Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ঢামেক হাসপাতাল মশার আখড়া!

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:৫৯ পিএম

‘আলোর নিচে অন্ধকার’ নয়। এ যেন আলোর ভেতরেই অন্ধকার। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অথচ সেই ঢামেক হাসপাতাল মশা প্রজ্বনন আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের দশ তলা থেকে নিচ তলা পর্যন্ত ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। ভবনের আশপাশে জমে থাকা ময়লা-নোংরা পানি পরিষ্কার করার বিষয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।

ঢামেকে গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের সাত তলায় বারান্দার পাশে জমে আছে পানি। তার পাশেই শুয়ে আছেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত কয়েকজন রোগী। এদের একজন ২১ বছর বয়সী সুমন আহমেদ। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের পর গত ২৬ জুলাই শুক্রবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। ওয়ার্ডে বিছানা না পাওয়ায় তার আশ্রয় হয়েছে সাততলার বারান্দায়। সুমনের গার্জেন আব্দুল মাজেদ বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শুক্রবার সুমনের লিখিত পরীক্ষা ছিল। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে যাওয়ায় সে পরীক্ষা দিতে পারেনি। হাসপাতালে অনেক রোগী থাকায় আমরা কোনো বেড পাইনি। অধিক রোগী আমাদের বেডের সামনে ছাদের ফাঁকা জায়গায় অনেক ময়লা ও পানি জমে আছে। আমরা এখন আতঙ্কে আছি। ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন নবম শ্রেণীর তরাগ। তরাগের বাবা জানান, ৪শ’ টাকা ঘুষ দিয়ে বেড পেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের ওয়ার্ডেই মশার যন্ত্রণায় রোগীদের অস্থির থাকতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের কয়েকজন ওয়ার্ড বয়ও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বাদ যাননি হাসপাতালের সেবিকারাও। ঢামেকের আশপাশে আবর্জনা মশার জন্ম নেয়ায় তারাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন বলে জানান।

দৃষ্টি দিতেই চোখে পড়লো হাসপাতালের নিচতলা থেকে শুরু করে সামনে-পেছনে সব জায়গায় ময়লার ভাগাড়। ঠিক কবে ময়লাগুলো পরিষ্কার করা হয়েছিল তার ঠিক নেই। হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, এই ময়লা অনেকদিনের। কখনও পরিষ্কার করতে দেখিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও কখনো ময়লায় হাত দিয়েছেন বলে জানা নেই। ফলে মশার যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ট।

ঢামেকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নেয়া রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে নিয়োগ পাওয়া চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কাজ হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা। কিন্তু তারা একটা কাজেও হাত দেয় না। তারা স্পেশাল ওয়ার্ড বয় হিসেবে কাজ করেন। রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। রোগী এলেই তাদের কাছে বেড বিক্রী করেন। টাকা ছাড়া ঢামেকে রোগীদের বেড পাওয়া কঠিন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের সহকারী ইনচার্জ আব্দুল খান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ক্যাম্পে প্রতিদিন অনেক পানি, ময়লা জমে। ৫/ ৭ দিন বলার পরে সে ময়লা নিয়ে যায়। হাসপাতালর অবস্থা তো আরও বেশি খারাপ। আরেকজন রোগীর আত্মীয় বলেন, হাসপাতাল নিজেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত। এখানে রোগীরা চিকিৎসা নেবে কি ভাবে?

কথা হয় মশিউর রহমান নামে এক যুবকের সঙ্গে। তার বাড়ি চাঁদপুরে। গত জুন মাসের তার মা মরিয়ম আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার খাদ্যনালীতে টিউমার ছিল। মায়ের সঙ্গে হাসপাতালেই ছিলেন মশিউর। হাসপাতালে থাকতেই গত ২১ জুলাই জ্বর আসে। জ্বর নিয়ে সেদিনই তার এক আত্মীয়ের বাসায় যায়। সেখান থেকে ২৩ জুলাই রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পরে। মশিউর বলেন, হাসপাতাল থেকেই তাকে এডিস মশা কামড়ায়।

ঢামেক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় প্যাথলজি বিভাগ। সেখানে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন রোগের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশেই ব্লাড ব্যাংক। সেখানে গিয়ে দেখা যায় বারান্দায় কয়েকটি এয়ার কন্ডিশনার বসানো। সেখান থেকে অনবরত পানি পরছে। যত্রতত্র ময়লা। হাসপাতালের নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রিয়াজ বলেন, ময়লা পরিষ্কার করার দিনক্ষণ নেই। ময়লা হলেই পরিষ্কার করা হবে। কিন্তু লোকবল কম থাকায় অনেক সময় ময়লা পরিষ্কার করা হয় না। তবে দুই একদিনের মধ্যেই ময়লা পরিষ্কার করা হবে।

হাসপাতালের পুরনো ভবনেও একই চিত্র চোখে পড়ে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডের বারান্দায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ময়লার ড্রাম পড়ে আছে। তার মধ্যে পানিও জমে আছে। দেখে মনে হয় অনেক দিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না। পাশেই লতাপাতা ঘাসের অভাব নেই। তৃতীয় তলায় কেবিনে গিয়ে দেখা যায় আরো ভয়াবহ দৃশ্য। সেখানে ময়লার ড্রাম, ভাঙা বেডসহ অসংখ্য সিরিঞ্জ পড়ে আছে। ভাঙ্গা বেডগুলোতে পানি জমে আছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. বিদ্যুৎকান্তি পাল সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর রোগী ভর্তি হয়। রোগীর স্বজনরা যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। ময়লা বা পানি পরিষ্কার করার কোনো দিনক্ষণ নেই। পানি কিংবা যে ধরনের ময়লা জমুক না কেন যখনই জমবে তখনই পরিষ্কার করা উচিৎ। অনেক সময় পরিষ্কার করা হলেও একদিন যেতে না যেতেই আবার ময়লা জমে যায়।



 

Show all comments
  • Md. Rocky Islam ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩২ এএম says : 0
    যে ব্যবস্হা কর্যকরি, সেই ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এবং সর্বোপরি আল্লাহর কাছে সবাই প্রার্থনা করছি,আল্লাহ আমাদের দেশ থেকে বিপর্যয় গুলো তুলে দিন।শান্তি-সম্বৃদ্ধি দান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • Sohal Hossain ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
    ডেঙ্গু দমনে কমান্ডো অভিযান দরকার।
    Total Reply(0) Reply
  • NusRat Nupur ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
    সরকার সঠিক ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে । সিটি কর্পোরেশনে যা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার বেশি অংশ বোয়াল মাছেরা খেয়ে ফেলছে
    Total Reply(0) Reply
  • Miskat Hossain ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
    ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর প্রভাব কি শুধু ঢাকাতেই হয় নাকি বাংলাদেশের অন্য কোথাও এটি দেখা যায়। কেও জানলে জানাবেন। অগ্রিম ধন্যবাদ।
    Total Reply(0) Reply
  • Maruf Mehedi Hassan ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
    আমার মনে হয় ঢাকা শহরের আশেপাশের ছোট খাল নদী এগুলা স্রোতধারা বজায় রাখতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পানি চলাচল ব্যবস্থা করতে হবে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক হলে মশার উৎপত্তি ও কম হবে‌। মশা সব সময় বদ্ধ পানিতে ডিম পাড়ে। দুর্নীতিবাজদের সিদ্ধান্ত না নেওয়াটাই ভালো কারণ তারা নিজের পকেট যেভাবে ভারী হয় সেই পদ্ধতির ব্যবস্থা নিতে বলবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Rashed Mia ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
    পরিচ্ছন্নাতা কর্মী নিয়োগ দিন বেশি করে সব পালাবে । রাস্তা ভরা ড্রেন ভরা ময়লা রাখলেতো মশা হবেই ।
    Total Reply(0) Reply
  • মোহাম্মদ ইকবাল ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
    সামান্য মশার মোকাবিলা করার শক্তি কারও নাই,ক্ষমতা দেখিয়ে কি করবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Habibur Rahman ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
    আমি আগেও লিখে ছিলাম এখনো বলছি আসুন ঘাষ ফড়িং কে এডিস মশার বিপরিতে কাজে লাগাই,ঘাষ ফড়িং মশা খেয়ে বেচে থাকো,যখন জাকে জাকে ফড়িং আকাসে উড়বে আর মশা দরে দরে খাবে তখন ই ডেংগুর মাতরা কমে আসবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Nasir Tushar ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
    Right. এ যেন আলোর ভেতরেই অন্ধকার।
    Total Reply(0) Reply
  • ash ২৮ জুলাই, ২০১৯, ৫:৩০ এএম says : 0
    WORLD ER SHOB DESH E JALNA Y MOSHAR NET LAGANO THAKE, R DORJAY SECURITY DOOR E MOSHAR NET LAGANO THAKE, DORJA KHULLE OTOMATIC DORJA BONDHO HOE JAY, SHETA BASHA BARI KINGBA OFFICE HOSPITAL HOK NA KENO, KARON SHOB DESH E MOSHA ASE, SHODHAR PORE BAIRE DARALEI MOSHA KAMRAY. KINTU BUJI NA BANGLADESH E KENO DORJA, JALNAY MOSHAR NET LAGANO HOY NA? ETA LAGATE TO TEMON KHOROCH PORE NA ! TASARA DENGGUTE MORAR CHAITE AKTU KOROCH KORE MOSHAR NET JALNA DORJAY LAGANO WICHITH
    Total Reply(0) Reply
  • Mizanur Rahman ২৮ জুলাই, ২০১৯, ১০:২৮ এএম says : 0
    Regarding Dhaka medical cleaning, I would like to request all the doctors to DMC to visit Qatar, Saudi Arabia's hospitals cleanness. How they kept clean and tidy? Toilets looks shining, you can sleep there, Every moment they doing clean . Its required to all the doctors and staffs mind clean. Cleanliness is the part of Iman.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢামেক হাসপাতাল
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ