Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ০২ শাবান ১৪৪১ হিজরী

কাজ শেষ না হতেই বালু ভেসে যাচ্ছে সাগরে

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে : | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের তান্ডবে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন রক্ষায় পরীক্ষামূলক সুরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হতেই জিও টিউবের বালু বের হয়ে ফের সাগরে ভেসে যাচ্ছে। এদিকে জিও টিউব থেকে বালু বের হয়ে যাবার জন্য পর্যটকদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নব্বই ভাগ কাজ শেষ হওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে হয়েছে ৭০ ভাগ বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে সৈকতের সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের শুরুতেই ওঠে অনিয়মের অভিযোগ।
পাউবো কলাপাড়া সার্কেল সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্র সৈকত ভাঙন রোধে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৬০ মিটার দৈর্ঘ্যরে মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের জন্য ১৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয় বি.জে. জিও টেক্সটাইল লিমিটেডকে। যা চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হবার কথা ছিল। সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকার পিকনিক স্পট থেকে শুরু করে কুয়াকাটা দাখিল মাদরাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার জিও ব্যাগে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। এ রাস্তায় ৫৬টি জিও টিউব ও ৮ হাজার পিচ জিও বস্তা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি জিও টিউবের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৪ মিটার। প্রতিটি জিও বস্তার সাইজ হবে পিপি সাইজ। প্রতিটি জিও টিউবের রিভার সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার প্রস্থ এবং কান্ট্রি সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার উচু ব্যাগ দিয়ে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা বা সৈকত সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করার এমন নির্দেশনা কোটেশনে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করা থেকে এ পর্যন্ত ৪০টির মত টিউব তৈরি করতে পেরেছেন। যেসব টিউব তৈরি করা হয়েছে বেশিরভাগ টিউবের বালু বের হয়ে যাওয়ার কারণে নাজুক হয়ে গেছে। ২.৭৪ মিটার উচু স্থলে পশ্চিমাংশের টিউবগুলো অধিকাংশই ২ মিটারেরও কম উচু করা হয়েছে। ৮ হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জিও বস্তা তৈরি করলেও তাও আবার সমুদ্রের বালু ভরার কারণে বস্তা থেকে বালু বের হয়ে গেছে এমনটাই দেখা গেছে।
ট্যুরিজম ব্যবসায়ী হোসাইন আমির বলেন, সৌন্দর্য বিহীন এমন সুরক্ষা বাঁধে তিনিসহ বিনিয়োগকারী ও স্থানীয়রা অশাহত হয়েছেন। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই টিউবের বালু বের হয়ে গেছে এমন সুরক্ষা বাঁধ তারা আশা করেন নি। কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করা হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর কাউন্সিলর মো. শাহ আলম হাওলাদার অভিযোগ করেন, বেরি বাঁধের সাথে গর্ত করে মোটা বালুর পরিবর্তে জিও টিউবে লোকাল বালু ভরা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করার কারণে পাউবো কলাপাড়া কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধাদানের অভিযোগ এনে নোটিশ দিয়েছে। সঠিকভাবে কাজ না করে উল্টো তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টা অবগত হয়েছি। নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। লোকাল বালু ব্যবহার না করার জন্য বলেছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মাদ অলিউজ্জামান জানান, পাইপ দিয়ে বালু ভরার সময় কিছু লোকাল বালু পানির সাথে টিউবে ঢুকে পড়েছে। জিও টিউব থেকে বালু বের হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যটকরা টিউব কেটে ফেলার কারণে বালু বের হয়ে গেছে। তবে সৈকত সুরক্ষা বাঁধের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বালু

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ