Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ক্রেতা কম দাম বেশি মিলছে বড় ইলিশ

রাজধানীর কাঁচাবাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখনো কাটেনি ঈদের আমেজ। পুরো ঢাকা শহরই ফাঁকা। ঈদের পর একে একে চার দিন কেটে গেলেও এখনও ঢাকায় ফিরে আসেনি নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা বেশিরভাগ মানুষ। ফলে রাজধানীর সবজির বাজারগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
অনেকাংশেই ক্রেতাশূন্য। তবে ক্রেতা কম থাকলেও বেশিরভাগ সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বেশকিছু সবজির দাম বন্যা ও বৃষ্টির কারণে ঈদের আগেই বেড়ে যায়। ঈদের পর সবজির সরবরাহ কম থাকায় নতুন করে কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে কয়েকটি সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদ করতে যারা গ্রামের বাড়ি গেছেন তাদের বেশিরভাগ এখনও ঢাকায় ফিরে আসেননি। যে কারণে ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফলে বিক্রি হচ্ছে কম। আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে কিছু সবজির দাম বাড়তে পারে। কারণ কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টিতে সবজি খেতের ক্ষতি হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগের মতো এখনও সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো। বাজার ভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে শসা। এক মাসের বেশি সময় ধরে এ তিনটি পণ্য এমন দামে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটো, গাজর ও শসার মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে নতুন আসা শিম। বাজার ভেদে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। কেজি ১০০ টাকা ছোঁয়ার তালিকায় আছে বরবটিও। বাজার ভেদে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। ঈদের আগে বরবটির কেজি ছিল ৬০ টাকা। সবজির এমন চড়া দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সে তুলনায় সবজির দাম খুব একটা বাড়েনি। কারণ গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়া বেশির ভাগ মানুষ এখনও ফিরে আসেনি। আমাদের ধারণা ক্রেতা বাড়লে সব ধরনের সবজির দাম আরও বেড়ে যাবে।
এদিকে ঈদের আগের দামে বিক্রি হওয়া সবজির মধ্যে করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। ঢেঁড়স, উসি ও ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজির মধ্যে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস। ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। কচুর মুখি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
রামপুরার বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুক্রবার হিসেবে সবজির দাম তুলনামূলক কম। কারণ বাজারে ক্রেতা কম। আজ যে দামে সবজি বিক্রি করছি কিছু সবজি গতকাল তার থেকে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। গতকাল যে পটোল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি আজ তা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। আর ৬০ টাকার বেগুন এখন ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’
বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, ঈদের আগের মতোই বাজার ও মান ভেদে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। আর দেশি পেঁয়াজের কেজি আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।
এদিকে গোশতের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর গোশত বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ঈদের আগের মতো ১০৫-১১০ টাকায়।
বাজারে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে শুধু গোশত খাচ্ছি তাই বাজার থেকে কিছু সবজি কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু টমেটো, গাজর, শসা, শিমের যে দাম তাতে মিষ্টি কুমড়া, উসি, ঢেঁড়স কিনেই বাসায় ফিরছি।’
এদিকে সাধারণত এ সময়ে বাজারে বড় ইলিশ মাছের দেখা মেলে। বছরের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর-এ তিন মাসে বড় সাইজের ইলিশ মাছের সরবারহ থাকে বেশি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ মিলছে। তবে দামটাও চড়া। বিশেষ করে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশের দাম অনেকটাই মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে। রাজধানীর রামপুরা বাজারে দুই কেজি ওজনের দুটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার টাকায়।
বাজার ভেদে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০০-২২০০ টাকায়। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকায়। ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি পিস মিলছে ৬৫০-৭০০ টাকায় এবং ৫০০ গ্রামের নিচের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০-৫০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এককেজি ওজনের ইলিশ এখন সব বাজারের পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে দেড়-দুই কেজি ওজনের ইলিশও বাজারে আসছে। অল্প পরিমাণে আসায় দেড়-দুই কেজি ওজনের ইলিশের দামটাও বেশ চড়া।
ক্রেতাদের দাবি এখন যে হারে বাজারে ইলিশ আসছে, তাতে দাম একটু বেশিই মনে হচ্ছে। এখন যে ইলিশ দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক মাস পরে তা এক হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইলিশ

১৩ এপ্রিল, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ