Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

নামাজের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবহারিক উপকারিতা

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
১২। সহমর্মিতা ও সমবেদনা : উপরোল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলী ছাড়াও নামাজের মাধ্যমে মুসলমানদের মাঝে পরস্পর সহমর্মিতা এবং হাম-দরদির ভাব বিকশিত হয়ে উঠে। যখন আমীর ও গরীব সকল শ্রেণীর মানুষ একই স্থানে সমবেত হয় এবং বিত্তবান শাসক শ্রেণী নিজ নিজ চোখে দরিদ্র জনগণের অবস্থা অবলোকন করে তাহলে দান ও বদান্যতার উদগ্র বাসনা তাদের মনের মাঝে উদ্বেল হয়ে উটে এবং একে অন্যের সাথে দেখা-সাক্ষাতের ফলে দু:খ এবং মছিবতের খবর অতি সহজেই জানতে পারে এবং একই সাথে এ সকল অসুবিধার প্রতিবিধান করার সুযোগও অতি সহজে লাভ করা যায়।

ইসলামের প্রারম্ভে আসহাবে সুফফা নামক একটি বিশেষ শ্রেণী ছিল যারা সাহায্য ও সহানুভুতি লাভের অধিক উপযুক্ত ছিল এবং তারা সব সময় মসজিদে নবুবীতেই অবস্থান করত। সাহাবায়ে কেরাম নামাজ আদায়ের জন্য যখন মসজিদে গমন করতেন, তখন আসহাবে সুফফার দৈন্যদশা অবলোকন করে নিজেদের মাঝে সহমর্মিতা ও সহানুভূতির ভাব অনুভব করতেন। এরই ফলশ্রæতিতে ¯েœহপ্রবণ সাহাবীগণ অধিকাংশ সময় পাকা খেজুরগুচ্ছ সাথে করে মসজিদে গমন করতেন এবং তা টাঙ্গিয়ে দিতেন। এমনি করেই আসহাবে সুফফার সাহাবীগণ নিজেদের প্রয়োজনীয় জীবন ধারণের সহজ অবলম্বন লাভ করতেন। অধিকাংশ সাহাবা এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা:) নামাজ হতে ফারেগ হয়ে এ সকল লোকদেরকে সহানুভূতিপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেন এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে নানারকম আদর-আপ্যায়নের মাধ্যমে সদয় ব্যবহার প্রদর্শন করতেন। যার ফলশ্রæতিতে অদ্যাবধি প্রতিটি মসজিদের দান-খয়রাত এবং উপহার-উপটোকনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত আছে। আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাব যে, এখনও মসজিদসমূহ খয়রাত ও সাদাকাতের কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে বরিত আছে এবং এর যথার্থ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কোরআনুল কারীমে নামাজ “এবং তারা নামাজ কায়েম করে এবং আমার প্রদত্ত রিযেকে হতে আমারই পথে ব্যয় করে।” (সূরা বাকারাহ : রুকু-১)

১৩। একতা ও ঐক্যবদ্ধতা : একতা ও সমষ্টিগত অবস্থার অবতারণা ইসলামের একটি সহজাত স্বভাব। একতার অবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন পর্ব-উপলক্ষে সমবেত হয়ে থাকে। যে সকল জনসমাজে ধর্মীয় বিধি-বিধানের বাধ্য-বাধ্যকতা নেই, তাদের মাঝেও সমবেত হওয়ার প্রবণতা ক্লাবে, কনফারেন্সে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিভিন্ন জলসা ও প্রদর্শনীতে দেখা যায়। কিন্তু এ সকল সমাবেশে যেসব উপকারীতা লক্ষ্য করা যায়, তারা পাশা-পাশি সেখানে ক্ষতিকর প্রভাব-প্রতিক্রিয়াও ডানা বিস্তার করে থাকে। এই একতার দ্বারা বহুকাজ সাধিত হয়। যদি এর দ্বারা উপকারী ও উপাদেয় কর্মকাÐ লক্ষ্যমাত্রা না হয়, তাহলে এর মাধ্যমে রং তামাসা, নাচ-গান, শরাবখোরী, জুয়া-বাজী, চুরি, বদনজর ও বদকারী, হিংসা-বিদ্বেষ, এমন কি হত্যা ও নিধন পর্যন্ত সংঘটিত হয়। এমনিভাবে মেলা, পার্বন, ওরস, হোলী, তেহার ইত্যাদির উদাহরণ আরবের অংশীবাদীদের মাঝেও লক্ষ্য করা যায়। এমনকি এখনো তা বহাল তবীয়তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রযেছে। কবর ও সমাধিতে নাজায়েজভাবে সমবেত হওয়া। মোটকথা নিকৃষ্ট বিদআত প্রসূত গোনাহসমূহও অশান্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় এ সকল ভীতিপ্রদ আচার-আচরণ যদি করতে হয় এবং এগুলোর স্থলে ইসলাম কোনই মঙ্গলকর অনুষ্ঠান উপস্থাপনা না করে, তাহলে এ সকল ক্ষতিকর প্রবণতা কোন মতেই উৎখাৎ করা যাবে না। এরজন্য প্রয়োজন হবে নিজেদের ধর্মবিশ্বাসের আওতায় এমন কোন সমবেত বা সমন্বিত অনুষ্ঠানের বিস্তার ঘটানো যার মাধ্যমে মানুষ সহজাত প্রবৃত্তির আত্মিক পিপাসাকে নিবৃত্ত করতে পারে এবং একতা ও সংহতির সুদৃঢ় বন্ধন স্থাপন করে অন্যায়ের স্থলে ন্যায় ও মঙ্গল প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করতে পারে। এ সকল কারণেই ইসলাম দৈনন্দিন জমাআতের সাথে সকল নামাজ আদায় করা এবং সপ্তাহে একদিন জুমআর নামাজ আদায় করা এবং বছরে দু’দিন ঈদের নামাজ জমাআতের সাথে আদায় করার বিধান রেখেছে। এতে করে একতা ও সংহতির মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় এবং অংশীবাদী অমঙ্গলকর আচার-আচরণ ও নৈতিক অবক্ষয়ের হাত হতে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। ইসলাম এ কারণে এই একতা ও সংহতির বুনিয়াদসুলভ আহŸানের ভিত্তি প্রস্তর মঙ্গলের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। হজ্জের বিশ্বজনীন ধর্মীয় সংহতির মাঝে আনুষঙ্গিক একাত ও কৃষ্টি এবং সভ্যতার উদ্দেশ্যসমূহ বলবৎ রাখার সাথে সাথে এর যাবতীয় কর্মকাÐে আল্লাহ পাকের জিকির এবং তাঁর পবিত্র দরবারে তওবা ও আনুগত্য প্রকাশকে অপরিহার্য করেছে। অনুরূপভাবে ইসলামের প্রতিটি ঐক্যবদ্ধ কর্মকাÐের মাঝে পবিত্রতার ধারণা ও এখলাস এবং পূর্ণ আন্তরিকতাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।

১৪। বিভিন্ন কর্মকাÐের প্রকারভেদ : মানুষের সহজাত স্বভাবকে এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, তার একই রং সমপর্যায়ভুক্ত হওয়া সত্তে¡ও নতুন নতুন আবিষ্কার ও অন্বেষার প্রতি উদগ্রীব থাকে। কিন্তু যদি মানুষের মন ও মানসিকতা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অঙ্গ-সৌষ্ঠব সব সময় এই একই কাজে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে শান্তি ও নিরাপত্তা, আনন্দ ও উৎসাহ এবং প্রাণস্পর্শিতার আস্বাদ যা প্রতিটি কাজের শেষফল বলে বিবেচিত হয়ে থাকে একমাত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এমতাবস্থায় উত্তম হতে উত্তমতর কাজ-কর্ম ও আচার-আচরণের দ্বারা পৃথিবীর মানুষ অসহ্য চীৎকারে অতীষ্ঠ হয়ে উঠবে। এজন্য পরম কৌশলী আল্লাহ পাক সময়ানুবর্তিতার এমন উপাদেয় পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন যার মাঝে সকল মানুষ কর্মোদ্দীপনা ও শান্তি উভয় অবস্থাকে একই সাথে পাশাপাশি সমভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এ সকল কারণেই রাত এবং দিনের বিভিন্নতাকে আল্লাহ পাকের নির্দেশাবলীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের ফলে বিশ্ব জগতের নিয়ম-শৃঙ্খলার মাঝে যতটা বিছিন্নভাবে সৃষ্টি হয় এবং এই শ্রেণী বিন্যাসের দ্বারা মানুষের মাঝে নিজেদের প্রতিটি কাজের আস্বাদ স্থিতিশীল ও বহাল থাকে। সুতরাং নামাজ এমন একটি অপরিহার্য কর্ম যা শুধু কেবল একটি মুহূর্তের জন্য নয়, বরং সকল মুহূর্তেই মানুষের উপর ফরজ। এমন কি বছরে একবার অথবা জীবনে একবার এই ফরজ সক্রিয় থাকে না, বরং প্রত্যহ পাঁচবার এই ফরজকে অবশ্যই আদায় করতে হয়। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সকাল হতে যে কর্মপ্রবাহ শুরু হয় তা যোহরের সময়ে উপনীত হয়ে বিরতি লাভ করে। তারপর পুনরায় কর্মব্যস্ততা শুরু হয় এবং তা আসর পর্যন্ত অব্যাহত গতিতে চলতে থাকে। তারপর যে কর্মপ্রবাহ জারী হয় তা মাগরিবের পদপ্রান্তে এসে পরিসমাপ্তি লাভ করে। এরপর শুরু হয় পারিবারিক কর্মকাÐের এন্তেজামের পালা। এই ধারা এশার সময় এসে পরিপূর্ণতা লাভ করে। তারপর শুরু হয় নিদ্রার অবকাশ। এমনি করে সকাল পর্যন্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতার মাঝেই অতিবাহিত হয়। তারপর যখন সে জাগ্রত হয় তখন দোয়া ও মুনাজাতের মাঝেই অতিবাহিত হয়। তারপর যখন সে জাগ্রত হয় তখন দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে নতুন করে কর্মপ্রবাহের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে। ঐ সকল বিত্তবান ব্যক্তি যারা দৈহিক অথবা মানসিক মেহনত ও পরিশ্রম এবং মজদুরীর দ্বারা নিজেদের প্রয়োজনীয় রুজীর অন্বেষণ করতে হয় না, তারা এই আত্মিক ও মানসিক বিরতির আস্বাদ হতে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ও বিমুক্ত। এমন মনে হয় যে, মানুষ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত একই প্রকার পরিশ্রম ও মেহনতের বোঝার চাপে অবদমিত হচ্ছিল সে কয়েক মিনিটের মাঝেই হাত-মুখ ধুয়ে দোয়া ও তাসবীহ এবং গ্রহণ ও বর্জনের দ্বারা এই দায়িত্ব হতে বিমুক্ত হয়েছে এবং তারপর নতুন করে কাজ করার শক্তি ও উদ্দীপনা অর্জন করেছে।

১৫। শিক্ষা ও সংস্কার : মানুষের ব্যবহারিক কর্মকাÐের সাফল্য ও কামিয়াবী সর্বোতভাবে দৃঢ়তা, অদম্য মনোবল এবং সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টার উপর নির্ভরশীল। মানুষ যে কাজ শুরু করে এবং সারা জীবনভর একই গতি ও নীতির উপর কায়েম থাকে তাহলে তার এই অবস্থাকে নৈতিক ও সহজাত স্বভাবের স্স্পুষ্ট প্রতিষ্ঠা রূপে আখ্যায়িত করা যায়। এতে করে তার মাঝে এমন এক দৃঢ়তা ও অনমনীয় মনোভাবের উদ্রেক হয় যার ফলশ্রæতিতে সে কাজ বা আদর্শের চারিত্রিক প্রতিফলন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিনিয়ত তার শিক্ষা ও তরবিয়তের মাঝে পরিদৃষ্ট হয়। এতে করে দৈনিন্দিন কর্মপ্রবাহের ফাঁকে সে কয়েকবার নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই এ কথা সুস্পষ্ট যে, মানব জীবনে নামাজ এমন একটি অপরিহার্য কর্মকাÐ যার সার্বিক দায়িত্ব পরিপূরণের মানুষের মাঝে দৃঢ়চিত্তেতা, একনিষ্ঠতা এবং অবিচ্ছিন্ন মনোভাব থাকা একান্ত দরকার। এ সকল কারণে মানুষের নৈতিক জীবনের সৌন্দর্য ও উৎকর্ষতা সৃষ্টি করার জন্য নামাজের চেয়ে অধিক উত্তম কোনও ব্যবস্থা হতে পারে না। এজন্য আল-কুরআনে সাহাবীদের প্রশংসা করে ঘোষণা করা হয়েছে, “ঐ সকল লোক যারা নিজেদের নামাজ সামগ্রীক সচেতনতার সাথে আদায় করে।” (সূরা মাআরিজ : রুকু-১) রাসূলুল্লাহ (সা:)-ও এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ পাকের নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম আমল হচ্ছে ঐ কাজ যা সর্বদা করা হয়, যদিও এর পরিমাণ কম হয়ে থাকে।” (আবু দাউদ)

১৬। জমাআত প্রতিষ্ঠার নিয়মানুবর্তিতা : কোনও একটি জনগোষ্ঠীর জীবন প্রবাহ তার জমাআতভুক্ত নিয়মতান্ত্রিকতা ছাড়া কায়েম থাকতে পারে না। যদি এই বন্ধন শিথিল হয়ে যায় তাহলে উক্ত জনগোষ্ঠীর দৃঢ়তা ও সুসংহত অবস্থার মাঝে বিপরীতমুখী কর্মকাÐ দেখা দেয়া বিচিত্র নয়। ইসলামে বা জামাআত মুসলমানদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে এমন এক জীবনের ব্যবহারিক উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত হয় যা রাসূলুল্লাহ (সা:) নিজে ব্যবহারিক কর্মকাÐের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপিত করেছেন এবং একই সাথে ইরশাদ করেছেন যে, মুসলমানদের শ্রেণীবদ্ধভাবে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ানো এবং পরস্পর পরস্পরের সাথে কাঁধ মিলানো এবং একই নিয়ম-পদ্ধতি ও শৃঙ্খলার সাথে বিভিন্ন কাজ-কর্ম ও হুকুম আহকাম পালন করা তাদের শ্রেণীবদ্ধ জীবনের মজবুত ও সুদৃঢ় পদ্ধতিগত ব্যবস্থার প্রাচীর সদৃশ। এই সুদৃঢ়তা একান্তভাবে নির্ভর করে নামাজের বিশুদ্ধতা ও নিয়মতান্ত্রিকতার উপর। এ কারণে সম্পূর্ণ জামায়াতী জিন্দেগীর স্থিতিশীল। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (সা:) নামাজের কাতার সুবিন্যস্ত করার প্রতি বিশেষভাবে জোর দিতেন এবং বলতেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরস্পর সন্নিবিষ্টি ও মিলিতভাবে না দাঁড়াবে “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের অন্তরসমূহে পারস্পরিক মিলমেলাপ ও মহব্বত পয়দা হবে না।” (ছহীহ মুখারী : কিতাবুস সালাত)

১৭। পারস্পরিক সমতা : জামাতের নামাজ আদায় করার মাঝে প্রতিফলিত হয়, মুসলমানদের মাঝে সমতা এবং সমভ্রাতৃত্বের দৃঢ় বন্ধন। এক্ষেত্রে আমীর ও গরীব, কালো ও সাদা, রূমী ও হাবসী, আরব ও আযমের মাঝে কোনও পার্থক্য নেই। সকলেই এক সাথে, একই অবস্থানে এবং একই সমতলে দাঁড়িয়ে একমাত্র আল্লাহর সামনে মস্তক অবনত করে। আর জামাতের ইমামতের দায়িত্ব পালন করার জন্য পদ ও পদবী, গোত্র ও বংশ, রং ও রূপ, উঁচু ও নীচু, পদ ও মর্যাদার কোন প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় না, বরং জ্ঞান ও মনীষা, ফজল ও কামাল, তাকওয়া ও পবিত্রতা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এখানে ফকীর ও বাদশাহ, কুলিন ও অকুলিনের কোন প্রভেদ নেই। সকলে একই জমিনের উপর একই ইমামের পিছনে একই কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দÐায়মান হয়। এমন কি কেউ কাউকে তার স্থান হতে হটিয়ে দিতে পারে না। এই ভ্রাতৃত্বসুলভ সমতা এবং বিশ্বমানবতার শিক্ষা দৈনিক পাঁচবার উজ্জীবিত হয়ে উঠে। এই পৃথিবীর কোনও জনপদে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সংস্কৃতির অভিন্ন নমুনা পরিদৃষ্ট হয় কি?
(চলবে)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নামাজ


আরও
আরও পড়ুন