Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে সবকিছু করব

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আরও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে। তিনি বলেন, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিদেশে পাঠানোসহ শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সবকিছু করব।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে এই অনুষ্ঠানে আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল সার্ভিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ফশিউর রহমান, ডিজিএমএসের কনসালট্যান্ট সার্জন মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান, ড. হাবিবে মিল্লাত এমপি, হাঙ্গেরির চিকিৎসক দলের ডা. কেসাপোডি, ডা. কোসোকি এবং পাটাকি বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে রাবেয়া ও রোকেয়া যমজের সফল অস্ত্রোপচারের মতো আরও জটিল কাজ যাতে করা যায়, সে জন্য আমরা সব ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করব। প্রধানমন্ত্রী স¤প্রতি ঢাকার সিএমএইচে যমজ শিশুর সফল অস্ত্রোপচারকারী বাংলাদেশি ও হাঙ্গেরির চিকিৎসক এবং অন্য কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দলের উদ্দেশে ভাষণে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এ যমজ শিশুর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা বিশাল অভিজ্ঞা অর্জন করেছেন। এখন আমরা এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আরও উন্নয়নে মনোনিবেশ করব।

২ আগস্ট ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ শিশুকে আলাদা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হাঙ্গেরি সরকারের সংস্থা ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশনের (এডিপিএফ) সহযোগিতায় এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। এর আগে যমজ শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাঙ্গেরি পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে তাদের চিকিৎসার সব খরচ বহন করেন। পাবনার চাটমোহর উপজেলায় তারা জন্মগ্রহণ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো যমজ শিশুর অস্ত্রোপচারে জড়িত ছিল সেগুলোকে অভিজ্ঞতার আলোকে আরও উন্নত ও আধুনিকায়ন করতে হবে। শেখ হাসিনা এ সফল অস্ত্রোপচারের জন্য হাঙ্গেরির চিকিৎসক দলের সদস্যসহ সব চিকিৎসক, নার্স ও অন্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশি ও হাঙ্গেরির চিকিৎসকেরা একটি অসাধারণ কাজ করেছেন। যমজ শিশু দুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে শিগগিরই মায়ের কোলে ফিরে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসকেরা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাবেয়া- রোকেয়ার সফল অস্ত্রোপচার বাংলাদেশের চিকিৎসকদের চোখ-কান খুলে দিয়েছে। এ জটিল অস্ত্রোপচারে প্রবেশের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের সমন্বিত কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে সমঝোতা ও অভিজ্ঞতার উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আপনারা রাবেয়া- রোকেয়ার মাথা আলাদা করেছেন। এটি সবার জন্য বড় ধরনের সফলতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের প্রথম মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাঙ্গেরির চিকিৎসক দলের সদস্যরা অস্ত্রোপচারকালে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চমৎকার সহযোগিতার উচ্ছ¡সিত প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন। এ সফল অস্ত্রোপচার বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির মধ্যে এক নতুন ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।

রাবেয়া-রোকেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম তার কন্যাদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ