Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

অ্যালার্জিজনিত রোগের চিকিৎসা

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস | প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করেছেন? হঠাৎ করে শুরু হলো হাঁচি এবং পরে শ্বাসকষ্ট। অথবা ফুলের গন্ধ নিচ্ছেন বা গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ মাছ, গরুর দুধ খেলেই শুরু হলো গা চুলকানি বা চামড়া লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠা। এগুলো হলে, আপনার অ্যালার্জি আছে ধরে নিতে হবে। আমাদের অনেকেরই ধারণা, অ্যালার্জির কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ওষুধ দিয়ে উপসর্গ কিছুদিন দমিয়ে রাখা যায় এবং ওষুধ বন্ধ করলেই শুরু হয় উপসর্গগুলো। এ কথা কিন্তু অমূলক কিছু নয়। প্রায় ক্ষেত্রেই তাই দেখা দেয়। তাই অ্যালার্জি রোগীর জানা দরকার আপনার রোগটা আসলে অ্যালার্জিজনিত কিনা, তা অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিকভাবে নির্ণয় করে তার চিকিৎসা করা।
অ্যালার্জিজনিত রোগের ৩টি চিকিৎসা পদ্ধতি
প্রথমত, অ্যালার্জি দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলা; দ্বিতীয়ত, ওষুধ বা চিকিৎসা; তৃতীয়ত, ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি। যদিও প্রায় ৮০ বছর ধরে ভ্যাকসিন বিভিন্ন দেশে প্রচলিত এবং একেক দেশে একেকভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এর কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। তাই ভ্যাকসিন বা অ্যালার্জেন ইমুনোথেরাপি ব্যবহারের দিকনির্দেশনা তৈরির জন্য ১৯৯৭ সালের ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্বব্যাপী অ্যালার্জি, হাঁপানি ও ইমুনোথেরাপি সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা যথা আমেরিকান একাডেমি অব অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড ইমুনোলজি, ইউরোপিয়ানস একাডেমি অব এলারগোলজি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমুনোলজি, ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব পেডিয়াট্রিঙ্ অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমুনোলজি, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব এলারগোলোজি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমুনোলজি, জাপানিজ সোসাইটি অব এলারগোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজ একত্রিত হয়ে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী দ্রব্যাদি বা অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে প্রতিষেধকমূলক অ্যালার্জেন ইমুনোথেরাপি বা ভ্যাকসিনের ব্যবহারের দিকনির্দেশনা তৈরি করে। অ্যালার্জিজনিত হাঁপানি (অ্যাজমা), অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিসের ক্ষেত্রে এ ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকরী বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়।
অ্যালার্জি ভ্যাকসিন কী?
এলারজেন ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে স্বল্পমাত্রা থেকে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর মাত্রায় অ্যালার্জেন (যে এলার্জেন দ্বারা রোগীর শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়) অ্যালার্জিক ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে অ্যালার্জেনের সংবেদনশীলতা কমে যায়।
কীভাবে কাজ করে
*রক্তের আইজিই (যা অ্যালার্জির জন্য মূলত দায়ী) তার কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।
*অন্যদিকে রক্তে আইজিজির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে।
*মাস্ট সেল, যা হিস্টামিন নিঃসরণ করে তা কমিয়ে দেয়।

অধ্যাপক (অব:), অ্যালার্জি বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার, ০১৭২১৮৬৮৬০৬

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন