Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ভারতের কাছে কোন প্রত্যাশা নেই- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৬:৪১ পিএম

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ঢাকা সফরে অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে দেশটির কাছে বিএনপির কোন প্রত্যাশা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা খুব বেশি প্রত্যাশা করছি না। কারণ আমরা গত ১০ থেকে ১২ বছরে শুনলাম এই আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সুউচ্চ পর্যায়ে আছে, খুব ভালো পর্যায়ে আছে। এখন পর্যন্ত আমাদের তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাইনি, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি, আমাদের বাণিজ্যে যে ঘাটতি রয়েছে, ইন-ব্যালেন্স রয়েছে সেটাকে পূরণ করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমাদের কোনো সমস্যারই সমাধান হয়নি। যেটা হয়েছে ভারতের সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে। সেজন্যই আমরা খুব একটা আশাবাদী হতে পারছি না।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে দলের জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এসময় তারা মরহুম নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ত্রিপুরায় বিমান বন্দর স¤প্রসারণের জন্য ভারত সরকার বাংলাদেশের কাছে জমি চাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় খবর এসেছে। এই খবরে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত এটাতে রাজি হয়নি। রাজি হওয়ার প্রশ্নই নাই। কারণ আমার দেশের জমি অন্য কাউকে দেয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

১৫ আগস্টের ঘটনার সাথে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলো- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা তারা (আওয়ামী লীগ) দীর্ঘকাল ধরে এই ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। এটা ধ্রæবতারার মতো সত্য যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, মুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি কোনো মতেই কোনো হত্যাকাÐের সাথে জড়িত ছিলেন না-এটা ইতিহাস প্রমাণিত। জড়িত ছিলেন তাদের (আওয়ামী লীগ) লোকেরা, যারা পরবর্তিতে সরকার গঠন করেছে এবং তার পরবর্তিতে পার্লামেন্টে গেছেন, পার্লামেন্ট গঠন করেছে তারাই এর সঙ্গে জড়িত।

চামড়া সংকটে বিএনপি জড়িত বলে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুয়ায়ুন যে বক্তব্য রেখেছে সেই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এরা (সরকার) তো কেউ দেশ চালাতে পারছে না, তারা ব্যর্থ হয়েছে। একটা অনির্বাচিত সরকার অবৈধ, জনগণের ম্যান্ডেট তাদের প্রতি নাই। পার্লামেন্ট বলুন আর সরকার বলুন এখানে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই। এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা-বার্তা বলা ছাড়া তাদের তো কিছু করার নাই।

এ সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, আবদুল আউয়াল খান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, তাবিথ আউয়াল, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান, ইয়াসীন আলী, ফখরুল হাসান রবিন, এসএম জিলানী, নজরুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্র্রমূখ নেদতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ