Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

৬ দফা দাবিতে নওগাঁয় হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩১ জুলাই, ২০১৯, ৫:০০ পিএম

সীমাহীন অপপ্রচার, হত্যার হুমকি, হামলার উস্কানি ও ফতোয়া দিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে নওগাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে বুধবার বেলা ১১টায় এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময়ে হেযবুত তওহীদের নওগাঁ জেলার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্য বলেন, ‘১৯৯৫সালে করটিয়ার দাউদ মহলে হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা থেকেই এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে সেই শ্রেণিটি যারা ইসলামকে তাদের রুটি-রুজির মাধ্যম বানিয়েছে এবং যারা অপরাজনীতিতে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে এপর্যন্ত বিভিন্ন জাতিবিনাশী কর্মকা- ঘটিয়েছে। এশ্রেণিটি জনগণের কাছে হাজারো বিভ্রান্তিমূলক অসত্য তথ্য, গুজব, বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করে হেযবুত তওহীদের মতো মহান একটি আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করে এসেছে। শুধু তাই নয়, ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়েছে, হত্যাকরতে প্ররোচনা দিয়েছে। এ পর্যন্ত তারা আমাদের চারজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্রদিয়ে হত্যাকরেছে। বহুজনকে আহতকরেছে, বহুবাড়িঘর ভস্মীভূত করেছে, লুটপাট ভাঙচুর চালিয়েছে, বহু সদস্যকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। সম্প্রতি এই শ্রেণিটি আরও ব্যাপক পরিসরে দেশজুড়ে সীমাহীন অপপ্রচার, হত্যার হুমকি, হামলার উস্কানি ও ফতোয়া দিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে গভীরভাবে লিপ্ত হয়েছে।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষিতে কয়েকটি জেলায় আমরা মামলা দায়ের করেছি। কিš‘ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ আইন সবার জন্যই সমান। আলেম-ওলামা হলেই কেউ আইনের উর্ধ্বে উঠে যায়না। আমাদের দাবি, আইসিটি আইন লঙ্ঘনকারী, ওয়াজে অপপ্রচারকারী ও হুমকিদানকারী যেকোন ব্যক্তিকে এবং ইতঃপূর্বে দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিনি এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ৬দফা দাবীতে বলেন, ‘গ্রামেগঞ্জে, শহরে-বন্দরে ওয়াজ মাহফিল করে, খোতবায় আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী হুমকি প্রদানকারী ফতোয়াবাজ বক্তাদেরকে গেস্খফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদেরকে যারা জীবননাশসহ ক্ষয়ক্ষতিসাধনের হুমকি দিছে তাদেরকে গেস্খফতার করে দ্রুত আইসিটি আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে ধর্মব্যবসা, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি, মাদক ইত্যাদির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী হেযবুত তওহীদের প্রচারকার্যে কোনো ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা অন্য কোনো ষড়যন্ত্রকারী যেন বাধা প্রদান করতে না পারে সে ব্যাপারে

প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে’। তিনি বলেন, ‘যেভাবে আমাকে এবং আমাদের সদস্য-সদস্যাদেরকে প্রাণনাশের, এমনকি আত্মঘাতী হামলার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাতে আমরা আশঙ্কা করছি আমরা যে কোনো জায়গায়, যে কোনো সময়ে আক্রান্ত হতে পারি। এমতাবস্থায় আমার ও আমার সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানা”িছ। ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত এশটি সমাজ বিনির্মাণে আমরা নিঃস্বার্থভাবে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধিহীন যে আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি তার গুরুত্ব অনুধাবন করে আমাদের বক্তব্য গণমাধ্যমকর্মীগণ জনগণের সামনে যেন তুলেধরেন এ ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা কামনা করছি। অবিলম্বে সকল ওয়াজ মাহফিলে, মসজিদের খোতবায়, ধর্মীয় সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও উস্কানি বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কে নির্দেশ প্রদান করতে হবে’। এ সময়ে হেযবুত তওহীদের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তাদুর রহমান, নারী বিষয়ক সম্পাদক সোমাইয়া আক্তার, সদর উপজেলার সভাপতি জয়নাল আবেদিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যাযের নেতৃবৃন্দ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংবাদ সম্মেলন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ