Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

লঞ্চঘাটে উপচে পড়া ভিড়

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

 ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়ছে লঞ্চঘাটগুলোতে। গতকাল শুক্রবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট সর্বত্রই যাত্রী আর যাত্রী। এ সুযোগে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে নৌযানগুলোতে। ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এদিনও ঘাটে গরু বোঝাই ট্রাকের চাপ লক্ষ্য করা যায়। এদিকে শুক্রবার সকালে দেড় ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়ে এই নৌরুট দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পশুবাহী ট্রাকচালক ও ব্যাবসায়ীরা।

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা জানান : ঈদের আগে ও পরের তিনদিন পন্যবাহি ট্রাক পারাপার বন্ধ করে দেয়ায় কমতে শুরু করেছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে জানজট। তবে এখনও পারের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ’ যানবাহন। এদিকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকায় এক সাড়িতে যাত্রীবাহী বাস ও দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকায় কোরবানির পশুবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকা পড়েছে।

গরু ব্যবসায়ী লিটন শেখ বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির নাগাল পেতে প্রতিটি যানবাহনকে ২ থেকে ৩ ঘন্টা আটকে থাকতে হচ্ছে। যা বিগত কয়েক দিনের তুলনায় একেবারেই কম। এদিকে শুক্রবার বাড়তি চাপের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলরত ৩৪ টি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। প্রতিটি লঞ্চে ১৭০ থেকে ২০০ যাত্রী পরিবহন করার কথা থাকলেও পরিবহন করা হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ জন করে। এ ব্যপারে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ম্যানেজার মিলন জানান, আমরা মাইকিং করছি, ঘাটে পুলিশ সদস্য রয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত রয়েছে। কিন্তুু যাত্রীরা কারো কথা শুনতে চায় না। বরং উল্টো আমাদের বলে আমরা যেতে পারলে আপনাদের কি ?। তারপরও আমরা তাদের বুঝিয়ে নিয়ম মতো যাত্রী আনা নেয়ার চেষ্টা করছি।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পিপিএম বলেন, ঘাটের নিরাপত্তায় ২৬০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পন্যবাহি ট্রাক। শুধু যাত্রীবাহি বাস ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাক পারাপার করায় কমতে শুরু করেছে জানজট। বিআইডবিøটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, ঈদ উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০ টি ফেরি চলবে। কোরবানির পশুবাহি বাড়তি ট্রাক ও শিমুলিয়া কাঠালবাড়ি নৌরুটে কিছু যানবাহন এই নৌরুটে আসায় চাপ বেড়েছে। বর্তমানে এই রুটে ১৮ টি ফেরি চলাচল করছে। শনিবার সকালের মধ্যে আরো দুটি ফেরি বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০ ফেরি চলাচল করলে ঘাটে আর যানবাহন থাকবে না।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান : শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট হয়ে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী থাকার সুযোগে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে নৌযানগুলোতে। এদিনও কাঠালবাড়ি ঘাটে গরু বোঝাই ট্রাকের চাপ রয়েছে। তবে গরু বোঝাই ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করছে ফেরি কর্তৃপক্ষ। ঘাট এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব, ভ্রাম্যমান আদালতসহ বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ছিল।
জানা যায়, শুক্রবার শিমুলীয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চ, ফেরি, স্পিডবোট ছিল যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ। এদিন লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা। শিমুলীয়া থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোতে ৩৫ টাকা ভাড়ার টিকেট দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা ও স্পীডবোটে ১৩০ টাকার ভাড়া ১৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসেও যাত্রীরা আবারো পড়ছেন বাড়তি ভাড়ার দৌরাত্বে। কাঁঠালবাড়ি থেকে দক্ষিনাঞ্চলগামী প্রতিটি যানবাহনে দ্বিগুনেরও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।

এদিকে সকাল থেকেই কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ঢাকাগামী কোরবানির গরু বোঝাই ট্রাকের সাড়ি রয়েছে। তবে বিআইডবিøউটিসি কর্তৃপক্ষ গরু বোঝাই ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করছে। বিআইডবিøউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আ. সালাম বলেন, শুক্রবার সকাল থেকেই এ রুটে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে। যাত্রীচাপ সামাল দিতে আমরা ফেরিগুলো যত দ্রæত সম্ভব শিমুলীয়া ঘাটে পাঠিয়ে দিচ্ছি। খালি ফেরিও পাঠাচ্ছি। আর কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ঢাকামুখী গরুবাহী ট্রাক আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। গরুর ট্রাকেও কোন হয়রানি নেই। ফলে গরুর ট্রাকের ভিড় বেশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘরমুখো যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নৌরুট


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ