Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আপাদমস্তক এক কোচ

স্পোর্টস রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ক্রিকেটার হিসেবে নেই কোনো খ্যাতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনই-নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট চালালেও খুব একটা আলো কাড়তে পারেননি। সেই রাসেল ডোমিঙ্গেই হাইপ্রোফাইলদের ল্যাং মেরে হয়ে গেলেন বাংলাদেশের কোচ। সাক্ষাৎকার দিয়ে যাওয়ার দিন থেকেই তার ব্যপারে ইতিবাচক ছিলেন বিসিবি কর্তারা। কেমন কোচ ডোমিঙ্গো, বাংলাদেশের জন্য কতটুকু উপকারে আসতে পারেন তিনি?

রাসেল ক্রেইগ ডোমিঙ্গো- বড় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে, তবে আছে কোচিংয়ের বিশাল অভিজ্ঞতা। যে বয়সে একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার শুরু হয়, ঠিক সে বয়সেই খেলা ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন খেলা শেখানোর পেশা। খেলোয়াড়ি জীবনে তেমন একটা ভালো ব্যাটসম্যান ছিলেন না। খেলেছেন দ্বিতীয় সারির লিগে, তখনই উপলব্ধি করেন খেলে সফল হতে পারবেন না, তবে থাকতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটের সঙ্গেই। খেলা ছেড়ে অর্জন করলেন স্পোর্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মার্কেটিংয়ের ওপর ডিগ্রি। এরপর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রভিন্স যুব দলের কোচের দায়িত্ব পেয়ে গেলেন।

পরের ১২ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৯ , বি দল ও এ দলের দায়িত্ব পালন করেন ডোমিঙ্গো। ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দল ওয়ারিয়র্সের দায়িত্ব ছেড়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন মিকি আর্থার। এতে ওয়ারিয়র্স কোচের দায়িত্ব পান ডোমিঙ্গো। সে সময় ওয়ারিয়র্সের প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা সুবিধা করতে পারছিলেন না, তখন ডোমিঙ্গো সিদ্ধান্ত নিলেন দলের ব্যাটসম্যানদের বিশেষজ্ঞ কারও কাছ থেকে শিখতে হবে। এ সমস্যার সমাধানে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান গ্যারি কারস্টেনকে নিয়ে ৩৫ দিনের ক্যাম্প করলেন। এরপর কারস্টেন ভারতের কোচ হয়ে জিতলেন বিশ্বকাপ। ভারতকে নিয়ে গেলেন টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। অন্যদিকে রাসেল ডোমিঙ্গো ওয়ারিয়র্সকে জেতালেন দুটি ট্রফি, তাঁর দলের ৬ জন সুযোগ পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলে। দল হিসেবে খুব বেশি ট্রফি জিততে না পারলেও ধারাবাহিক ভাবে সফল হতে থাকে ওয়ারিয়র্স।

২০১১ বিশ্বকাপ জিতিয়ে ভারত থেকে বিদায় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হন গ্যারি কারস্টেন। কোচ হয়েই নিজের সহকারী হিসেবে বেছে নিলেন ডোমিঙ্গোকে। এক বছরের মাথায় সহকারী কোচ থেকে টি-টোয়েন্টি দলের হেড কোচে উন্নীত হলেন ডোমিঙ্গো। ২০১৩ সালে গ্যারি কারস্টেনের বিদায়ের পর তিন সংস্করণেই প্রধান কোচের দায়িত্ব পান ডোমিঙ্গো। তাঁর অধীনে ১৩ টেস্ট সিরিজের ৮টিতে জয়ী হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান থেকে সাতে নেমে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনি টেনে তোলেন দুইয়ে। ডোমিঙ্গোর সময়ে ২২ ওয়ানডে সিরিজের ১৪টিতে জয়ী হয়ে ওয়ানডেতে শীর্ষ দল হিসেবে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র জয়টি আসে তাঁর সময়েই। টি-টোয়েন্টিতে ৪২ ম্যাচের মধ্যে ২৩ জয় এসেছে এ সময়। তাঁর অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৭ সালে ওটিস গিবসনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ছাড়েন ডোমিঙ্গো।
উপমহাদেশের কোনো দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই ডোমিঙ্গোর। দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরেও কোনো দলের সঙ্গে কাজ করেননি তিনি। তবে বাংলাদেশ তার কাছে নতুন নয়। এর আগে একাধিকবার ঘুরে গেছেন লাল-সবুজের বাংলায়। ২০০৪ সালে এসেছিলেন প্রোটিয়া অনুর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হয়ে। ২০১০ সালে তার অধীনেই বাংলাদেশ সফর করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হয়ে এবং ২০১৫ বিশ্বকাপের পর দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশ সফর করেছিল, সেই দলের সঙ্গেও ছিলেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে বিশেষ ব্যাপার হলো, ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যান, কিন্তু ক্রিকেটাররা যেন তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন, সেদিকেও থাকেন সর্বদা সচেষ্ট।

বাংলাদেশকে দিয়ে দুই বছর পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিংয়ে ফিরছেন ডোমিঙ্গো। যে কোনো পর্যায়েই উপমহাদেশের কোনো দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা তার হতে যাচ্ছে এই প্রথম। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কোচ জানিয়েছেন, দায়িত্ব নিতে মুখিয়ে আছেন তিনি, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় এক সম্মান। গভীর আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রগতি অনুসরণ করেছি আমি এবং যে লক্ষ্য পূরণের সামর্থ্য তাদের আছে, সেটিতে সহায়তা করার সুযোগ পেয়ে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’

দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দীর্ঘদিন বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন ডোমিঙ্গো। নানা সময়ে কাজ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলে। তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাই তার আছে অনেক। বাংলাদেশের কোচ হিসেবেও বের করে আনতে চান তরুণ তারকাদের, ‘দলের এখনকার ক্রিকেটারদের উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে চাই আমি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিভার ভাণ্ডার থেকে নতুন উজ্জ্বল তারকাদের উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে চাই।’ যার শুরুটা হয়ে যাবে আগামী বুধবার থেকেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কোচ

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ