Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

বরিশালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

বরিশঅল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০১৯, ৮:৫৭ পিএম

বরিশালে প্রথমবারের মত এডিস মশার অস্তিত্ব মিলেছে। এতদিন ঢাকা থেকে এডিস মশার দংশনে আক্রান্ত হয়ে বরিশালে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একাধীক ডেংগু রোগী । কিন্তু এখন আর ঢাকা ফেরত নয়, বরিশালে থাকা অবস্থায়ই মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এ রোগে। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা লঞ্চ ও বাস করে ডেঙ্গু মশা বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে বরিশালে আসার রোগীর সাথে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় মানুষজনও। দক্ষিণাঞ্চলে ডেংগুর সবচেয়ে বেশী প্রকট দেখা গেছে বরিশালের মুলাদী উপজেলায়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞগন ঢাকা থেকে বরিশালসহ সারা দেশে চলাচলকারী সব যানবাহনে কোন মশা না থাকতে পারে সে দিকে লক্ষ্য রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। বরিশাল মেডিকেল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এপর্যন্ত প্রায় ৭৫জন রোগী ডেংগু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। এর বাইরে গৌরনদীতেও এক মহিলার মৃত্যূ হয়েছে। এরা সবাই ঢাকা থেকে আগত। 

অপরদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব ইসরাইল হোসেন জ্বর ও পাতলা পায়খানা নিয়ে ডেংগু সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হলেও ৪টি ল্যাবে পরিক্ষা করেও তার শরিরে এ রোগের কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলে শুক্রবার সন্ধায় তিনি জানিয়েছেন।

তবে সরকারী বরিশাল কলেজের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র জহিরল ইসলাম ও কৃষক লোকমান হোসেন শিঘ্র ঢাকায় না গেলও ডেংগু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বরিশাল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডÑ১ এর সংস্কার কাজ চলছে। যার কারণে মেডিসিন বিভাগ-২ এর সাথে এক নম্বর ওয়ার্ডকে যুক্ত করে ডেংগু রোগীদের চিকিৎসা চলছে। নারী পুরুষ এক সাথে ওয়ার্ড ছাড়িয়ে বারান্দা হয়ে সিড়ির করিডোরের মেঝেতে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের রেজিষ্টার ডা: এইচ এম মাসুম বিল্লাহ জানান, ‘প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সবাই ডেঙ্গু সন্দেহ করে আসলেও সবাই কিন্তু এ রোগী নয়। অনেকে জ্বর হলেই মনে করেন তার ডেঙ্গু হয়েছে। পরে পরীক্ষা করে তাদের সেবা দিতে হয়। তবে লোকবলের অভাবে আমরা নানা সমস্যায় পড়ছি। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকট রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মেডিসিন বিভাগ ১, ২, ৩ ও ৪ এ বেড সংকট রয়েছে। বেড কম থাকায় রোগীদের ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন ‘ডেঙ্গু রোগীদের চাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে’ বলে জানিয়ে বলেন, ‘আগে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু রোগীরা আসতো। এখন বরিশালে বসেও কয়েকজন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই লঞ্চ ও বাসে মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগ করে আসা ভাল। না হলে বরিশালের মত সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি এডিস মশাও ছড়িয়ে পড়বে’ বলে জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডেঙ্গু


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ