Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বিশেষ হক

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম

পবিত্র কোরআন রক্ত ও বংশ সম্পর্কের মতো ঈমান ও ইসলামকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে এবং এ সম্পর্কের দিক দিয়ে প্রত্যেক মুসলমানকে অন্য মুসলমানের ভাই বলে উল্লেখ করেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সমস্ত মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই।’ (সূরা হুজুরাত : আয়াত ১০)।

অতঃপর এই আধ্যাত্মিক ও ঈমানী সম্পর্কের দরুন প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমান ভাইয়ের কিছু বিশেষ হক আরোপিত হয়। যেমন, তাদের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও দয়া, তাদের পারস্পরিক আচার-আচরণে বিন¤্রতা ও বিনয়, পারস্পরিক কল্যাণকামিতা, সেবার মানসিকতা ও দয়ার্দ্রতা। যেমন এক জায়গায় ঈমানদারদের মহিমা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘তারা পারস্পরিক সদয় মমতার আচরণ করে থাকে। (সূরা ফাতহ : আয়াত ২৯)।

অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘তারা ঈমানী ভাইদের সামনে বিনয়ী ও বিনম্র হয়ে থাকে।’ (সূরা মায়েদাহ : আয়াত ৫৪)। তা ছাড়া যেসব বিষয় সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং অন্তরে পঙ্কিলতা সৃষ্টি করতে পারে, কোরআন সেগুলোকে মুসলমানদের জন্য কঠোরভাবে বারণ করেছে। যেমন, কারো সাথে হাসি-মশকারা করা, কারো প্রতি উপহাস করা, তামাশা করা এবং কারো প্রতি দোষারোপ করা। কাউকে কোনো মন্দ নামে স্মরণ করা। কারো পেছনে নিন্দা করা। কারো দোষ খোঁজা কিংবা শুধু অনুমান বা ধারণার ভিত্তিতে তেমনিভাবে বিনা যাচাইয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দাঁড় করানো প্রভৃতি এমনি বিষয়, যে ব্যাপারে মানুষ তেমন সতর্কতা অবলম্বন করে না।

কিন্তু যেহেতু এসব বিষয়ে মানুষের অন্তরে কষ্ট ও দুঃখ সৃষ্টি হয় এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটে, তাই কোরআন মাজীদে সুস্পষ্ট ভাষায় তাগিদের সাথে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো মুসলমান তার অন্য কোনো মুসলমান ভাইয়ের সাথে কস্মিনকালেও এ ধরনের আচরণ না করে এবং এ ব্যাপারে যেন পুরোপুরি সতর্কতা অবলম্বন করে।
বলা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ, না পুরুষদের জন্য জায়েজ যে, সে অপর পুরুষদের উপহাস করবে। এমনটি আশ্চর্য নয় যে, (যেসব লোকের প্রতি উপহাস করা হয়, আল্লাহর নিকট) তারা উপহাসকারীদের চাইতে উত্তম হয়ে থাকবে। আর এমনিভাবে কোনো মহিলা অপর মহিলাদের প্রতি উপহাস করবে না। এমনটি আশ্চর্য নয় যে, সেসব উপহাসকারিণী মহিলাদের চাইতে তারাই উত্তম হয়ে থাকবে। আর তোমরা পারস্পরিক একে অপরকে খোঁটা দেবে না। আর মন্দ নামেও ডাকবে না।

ঈমান আনার পর গুনাহর নাম লাগাই দোষণীয়। আর যারা (এই সতর্কতার পরও এসব আচরণ থেকে) বিরত হবে না, তারা অতি বড় ধরনের জালেম। হে ঈমানদারগণ, নানাবিধ ধারণা থেকে বেঁচে থেকো। কারণ, কোনো কোনো ধারণা পুরোপুরি পাপ। আর কেউ কারো ছিদ্রান্বেষণ করবে না (তার দুর্বলতা ও ত্রæটি খুঁজে বেড়াবে না) এবং কেউ কারো গিবত (অগোচরে দোষ চর্চা) করবে না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ এ কথা পছন্দ করবে যে, নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? অবশ্যই তোমরা একে ঘৃণা করো। অতএব, আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অনেক ক্ষমাশীল, অত্যন্ত করুণাময়। (সূরা হুজরাত : আয়াত ১১-১২)।

মুসলমানদের পারস্পরিক অধিকার সম্পর্কে কোরআন মাজীদ একটি পথ-নির্দেশনা এ-ও দিয়েছে যে, প্রত্যেক মুসলমান তার ভালো দোয়ায় সমস্ত মুসলমান ভাইদেরও শরিক করবে। কোরআনের শেখানো অধিকাংশ দোয়ায় বহুবচন ব্যবহারের এটাও একটা তাৎপর্য। কোরআন মাজীদে এমন বহু দোয়া রয়েছে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে আমার পরওয়ারদেগার, আমাদেরকে দান করো দুনিয়াতে কল্যাণ এবং আখেরাতের কল্যাণ। আর আমাদেরকে রক্ষা করো আগুনের আজাব থেকে।’ (সূরা বাকারাহ : আয়াত ২০১)।



 

Show all comments
  • Md. Mofazzal Hossain ২ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩১ এএম says : 0
    ঐক্য ও সংহতি মুসলিম জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আল্লাহতায়ালা ও শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ঈমানের অনিবার্য দাবি হচ্ছে- ঐক্যবদ্ধ জীবনযাপন।
    Total Reply(0) Reply
  • M N Ahmed ২ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩১ এএম says : 0
    তাওহিদের পরে মুমিনদেরকে যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে তা হলো- ঐক্য।
    Total Reply(0) Reply
  • Kamal Hossain Khan ২ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩২ এএম says : 0
    মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমারা আল্লাহর রজ্জুকে (ইসলাম) আঁকড়ে ধর (ঐক্যবদ্ধ হও) এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ -সূরা আল ইমরান: ১০৩
    Total Reply(0) Reply
  • Mir Irfan Hossain ২ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩২ এএম says : 0
    মুমিনদের ব্যাপারে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন তারা স্বীকার করে না এবং কোনো অঙ্গীকারের মর্যাদাও রক্ষা করে না। এরাই সীমা লঙ্ঘনকারী।
    Total Reply(0) Reply
  • Najim Uddin ২ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩২ এএম says : 0
    ঐক্য সর্ম্পকে রাব্বুল আলামিন কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘তোমরা সেসব লোকদের মতো হয়ো না, যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ -সূরা আল ইমরান: ১০৫
    Total Reply(0) Reply
  • Ali Akbar ২ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩৩ এএম says : 0
    ঐক্য প্রসঙ্গে ইসলামের এমন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মুসলিম মিল্লাত আজ শতধাবিভক্ত। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, মুসলমানরা বিষয়টি হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ