Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

শ্যামনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২০

সাতক্ষীরা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৬:৪২ পিএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর বাসস্ট্যান্ডে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় লাঠিসোটা ও সড়কির আঘাতে ১৩ জন আহত ছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৭ জন। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘাত ঠেকাতে পুলিশ ২৯ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, দুই গ্রুপের কেনো পক্ষ গুলি ছোড়েনি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছোড়ে।
ঈশ^রীপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এড. শোকর আলি ও বিএনপি দলীয় সাবেক চেয়ারম্যান সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সাদেকুর রহমান সাদেমের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ওসি বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই মেরুর দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে বংশীপুরে লক্ষ্মী সিনেমা হলের কাছে সাদেকুর রহমান সাদেম সমর্থক আসমত আলিকে মারধর করে শোকর আলি সমর্থক আবদুল আলিম। এ খবর জানাজানি হতেই দুই পক্ষ লাঠিসোটা সড়কি বল্লম রামদা চায়নিজ কুড়াল বোমা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় গুলির শব্দও পাওয়া যায়।
এদিকে, খবর পেয়ে সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরপর ২৯ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সংঘর্ষ থেমে যায়। এরপরই আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় শ্যামনগর ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আফসার আলি, আলম, আবদুস সালাম,বারেক, নুর মোহাম্মদ, আবু সাঈদ, শফিকুলসহ সাতজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শ্যামনগর হাসপাতালে।
সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম বলেন, লক্ষ্মী সিনেমা হলের কাছে চেয়ারম্যান শোকর আলি সমর্থক আবদুল আলিমসহ তিনজন গাঁজা খাচ্ছিল। এতে বাধা দেন সাদেকুর রহমানের সমর্থক মুজিবরসহ কয়েকজন। এই নিয়ে শুরু হয় বিরোধ ও মারামারি। পরে চেয়ারম্যান শোকর আলি ও তার ভাই গোলাম মোস্তফা বাংলা ভাই হেলমেট পরে মোটর সাইকেলে বন্দুক নিয়ে এসে গুলি ছোড়ে।
অপরদিকে, চেয়ারম্যান শোকর আলি বলেন, তার সমর্থক আবদুল আলিমকে সাদেকুর রহমান সাদেমের লোকজন ধরে রেখেছিল। তার প্রতিবাদ জানাতে তিনি ও তার সমর্থকরা সেখানে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় সাদেমের ভাই আবদুল ওহাব নেতৃত্ব দিয়ে হামলা চালায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার সমর্থক পাঁচজন আহত হয়েছেন। চেয়ারম্যান শোকর আলি জানান, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপি সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর থেকে তার আচরণ ছিল বেপরোয়া। গত ১৫ দিন ধরে দুইপক্ষে উত্তেজনা চলছিল। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবসেও এই উত্তেজনা দেখা দেয়। তিনি জানান, তারই জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ওসি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত মামলা করেনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংঘর্ষে আহত


আরও
আরও পড়ুন