Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

কাঁচা মরিচে রেড অ্যালার্ট

ঢাকা-চট্টগ্রামের কাঁচাবাজার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০০ এএম

কাঁচা মরিচে যেন রেড অ্যালার্ট। আকাশচুম্বী দামে পুড়ছে ক্রেতার হাত। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ টাকা দরে। পাকা টমেটো ১৩০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা। বেগুন, শসা ঝিঙের কেজি একশ টাকার কাছাকাছি। পুরো বাজারজুড়ে বন্যার প্রভাব। রাজধানীর প্রায় সব বাজারে এমন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।
তবে বাড়তি দামের বাজারে তুলনাম‚লক কমে পাওয়া যাচ্ছে পেঁয়াজ। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজার সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কাঁচা মরিচ এখন আমদানি করতে হচ্ছে। যে কারণে কাঁচা মরিচের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মরিচের।
কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২০০-২২০ টাকা। খিলগাঁও তালতলা বাজারে পোয়া ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ হিসাবে বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৬০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্যার কারণে এবার মরিচের ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন বাজারে যে মরিচ পাওয়া যাচ্ছে এর বেশিরভাগই আমদানি করা। আমদানি করা এসব মরিচ থেকে দেশি মরিচের মান অনেক ভালো। কিন্তু বাজারে দেশি মরিচের ঘাটতি থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগেও ভালো মানের কাঁচা মরিচের পোয়া ২০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০ টাকায়। বন্যা বন্ধ হয়ে ভালো মানের দেশি মরিচ বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা খুব একটা নেই।
এদিকে মরিচের পাশাপাশি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো, গাজর, শসা, বেগুনসহ সব ধরনের সবজি। গত কয়েক সপ্তাহের মতো এখনো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো।
বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি। গাজার বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা এবং শসা ৬০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এ তিনটি পণ্য এমন দামে বিক্রি হচ্ছে।
বন্যার প্রভাবে সবজির মধ্যে সব থেকে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম। দুই সপ্তাহ আগে ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০-৮০ টাকা। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের মধ্যে বেগুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
বেগুনের দামের ব্যাপারে ব্যাবসায়ীদের দাবি মরিচের মত বেগুন খেতেও পানি জমলে নষ্ট হয়ে যায়। গত কয়েকদিনের বন্যা ও বৃষ্টিতে বেগুনের অনেক খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে বেগুনের দাম বেড়ে গেছে। বেগুন, শসা, টমেটো ও গাজরের মতো করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স, উসি ও ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা। কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। এ সবজিগুলো গত এক সপ্তাহ ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
অপরিবর্তিত থাকা সবজির মধ্যে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। আর বরবটির ৬০-৭০ টাকা কেজি, কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা পিস।
বন্যার প্রভাবে কাঁচা মরিচসহ সব ধরনের সবজির দাম বড়লেও প্রভাব পড়েনি পেঁয়াজের ওপর। কারওয়ান বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের পাল্লা গত সপ্তাহের মত বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৩২-৩৪ টাকা। আর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা।
পেঁয়াজের দামের বিষেয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্যায় পেঁয়াজের ক্ষতি হয়নি। কারণ এখন পেঁয়াজ চাষের মৌসুম না। বাজারে যে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে তা বেশ আগেই ওঠা। বন্যার কারণে এসব পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়েনি।
এদিকে গোশতের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির গত সপ্তাহের মতো ১৩৫-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর গোশত বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি।

 

 



 

Show all comments
  • Maruf ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১:৪০ এএম says : 0
    দক্ষিণের মেয়র সাহেব প্রতি বছর রমজানের আগে "দুস্থ" মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারদরের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে গরুর মাংসের দর ঠিক করে দেন। রমজান চলে গেলেও সে দর বা তার চেয়ে অনেক বেশি দরে মাংস বিক্রি হতে থাকে। এখন তেমনি "দুস্থ" মসলা ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের জন্যও কিছু একটা করুন!
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ জামান হোসেন জন ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১:৪১ এএম says : 0
    কুরবানী আসার অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে
    Total Reply(0) Reply
  • রুদ্র নাহিদ ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১:৪২ এএম says : 0
    কাঁচা মরিচে রেড অ্যালার্ট হলে শুকনা মরিচের দিকে ঝুকতে হবে, তাছাড়া আর কি করার আছে।
    Total Reply(0) Reply
  • আহমদ হাবিবী ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১:৪৩ এএম says : 0
    সরকারের উচিত ঈদকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের নাগাম টেনে ধরা।
    Total Reply(0) Reply
  • আহমদ হাবিবী ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১:৪৪ এএম says : 0
    যে হারে দাম বেড়েছে সাধারণ মানুষের কাঁচা মরিচ আর খাওয়া লাগবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • রাসেল ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫৫ এএম says : 0
    শুরু হয়ে গেলো .... সমানে তো কুরবানি আছেই।
    Total Reply(0) Reply
  • তানিয়া ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫৬ এএম says : 0
    আমাদের দেশের ব্যবসায়িরা যে কবে মানুষ হবে?
    Total Reply(0) Reply
  • Nazrul Islam ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫১ এএম says : 0
    amader sorker o prosason ki kore ?
    Total Reply(0) Reply
  • হারুন ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫৩ এএম says : 0
    যথাযথভাবে বাজার তদারকি করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • জহির ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫৩ এএম says : 0
    আমাদেরকে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ