Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ভয়াবহ আগুনের ধ্বংসস্তূপে অবশিষ্টের খোঁজে ক্ষতিগ্রস্তরা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০১৯, ২:০২ পিএম | আপডেট : ৩:১৫ পিএম, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

আকস্মিক ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরের চলন্তিকা বস্তি। পুড়ে ছাই হওয়া শেষ আশ্রয়স্থলে অবশিষ্টের খোঁজে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী এখন আগুনের ধ্বংসস্তূপে। কেউবা পোড়া খাট, টিভি, হাড়ি, পাতিল, কাপড়-চোপড়, চুলা উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর সেকশন-৭ এ চলন্তিকার মোড়ের চলন্তিকা বস্তি ও ঝিলপাড় বস্তিতে দেখা যায় এ চিত্র।

অগ্নিকাণ্ডে চলন্তিকাসহ আরও ৩/৪টি বস্তির প্রায় সাড়ে ৫শ' থেকে ৬শ ঘর পুড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার পরিবার। আগুনের ঘটনায় কেউ নিখোঁজ কিংবা চাপা পড়ে রয়েছে কি-না তা তল্লাশি করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বস্তিটিতে বরিশাল, ভোলাসহ বেশ কটি জেলার ছিন্নমূল মানুষের ছিল বসবাস। গত ৪০/৫ বছর ধরে অনেকেই বসবাস করে আসছিলেন। এবারই প্রথম আগুনে এত বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হলেন তারা।

সরেজমিন আজ শনিবার দুপুরে দেখা যায়, ঝিলের উপর বাশ আর কাঠের গাঁথুনিতে তৈরি শতশত ঘরের শেষ চিহ্ন বলতে শুধু দেখা যায়, পোড়া টিন, বাঁশের পুড়ে যাওয়া খুঁটির অবশিষ্টাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী কেউ গালে হাত দিয়ে অসহায়ত্ব নিয়ে ঠায় বসে। কেউ বা উদ্ধার করার চেষ্টায় অবশিষ্টাংশ।

গতরাতের আকস্মিক আগুনের সময় বস্তির অধিকাংশের উপস্থিতি ছিল না। কারণ ঈদের ছুটিতে বেশিরভাগ বস্তির বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
এমনই একজন রিও গার্মেন্টসের কর্মী আকলিমা আক্তার। তিনি বলেন, ঈদের কারণে গ্রামের বাড়ি ভোলায় গিয়েছিলাম স্বামী সন্তানের সাথে। আগুনের খবরে রাতেই গাড়িতে উঠে ঢাকা আসি। কিন্তু এসে দেখি আমার ঘর চিহৃ বোঝা বড় দায়। পুড়ে সব ছাই। এরমধ্যে পুড়ে যাওয়া লোহার খাট, ইস্টিলের আলমারি, হাড়িপাতিল যা কিছুটা ব্যবহার করার মতো তাই উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

রাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, মিরপুরের রূপনগরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সুচিকিৎসা, আহার ও বাসস্থানসহ সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এ মুহূর্তে প্রথম কাজ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে কেউ আগুন লাগিয়ে নাশকতা করেছে, এমনটা মনে হচ্ছে না।
মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই এ বস্তিবাসীর জন্য বাউনিয়া বাঁধে ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছেন। তাদের সেখানে যাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে যারা আহত হয়েছেন, তাদের সুচিকিৎসা প্রদান করা অন্যতম কাজ। তাছাড়া যাদের ঘর-বাড়ি পুড়ে গেছে, তারা জানেন না এখন বা আগামীকাল তারা কি খাবেন, কোথায় থাকবেন। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর জন্য চিকিৎসা, আহার, বাসস্থান সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে সিটি কর্পোরেশন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আগুন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ