Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সমাধানে বাধা ইসরাইল : ফিলিস্তিন

শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান : জর্ডান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মো. ইস্তায়াহ বলেছেন, ইসরাইলের একগুঁয়েমির কারণে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান আর আলোর মুখ দেখেনি। সমস্যা সমাধানে বাধা ইসরাইল। তিনি বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনিরা এখন কঠিন সময় পার করছে। এ জন্য ইহুদিবাদী দেশ ইসরাইলই একমাত্র দায়ী। খবর আনাদোলুর। ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসরাইলের আগ্রাসনের নিন্দা না করে বরং আরও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চরম অন্যায় ও অবিচার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে একের পর এক অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ে তুলছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন-কানুন কিছুই তোয়াক্কা করছে না ইসরাইল। অপরদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক (ফিলিস্তিন-ইসরাইল) সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জর্ডান। বুধবার রাজধানী আম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে কথা বলেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। জর্ডানের রয়েল কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জামাতার সঙ্গে আলাপকালে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত নিরসনে নানা উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। বৈঠকে জর্ডানের বাদশা জোর দিয়ে বলেছেন, অবশ্যই পূর্ব জেরুজালেম হবে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। চার আরব দেশ ও ইসরাইল সফরের অংশ হিসেবে জর্ডানে এ সফরে আসেন ট্রাম্পের ইহুদি ধর্মবলম্বী জামাতা জ্যারেড কুশনার। সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ সফরে তার সউদী আরব, মিসর, মরক্কো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও যাওয়ার কথা রয়েছে। জ্যারেড কুশনার এমন সময়ে জর্ডান সফরে গেলেন যখন দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মিত্র হিসেবে পরিচিত সউদী বলয় থেকে বেরিয়ে তুর্কি-কাতার বলয়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশটি। স¤প্রতি আম্মান সফর করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হাইপ্রোফাইল এ সফরে তুর্কি প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, গোয়েন্দা প্রধান ও সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ। জর্ডানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন তারা। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে কথা বলেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। এর কিছুদিন আগেই তুরস্কের মিত্র কাতারের সঙ্গে ফের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে জর্ডান। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বরাবরই ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। কাতারও বরাবরই ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। পবিত্র আল আকসা মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর জন্যও ফিলিস্তিন ইস্যুটি তাৎপর্যপূর্ণ। বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর আশঙ্কা, ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পবিত্র এ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে তার আর দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকবে না। ফলে ট্রাম্পের ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি নামে কথিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হতে পারছে না দেশটি। আনাদোলু।



 

Show all comments
  • ajrail ৩ আগস্ট, ২০১৯, ৫:৫৬ পিএম says : 0
    আমি ,jardan এর বাদশা দ্বিতীয় Abdullah ,সউদীর বাদশা মোহাম্মদ বিন সালমান ,তুরস্ক এর প্রেসিডেন্ট হাফেজ এরদোগান এবং সকল আরব-আমীরতের প্রধানমন্ত্রী দেরকে এক হয়ে ফিলিস্তন কে ইসরাইল থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার জন্য একযোগে কাজ করার ও সামনে অগ্রসর হওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি
    Total Reply(0) Reply
  • ajrail ৩ আগস্ট, ২০১৯, ৬:১৭ পিএম says : 0
    অবশ্যই ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে আল্লাহ্‌ তায়ার সাহায্য রয়েছে এবং আরবদের সাথে রসুল (স) দোয়া রয়েছে সুতরাং আপনারা আরব-আমীরতের প্রধান মন্ত্রীরা ,সামনে এগিয়ে যান আল্লাহ্‌ তায়ালার নুসরত আপনাদের সাথে রয়েছে আপনারা মুসলমানদের শত্রুদের প্রতিহত করুন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফিলিস্তিন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ