Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

খুলনাঞ্চলে ভেসে গেছে মৎস্য ঘের ও আমনের বীজতলা

জনদুর্ভোগ চরমে

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪৪ পিএম

গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে শনিবারে হঠাৎ ভারী বর্ষণে খুলনা ও বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে একাকার হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার মৎস্য ঘের। গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটও পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া উপকূলীয় বিভিন্ন উপজেলার প্রায় কাঁচা, অর্ধ কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে। আমনের বীজতলাও জলমগ্ন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী।
এদিকে খুলনা নগরীতে বৃষ্টি কমলেও কমেনি রাস্তাঘাটে জমে থাকা পানি। পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে খুলনা নগরীর খালিশপুরের বাস্তহারা কলোনী সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগরীতে বসবাসকারী মানুষের জীবন। রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ঘরের ভিতরে পানিতে থৈ থৈ করছে।
বৃষ্টি কমলেও বেশ কয়েকটি রাস্তায় এখনও হাটু সমান পানি রয়েছে। শুধু মানুষই নয়, এখানকার গবাদী পশু-পাখিও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি আর শনিবারের মুষলধারে বৃষ্টি ফলে এ দুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে অসংখ্য খানাখন্দের কারণে মুজগুন্নী মহাসড়কের বেহাল দশা। বিশেষ করে মুজগুন্নী পার্কের সামনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বয়রা মোড় পর্যন্ত রয়েছে অসংখ্য গর্ত। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগে পড়ছে।
পাইকগাছা পৌর সদরসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একাকার হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার মৎস্য ঘের। অতিরিক্ত পানিতে গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০টি কাঁচা, অর্ধ কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে। আমনের বীজতলাও রয়েছে জলমগ্ন।
ডুমুরিয়ায় একদিনের প্রবল বৃষ্টিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার ও অফিস পাড়া। ভেসে গেছে ৬টি পুকুরে থাকা শতাধিক মন মৎস্য পোনা। এতে ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামার ব্যবস্থাপক। ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ার কারনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
বাগেরহাটে ভারী বর্ষণে বাগেরহাটের প্রায় আড়াইশ’ মৎস্য ঘেরসহ নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার তিনটি পৌরসভা ও উপজেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাতের ফলে দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে পারেনি। কৃষিতেও প্রভাব পড়েছে এ ভারী বর্ষণে।
কাড়াপাড়া এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমার ঘেরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘের ভেসে গেছে। এতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাট সদর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল বলেন, দুই থেকে আড়াইশ’ ঘের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সহ¯্রাধিক মৎস্য ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরা মৎস্য চাষিদের নেট দিয়ে নিজ নিজ ঘের নিরাপদ রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। তালায় উপজেলা সদরের অফিসপাড়াসহ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফসলের ক্ষেত, মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, আকস্মিক বৃষ্টিতে উপজেলার বেশির ভাগ রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাটু থেকে কোমর পানি। নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্কুল-কলেজের ক্লাস রুমে পানি প্রবেশ করেছে। সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে তালা সদর, খলিলনগর, জালালপুর, মাগুরা খেরশা, তেঁতুলিয়া ইসলামকাটি এলাকাসহ পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন এলাকার রাস্ত-ঘাট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তালা গেনালী টেকনিক্যাল কলেজ, কে এম মডেল হাইস্কুল, কাঠুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গঙ্গারামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ ক্লাসরুমে ২/৩ ফুট পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু জানান, তার ইউনিয়নের দাসকাটি নিকারীপাড়া, মাছিয়াড়া কয়েকটি গ্রাম ও মৎস্য ঘের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ