Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ঢাকামুখী জনস্রোত

ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয়

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ঈদের ছুটি কাটিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে ফিরছে তারা। বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশনে মানুষের ঢল। সড়কপথে এবার যানজট নেই বললেই চলে। তবে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে গাড়ির চাপ বাড়ায় দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে, সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ট্রেনের যাত্রীদের ঈদের আগের মতোই সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি ট্রেন ২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলাচল করছে। ভুক্তভোগিদের মতে, ঈদের আগে যেমন ভোগান্তি ছিল ঈদের পরে ঢাকায় ফিরতেও প্রায় একই রকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া বাস ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মোবাইল কোর্টের অভিযানে বেশ কয়েকটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমান মিলেছে। এজন্য বাসগুলোর মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে যাত্রীদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেয়া হয়েছে।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে গতকাল ঢাকামুখি মানুষেল ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে হাজার হাজার যাত্রী নামতে দেখা গেছে। লঞ্চের যাত্রীতে এক সময় সদরঘাট এলাকা জনস্রোতে রুপ নেয়। যাত্রীরা জানান, তারা কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই আসতে পেরেছেন। এজন্য সবাই খুশি। তবে সদরঘাটে নেমে গাড়ি পেতে কষ্ট হচ্ছে। পায়ে হেঁটে চলতে হচ্ছে বহুদুর পর্যন্ত। মালামাল নিয়ে হাঁটাও কষ্টকর। তারপরেও যদি গাড়ি পাওয়া যেতো তাও কথা ছিল।

গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়ীয়া বাস টার্মিনালে দেখা গেছে হাজার হাজার যাত্রী ঢাকায় ফিরছেন। আলাপকালে যাত্রীরা জানান, ফিরতি পথে সড়কে তেমন যানজট ছিল না। তবে টিকিট পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা জানান, প্রতিটি বাসেই দুই থেকে চারশ’ টাকা করে বেশি ভাড়া নিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারি ও এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। অথচ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সেই ঘোষণাকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।

রাজধানীতে ফিরে আসা যাত্রীরা জানান, স্বজনদের মাঝে থাকার আনন্দ পেছনে ফেলে ঢাকায় ফেরাটা কিছুটা বিষাদের। তা সত্তে¡ও জীবন সংগ্রামের জন্য এ শহরে আসতে হয়। ফিরতে হয় আয়- রোজগারে। তাই তো শত ভোগান্তির মধ্যেও ক্ষণিকের আনন্দ মিটিয়ে কর্মব্যস্ত নগরীতে ফিরে আসতে হয়। ট্রেনের যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা ছাড়ার সময় ট্রেনের টিকিট পেতে যেমন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, তেমনি অনেককে ট্রেনের আসন পেতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। ঈদের আগে থেকেই প্রায় প্রতিটি ট্রেন চলছে বিলম্বে। গতকাল রংপুর এক্সপ্রেস চলেছে প্রায় ২০ ঘণ্টা বিলম্বে। দিনাজপুরগামী একতা, দ্রুতযান ও নীলফামারীগামী নীলসাগর ট্রেনও চলছে বিলম্বে। পঞ্চগড় থেকে ঢাকামুখি বিরতিহীন এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলছে জ্জ ঘণ্টা বিলম্বে। আর ঈদ স্পেশালগুলোর কোনো টাইমটেবলই ছিল না। পুরোটাই বিশৃঙ্খল অবস্থা। দিনাজপুর থেকে আসা একতা এক্সপ্রেসের একজন যাত্রী জানান, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেনের ভেতরে বাজে অবস্থা ছিল। অনেকে দাঁড়িয়ে এসেছেন। এ কারণে সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও জিনিসপত্র নিয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়েছে।

কমলাপুর স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে এসে ঢাকামুখি ধূমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কমলাপুর আসার কথা ছিল। তবে এটি আসার সম্ভাব্য সময় ছিল ১০টা ২০ মিনিট।

খুলনা থেকে ঢাকামুখি সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে কমলাপুর আসার কথা থাকলে এটি সকাল ১০ টায় আসার কথা বলা হয়। চিলহাটী থেকে ঢাকামুখি নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ১০ মিনিটে আসার কথা ছিল। পরে সেটি আসার সম্ভাব্য সময় দেয়া হয়েছে বেলা ১১টা। পঞ্চগড় থেকে ঢাকামুখি একতা এক্সপ্রেস সকাল ৮টা ১০ মিনিটে কমলাপুর আসার কথা থাকলেও সেটি বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কমলাপুরে পৌঁছায়নি। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, ফিরতি পথে যাত্রীদের চাপের কারণে ট্রেন আসতে বিলম্ব হচ্ছে।



 

Show all comments
  • Altaf Hossain ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৪২ এএম says : 0
    এর কারন সড়কের বেহাল দশা, আকা বাকা উচু নিচু এবরো থেবরো , ধিরে চলার যানবাহন ইত্যাদি অব্যবস্থার কারণেই দূর্ঘটনা ।
    Total Reply(0) Reply
  • বিদ্যুৎ মিয়া ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৪:০৩ এএম says : 0
    ঈদে অনেক পেশাদার চালক ছুটিতে যান। এই সুযোগে অপেশাদার চালকদের হাতে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব পড়ে। তারা সড়ক ফাঁকা পাওয়ায় বেশি যাত্রীর লোভে এবং বেশি ট্রিপ মারার খেয়ালে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। যার কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বহুগুণে বেড়ে যায়।
    Total Reply(0) Reply
  • আবেদ খান ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৪:০৩ এএম says : 0
    ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতি, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালক, না ঘুমিয়ে বিরামহীন গাড়ি চালানো, মালিকদের বেশি ট্রিপের চাপ, অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিং, সড়ক-মহাসড়কে তিন চাকার নিষিদ্ধ যান, যাত্রীদের তাড়াহুড়ো এবং আইনের প্রয়োগ না থাকা ও ঈদের পরে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে এসব দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Quafi Abdul ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৫৭ এএম says : 0
    দূর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ইয়া আল্লাহ আপনি সকল যাত্রীদের হেফাজত করুন।সকলকে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছার তৌফিক দান করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Afsaruddin ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৪:০১ এএম says : 0
    what a development train can carry more passengers on the roof then inside the train, if this will be our future railway service, we must design trains roof safer and comfortable for passengers like open-top buses { like a truck )
    Total Reply(0) Reply
  • JP Rushow ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৪:০১ এএম says : 0
    ঝুকিপূর্ণ যাত্রা তারপরও সবাই ভালভাবে গন্তব্যে পৌছুক
    Total Reply(0) Reply
  • محمد أمزاد ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৪১ এএম says : 0
    আল্লাহ সকলকে হেফাযত করুন।আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রেন

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ