Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ভারতের-পাকিস্তান ট্রেন সেবা বাতিল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০১৯, ৮:৩৫ পিএম

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের লাহোর থেকে ভারতে আসা সমঝোতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের ওয়াঘাহ সীমান্তে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। কাশ্মির ইস্যুতে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই ট্রেন সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ। এরপরেই ওই ট্রেনের কর্মীরা ভারতের সীমান্তে প্রবেশ করতে অস্বীকার করে। এর তিন ঘণ্টা পর ভারতীয় কর্মীরা ১৫০ জনেরও বেশি যাত্রীকে নিয়ে আটারির পথে রওনা দেয়। কাশ্মির ইস্যুতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর এই ট্রেন সেবা বাতিল করলো ইসলামাবাদ। তবে ভারতীয় এই ট্রেন সেবা বন্ধ হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি।

সমঝোতা এক্সপ্রেস লাহোর থেকে ওয়াঘাহ এবং আটারি থেকে দিল্লি চলাচল করে

সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে ভারতের পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার (৭ আগস্ট) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) বৈঠকে দিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সব স্থগিত করা হয় ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা সমঝোতা এক্সপ্রেস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যতক্ষণ আমি রেলমন্ত্রী আছি ততক্ষণ সমঝোতা এক্সপ্রেস চলবে না।

পাকিস্তানের রেলমন্ত্রীর ঘোষণার পর বেলা একটার দিকে ওয়াঘাহ সীমান্তে পৌঁছায় সমঝোতা এক্সপ্রেস। সেখানে ট্রেনটির পাকিস্তানি কর্মীরা ভারতে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ভারতীয় কর্মীদের সেখানে গিয়ে ট্রেন নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায় তারা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ভারতীয় কর্মীরা সেখানে গিয়ে ট্রেনটি নিয়ে আসে। এই সময়ে ট্রেনের ভিতরে আটকা পড়ে দেড় শতাধিক যাত্রী।

তবে সমঝোতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, আজ পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ ট্রেনের কর্মী ও পাহারাদারদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ইস্যু তুলেছে। আমরা তাদের বলেছি ডে এখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা তাদের বলেছি আমাদের পাহারাদার আর ইঞ্জিন পাঠাতে সম্মত আছি।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে ভারত ও পাকিস্তানের। দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশির মধ্যে তিনটি যুদ্ধের দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। ১৯৪৭ ও ১৯৬৫ সালে ওই দুই যুদ্ধের পর এই বছর পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার পর দেশ দুটি তৃতীয় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত-পাকিস্তান

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন