Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

‘কাশ্মীরে কারাগারে ঠাঁই নেই’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩৬ পিএম

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর বিক্ষোভের আশঙ্কায় হাজার-হাজার মানুষকে বন্দি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেট এএফপিকে বলেছেন, ‘ভারতের জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) দোহাই দিয়ে অন্তত চার হাজার মানুষকে বন্দি করেছে বিজেপি সরকার। জননিরাপত্তা আইন ভারতের একটি বিতর্কিত আইন, যার মাধ্যমে কোনো অভিযোগ ছাড়াই যে কাউকে গ্রেপ্তার করে দুই বছরের জন্য বন্দি করে রাখতে পারবে কর্তৃপক্ষ।’

ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, ‘অসংখ্য মানুষকে বন্দি করার জন্য কাশ্মীরের কারাগারগুলোতে যথেষ্ট জায়গা নেই। আর এ জন্য কাশ্মীরের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় বন্দি রাখা হয়েছে অনেক মানুষকে।’

এর আগে কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বিলোপের কয়েকদিনের মধ্যেই শতাধিক স্থানীয় রাজনীতিবিদ, কর্মী ও শিক্ষাবিদকে আটক করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। তবে এর পর থেকে মোট কতজনকে বন্দি করে রাখা হয়েছে তা জানাতে বারবার অস্বীকার করছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, তিন দশক ধরে ভারতীয় বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করা একটি অঞ্চলে অশান্তি এড়ানোর জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘আটক হওয়ার পর অন্তত ছয় হাজার মানুষকে শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রথমে তাঁদের শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে সামরিক উড়োজাহাজে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়।’

এদিকে গত শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন কেন্দ্রসহ বারামুল্লা ও গুরেজের কনভেনশন কেন্দ্রকে অস্থায়ী বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বন্দিশালায় অন্তত ৫৬০ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করার ঘোষণা দেওয়ার আগে ৪ আগস্ট রোববার গভীর রাতে কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি করা হয়। এরপর ৫ আগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে আরো জানায়, অতীতে যেসব রাজনৈতিক কর্মী পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত ছিল, তাঁদেরও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি উপত্যকার পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য আরো অনেক রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুনির খান জানান, জননিরাপত্তা আইনের আওতায় কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে কয়েক বছর কারাগারে আটকে রাখতে উপত্যকায় এই আইন ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মুনির খান বলেন, ‘জননিরাপত্তা আইনের আওতায় কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা তা চাই না কারো প্রাণহানি হোক।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ