Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ভারত সার্টিফিকেট দিলেও সরকার বৈধতা পাবে না

ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ প্রিয়া সাহার নাকি প্রধানমন্ত্রীর পরিস্কার করুন : মির্জা ফখরুল

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৬ জুলাই, ২০১৯, ১২:২৮ এএম

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আপনারা শেখ হাসিনা সরকারকে নিয়ে যতই বৈধতার সার্টিফিকেট দেন এই সরকার বৈধতা পাবে না। আপনাদের বৈধতার সার্টিফিকেট বাংলাদেশের জনগণ পড়তে চায় না, শুনতে চায় না। এদেশের জনগণ নিজের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে জানে। যেদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে পারে তারা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের গুম হওয়ার বিষয়ে প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রিয়া সাহা ভিডিও কনভারসেশনে বলেছেন, এটা তো আমার কথা নয়, এটা প্রধানমন্ত্রীর কথা। দেশবাসী জানতে চায় কোনটা সত্যি এটা কী প্রধানমন্ত্রীর কথা নাকী প্রিয়া সাহার কথা।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে খুলনার হাদিস পার্কে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কয়েকদিন আগে ভারতীয় হাইকমিশনারের একটা বক্তব্য দেখলাম। উনাকে সন্মান জানিয়ে বলবো, তিনি বলেছেন ভারত ও বাংলাদেশের সরকার নাকী বিপুল বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করেছে। বাহ! আপনি ভারতের হাই কমিশনার। ভারতের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর বিজয় আর শেখ হাসিনার বিজয় আপনি এক মাপকাঠিতে মাপলেন। আপনারা (ভারত) এই হাসিনা সরকারকে যতই বৈধ্যতার সার্টিফিকেট দেন, আপনাদের সার্টিফিকেট দেশের জনগণ পড়তে চায় না, শুনতে চায় না। তিনি বলেন, এই সরকার চুরি করতে করতে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেষ করে দিচ্ছে। লুটপাট করছে, জায়গা-জমি দখল করছে, তারা গুলি করে মানুষ মারছে । এখন মশা দিয়ে মানুষ মারছে।

দুপুর আড়াইটায় জনসভার প্রথম থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। কিন্তু বৃষ্টি উপেক্ষা করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে হাজার হাজার নারী-পূরুষ মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র হাদিস পার্কে সমাবেত হতে থাকে। জনসভাস্থল ছাপিয়ে জনতা ডাকবাংলা, বড়মাঠ, সার্কিট হাউস এলাকা, থানা মোড়, খুলনা প্রেসক্লাব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে জনতার ঢল। সমাবেশমুখী জন¯্রােতের কারণে ওই এলাকার সকল সড়কে যানবাহন চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। মহানগরীর প্রাণ কেন্দ্র ছিল বেগম জিয়ার মুক্তির ফেষ্টুন হাতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল। এতে যশোর, নড়াইল, মাগুরা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া বাগেরহাটসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে শ্লোগানে মুখর ছিলো পুরো সময়। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের সময়ে এই মাঠে খালেদা জিয়া বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর এই মাঠে বিএনপির কোনো সমাবেশ হয়নি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল বলেন, আজকে কত ভয়ানক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশকে একটা পুরোপুরিভাবে নতজানু, পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। বিভিন্নভাবে জাতীয় আন্তর্জাতিক সেই চক্রান্ত চলছে। প্রিয়া সাহা নামে একজন ভদ্র মহিলা ওয়াশিংটনে কি বক্তব্য দিয়েছেন? যে বক্তব্যে আওয়ামী লীগের লোকেরা নিজেরাই ক্ষুব্ধ হয়ে গেছেন। প্র্রথমদিন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন যে, তার (প্রিয়া সাহা) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হওয়া উচিত। এরপরের দিন উনি বললেন, না, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে দেয়া উচিত। তিনি (প্রিয়া সাহা) আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। একটি ভিডিও কনভারসেশনে প্রিয়া সাহা বলেছেন, এটা তো আমার কথা নয়, এটা প্রধানমন্ত্রীর কথা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জানতে চাই, দেশবাসী জানতে চায় কোনটা সত্যি? এটা কী প্রধানমন্ত্রী কথা নাকী প্রিয়া সাহার কথা। আমরা জানতে চাই, এই চক্রান্ত কিসের চক্রান্ত? জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বলা হচ্ছে সেই আন্তর্জাতিক চক্রান্তটা কী? এটা কী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে, দেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে। অবশ্যই এর জবাব এই সরকারকে দিতে হবে।

ডেঙ্গু ও মানুষ পিটিয়ে মারার’ ঘটনায় সরকার তার ব্যর্থতা আড়াল করতেই বিরোধী দলের সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আজকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্টুন-টার্টুনও বেরুচ্ছে। একটা কার্টুনে দেখলাম যে, ডেঙ্গু ও পিটিয়ে মারার ভয়ে সবাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষকে একটা পুরোপুরি অনিরাপদ ও অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, তথ্যমন্ত্রী সাহেব বলেছেন যে, পিটিয়ে মারার ঘটনায় তিনি বিরোধী দলের সংশ্লিষ্টতার গন্ধ পাচ্ছেন। কোনো কিছু ঘটলেই তারা বিরোধী দলের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। এটি তাদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষকে ন্যায় বিচার দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের ঐক্য অটুট রয়েছে জানিয়ে বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, নির্বাচনে পরাজিত করার জন্য আমরা ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি। কিছুসংখ্যক মহল অত্যন্ত উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলছে যে, বিএনপি যে মিটিং-টিটিং করছে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য করছে। আমরা পরিস্কার ঘোষণা দিতে চাই, ২০ দল ঠিক আছে, ঐক্যফ্রন্টও ঠিক আছে। আমরা ঐকবদ্ধভাবে এই সরকার পরাজিত করব, নেত্রীকে মুক্ত করব।

পাটকল শ্রমিকদের চরম দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে অবিলম্বে তাদের ন্যায্য মজুরী কাঠামোর দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে সংগঠিত হয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান ফখরুল। বন্যার কারনে বিভাগীয় অন্য সমাবেশগুলো স্থগিত করার কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব দূর্গতদের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি জানান, দলের ত্রাণ কমিটিগুলো দূর্গতদের মধ্য ত্রান বিতরণের কাজ শুরু করেছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির চেয়েও জরুরী হয়ে গেছে এই সরকারের পতন। তাদের পতন হলেও দেশনেত্রীর মুক্তি হবে, গণতন্ত্রের মুক্তি হবে, মানুষের জীবন নিরাপদ হবে। ৭ বছর থেকে ৭০ বছরের নারী ও শিশুরা আজকে অপমাণিত হচ্ছে। এই অপমাণ জাতির জন্য কত লজ্জাস্কর।

খুলনা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, কবীর মুরাদ, মাহবুবউদ্দিন খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সোহরাবউদ্দিন, আজিজুল বারী হেলাল, আসাদুজ্জামান, শামীমুর রহমান শামীম, রকিবুল ইসলাম বকুল, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নেওয়াজ হালিমা আরলি, অমলেন্দু অপু, জয়ন্ত কুমার কুন্ড, আমিরুজ্জামান শিমুল, শ্রমিক দলে আনোয়ার হোসেইন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মৎস্যজীবী দলের একেএম ওয়াজেদ। খুলনার এসএম শফিকুল আলম মনা, গাজী আব্দুল হক, সাহারুজ্জামান মোত্তর্জা, তারিকুল ইসলাম, যশোরের বিলকিস ইসলাম, বাগেরহাটের এম এ সালাম, সাতক্ষীরার রহমতউল্লাহ পলাশ, নড়াইলের বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে মাসুদ অরুন, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মজিবুর রহমান, টিএস আইয়ুব, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শায়রুল কবির, ইয়াসীন আলী। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ্যাড. মাসুদ হোসেন রনি, সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক এ্যাড. গাজী আব্দুল বারী, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. নুরুল হাসান রুবা, মহিলা দল নগর সভাপতি রেহানা আকতার, জেলা সভাপতি এ্যাড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, যুবদল নগর সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, জেলা সভাপতি শামীম কবির, স্বেচ্ছাসেবক দল নগর সভাপতি একরামুল হক হেলাল, জেলা সভাপতি মোঃ তৈয়েবুর রহমান, শ্রমিক দল জেলা সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা, নগর সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান, ছাত্রদল নগর সভাপতি শরীফুল ইসলাম বাবু, জেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, কৃষক দল জেলা সভাপতি মোল্লা কবির হোসেন, জাসাসের নগর সভাপতি মেহেদী হাসান দীপু ও জেলা সভাপতি এ্যাড. কে এম শহিদুল আলম।

 

 



 

Show all comments
  • Mayen Uddin ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৪৮ এএম says : 0
    Right!!
    Total Reply(0) Reply
  • Nazir Shah ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫০ এএম says : 0
    মাশাআল্লাহ্ অনেক অনেক শুভেচ্ছা রহিল।
    Total Reply(0) Reply
  • মো ইউসুফ ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫১ এএম says : 0
    জনাব মির্জা ফখরুল সাহেব গুজব ছড়ানো বন্ধ করুন .... সাধারন মানুষকে বিব্রত করা বন্ধ করুন
    Total Reply(0) Reply
  • Latif Sarker ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫২ এএম says : 0
    একে অপরকে দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করা হোক
    Total Reply(0) Reply
  • এম.কে.আলমগীর খাঁন ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫৩ এএম says : 0
    নব্যশ্বৈরাচারের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ
    Total Reply(0) Reply
  • Atif Arefin ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫৩ এএম says : 0
    সঠিক নেতৃত্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার জন্য মানুষ অন্যায় মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Kazi Sohel ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫৩ এএম says : 0
    এই দেশে আমার মা দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া মানুষের দুঃখ কেউ বুঝবে না উনার মুক্তি চাই
    Total Reply(0) Reply
  • Salman Shah ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫৪ এএম says : 0
    চাপাবাজি না করে নেত্রীকে মুক্ত করেন আগে, নইলে দল গোল্লায় যাবে। তখন শুধু মুড়ি খেতে হবে নেতা।
    Total Reply(0) Reply
  • Farhad Aziz Kiron ২৬ জুলাই, ২০১৯, ৩:৫৫ এএম says : 0
    মানুষ টাকার লোভে বাজে কাজ করতে দ্বিধা করছে না...।কতটা নিচে নেমে গেছে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন