষুধ, স্যালাইনও সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি ওয়ার্ডে জরুরী ওষুধপত্রসহ বন্যা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষনিক কর্মরত রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকুপ স্থাপন করে দেয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১২ হাজার ৮০৩ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ, আমন বীজতলা, রোপিত আমন, পাট ও শাকসবজি।

এদিকে আজ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ভরত খালী ইউনিয়ন সহ যমুনা নদী বেষ্টিত বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানিবন্দী লোকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: জাহাঙ্গীর কবির, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম টলষ্টয়, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ফুলছড়ি আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল গফুর মন্ডল, যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

ডেপুটি স্পীকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সকলকে ত্রাণ দেয়া হবো বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি নির্মাণে সহায়তা দেয়া হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা দান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উলে¬খ করেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা পরিস্থিতি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ