Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

পাবনায় গণপিটুনিতে ২ জন নিহত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

পৃথক দুইটি মামলা, এলাকা যুবক শূন্য হয়ে পড়ছে

পাবনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০১৯, ১১:০৯ এএম | আপডেট : ৫:৩০ পিএম, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ডাকাতি করে পালানোর সময় এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই জন নিহত হয়েছে। নিহত শাহীন ওরফে হলকা শাহীন (৪৫) সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের পুত্র ও মাছিম ওরফে কালু (৩৫) । পুলিশের দাবী নিহতরা চরমপন্থি সর্বহারা দলের সক্রিয় সদস্য ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ১২টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে । পুলিশ এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় নিহত শাহীন একজন চিহ্নিত চরমপন্থি সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। প্রায় প্রতি রাতেই শাহীনসহ তার সহযোগিরা গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন বাড়ি থেকে জোরপূর্বক স্বর্ণলংকারসহ দামী দামী জিনিস পত্র ছিনিয়ে নিয়ে যেতো। নারীদের উপর তারা নির্যাতন করতো। শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে শাহীন তার তিন সহযোগিকে সাথে নিয়ে উপজেলার ছোন্দহ ক্যানেল পাড়া গ্রামের সিদ্দিক করাতির বাড়ি থেকে ডাকাতি করে পালানোর সময় বাড়ির মালিকের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে এবং তাদের ঘিরে ফেলে। ডাকাতরা ক্যানেলের পানিতে ঝাঁপ দেয়। পরে কচুরিপানার ভেতরে থেকে দুইজনকে ধরে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহীন ও মাছিমকে উদ্ধার করে তাদের সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রেরণ করা হয় । কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহত শাহীনের বিরুদ্ধে সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, খুন, বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি শার্টারগান উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে,

ঘটনারপর সাঁথিয়া থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে নিহত দুইজনসহ তিনজনকে আসামী করে একটি এবং গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাত ৫শত থেকে ৭শত জনকে আসামী করে অপর একটি মামলা দায়ের করেছেন। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনিতে নিহত করার ঘটনায় এলাকার বহু মানুষজনকে আসামী করায় ঐ এলাকা যুবক শূন্য হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত: সাঁথিয়া ছন্দহ এলাকার নিকটবর্তী গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের তৎপরতা ছিল। বিগত বিএনপি শাসন আমলে এরা ঐ সব এলাকা থেকে সাঁথিয়া অনুপ্রবেশ করতো । গ্রামবাসী তাদের আসা যাওয়া বন্ধ করে নিরপাত্তার জন্য পাহারার ব্যবস্থা করে। ক্লিন হার্ট অপারেশন এবং র‌্যাবের তৎপরতায় বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন নিহত হন। থেমে যায় এদের তৎপরতা। আবার তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেই এলাকাবাসী মনে করছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নিহত

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন