Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

নাস্তিক্যবাদ একটি ব্যর্থ মতবাদ

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম

আল্লাহ তায়ালার প্রাকৃতিক নিয়ম নিঃসন্দেহে খুবই বিজ্ঞানসম্মত ও কৌশলপূর্ণ। সৃষ্টিজগৎ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে নীতিমালা বা রীতিপদ্ধতি প্রণয়ন করেছেন; আল্লাহর হুকুম ছাড়া তার কোনো ব্যত্যয় হয় না। যেমন দুনিয়াকে তিনি দারুল আসবাব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাই ইহকালে কোনো নিয়মনীতি, বিজ্ঞান, মাধ্যম ও কারণ ছাড়া কোনো কিছু সংঘটিত হয় না। ‘হওয়া সম্ভব নয়’ এমন নয়, তবে হয় না।
এরপরও মানুষ যেন রীতি, নীতি, পদ্ধতি, বিজ্ঞান, মাধ্যম ও কারণকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে না বসে এবং প্রকৃতিকে যে প্রতিমুহূর্তে আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করছেন, এ কথাটি ভুলে না যায়, সেজন্য মানুষের ইতিহাসে মহান আল্লাহ তায়ালা অনেকগুলো কুদরত এমন প্রদর্শন করেছেন, যা তাঁর নিরঙ্কুশ ইচ্ছা ও ক্ষমতাকে সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে।

সূর্যের মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নীতি, পদ্ধতি ও প্রকৃতি আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা অনুসরণে তিনি নিজে বাধ্য নন। তবে মহাসৃষ্টিকে তার নির্ধারিত সময়কাল পর্যন্ত ধারণাতীত সুচারুরূপে পরিচালিত করার জন্য তিনি তার সুন্নত বা রীতিপদ্ধতি বেঁধে দিয়েছেন।

যেমন পিতা-মাতার মতো উৎস ছাড়া হযরত আদমকে সৃষ্টি। আবার পিতা-মাতা ছাড়া কিন্তু আদমের দেহের কোষ থেকে হযরত হাওয়াকে সৃষ্টি। সমস্ত জনপদকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছেন, কিন্তু হযরত নূহ আ. ও তার নৌযানের মানুষ ও প্রাণীগুলোকে রক্ষা করেছেন। আগুনের চিরাচরিত দহনশক্তি কেবল হযরত ইবরাহীম আ.-এর জন্য রহিত করে সেদিনকার জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডকে তার জন্য শান্তি ও শীতলতার বিছানায় পরিণত করেছিলেন।
নবী-রাসূল ও তাঁর অনেক মনোনীত নেক বান্দাদের জীবনে সর্বশক্তিমান আল্লাহ অনেক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটিয়েছেন, যা দুনিয়ায় প্রচলিত তাঁর রীতিপদ্ধতির বাইরে। তালাশ করে উদাহরণ পেশ করলে এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যাবে। বলতে গেলে নবীগণের সমস্ত মোজেযা ও সালেহিনের সমস্ত কারামত এরই অন্তর্ভুক্ত।

সদ্যজাত শিশুর মুখে বুলি ফোটানো যেমন হযরত ঈসা আ. তাঁর মায়ের পবিত্রতার বিষয়ে সম্প্রদায়ের লোকদের আশ্বস্ত করেছিলেন। যেমন মিসরের শাসকের প্রাসাদে দুগ্ধপোষ্য কোলের শিশু হযরত ইউসুফ আ.-এর নিষ্কলুষ চরিত্রের কথা অপূর্ব এক যুক্তির মাধ্যমে ঘোষণা করেছিল। সেখানে শিশুটির বাকশক্তি শুধু নয়, তার যুক্তি ও বুদ্ধির অতুলনীয় ব্যবহারও সর্বশক্তিমান আল্লাহর স্বপ্রচলিত ও স্বনির্ধারিত রীতিপদ্ধতির ব্যতিক্রম, যা তিনি তাঁর সর্বময় ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে মানুষের সামনে পেশ করেছেন, যাতে মানুষ স্বাভাবিক নিয়ম বা প্রকৃতির রীতিকে অবধারিত ও স্বয়ংক্রিয় মনে না করে বসে।

যে বড় দাগের ভুলটি ন্যাচারালিস্ট নামের নাস্তিক সম্প্রদায় করে থাকে। বাংলায় যাদের প্রকৃতিবাদী বলা যেতে পারে। তারা অজ্ঞতাবশত ধরে নিয়ে থাকে যে, জীবন জগতের কোনো স্রষ্টা নেই। এর খবর রাখার, পরিচালনা করার, নিয়ন্ত্রণ করার বা শেষ পর্যন্ত এর সমাপ্তি এবং পরিণতি ঘটানোর মতো কেউ নেই। প্রকৃতি নিজেই তার নিয়মে সৃজন, বিকাশ ও ধ্বংস করে যাচ্ছে।

এ মতবাদটি অবাস্তব ও অজ্ঞতাজনিত দুর্বলতার কারণে জন্ম নিয়েছে। যার অনুসারীরা বলে, আমাদের এ জীবন, জন্মলাভ ও মৃত্যু ছাড়া আর কী। চলে আসা নিয়মেই আমাদের জন্ম, নির্দিষ্ট সময়ে এখানে থাকা ও প্রকৃতির নিয়মেই চলে যাওয়া। মাঝে কিছু সময়ের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রাপ্তি ও বঞ্চনামাত্র।

আর যারা সৃষ্টিকর্তার ওপর ঈমান রাখে তারা নিজের সীমিত চিন্তাশক্তি কিংবা দুর্বল দৃষ্টিশক্তির ওপর নয়; বরং তারা নির্ভর করে সর্বশক্তিমানের বাণীর ওপর। তাঁর দেয়া বার্তা, নির্দেশনা ও জ্ঞানের ওপর; যা তিনি পৃথিবীর বাসিন্দা ও মানবকুলের মনোনীত নবী-রাসূল শ্রেণির কাছে প্রেরণ করেন। ঈমানদাররা আল্লাহর কালামের মধ্যেই আল্লাহর বিস্তারিত পরিচয় পেয়ে থাকেন।

আল্লাহ নিজেকে মানুষের চিন্তা ও উপলব্ধির ঊর্ধ্বে এমন এক সত্তারূপে পরিচিত করেছেন, যিনি আকাশ ও জমিনের তথা গোটা সৃষ্টিজগতের নূর বা জ্যোতি। যার সম্ভাব্য বর্ণনা পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে, ‘আল্লাহ হলেন জমিন ও আকাশমন্ডলীর নূর বা জ্যোতি। তার নূরের উপমা এই যে, যেন একটি শামাদান বা দীপাধার। তাতে একটি প্রদীপ। প্রদীপটি রয়েছে একটি কাচাবরণের মাঝে। কাচটি যেন একটি মণি-মাণিক্যের নক্ষত্র। যা প্রজ্বলিত আছে একটি মহান জ্বালানি-বৃক্ষ যাইতুনের উৎস থেকে। যেটি পূর্ব বা পশ্চিম কিংবা কোনো দিকের সাথে সীমাবদ্ধ নয়।

বৃক্ষের তেল যেন নিজ থেকেই প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠছে, যদিও আগুন তাকে স্পর্শ করেনি। আলোয় আলোয় ভরা আলোকময় অস্তিত্ব। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে আলোর পথ দেখান। তার জ্যোতির পানে টেনে নেন। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উদাহরণ পেশ করে থাকেন। বস্তুত আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে পরম জ্ঞানী। - সূরা নূর, (২৪) : ৩৫।

আল্লাহ নূর হিসেবে, পরম শক্তির আধার হিসেবে, সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা, নিয়ন্তা ও বিধাতা হিসেবে এক, একক ও অদ্বিতীয়। যাকে ধারণা বা কল্পনা করা যায় না। যাকে ক্ষুদ্র ও দুর্বল মানুষ অনুভব বা উপলব্ধিও করতে পারে না। মানবিক অক্ষমতায় সে কেবল আল্লাহর নিজপ্রদত্ত পরিচয়টুকু লাভ করতে সক্ষম। আল্লাহকে সে স্মরণ করতে পারে। তাকে ভালোবাসতে পারে। তাকে ভয় করতে পারে। তাঁর সাথে মন, মেধা ও অস্তিত্বের সবটুকু দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। নিবেদনের দীপ জ্বেলে আল্লাহর সকাশে নিজের সবটুকু আবেগ নিংড়ে উপস্থাপন করতে পারে। নিজের দুঃখ, কষ্ট, যাতনা, অভাব, অভিযোগ, প্রার্থনা নিঃশেষে প্রকাশ করতে পারে।



 

Show all comments
  • মোঃ জামান হোসেন জন ২০ আগস্ট, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 1
    চিরকাল বিশ্বাস করেছি পৃথিবীর ‘ফাস্টেস্ট গ্রোইং রিলিজিয়ন’ (সবচেয়ে প্রসারমান ধর্ম) হল ইসলাম৷ বটেই তো৷ বিশ্বময় মুসলিম পরিবারে সন্তানের সংখ্যা অন্যদের চেয়ে বেশি, পশ্চিমা দেশে অনেকে ইসলাম গ্রহণ করছে, তাতে এটাই তো হবার কথা৷ বিশ্বাসটা প্রথম ধাক্কা খায় বছর বিশ-পঁচিশ আগে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপের খবরে, সেখানে ৬৭ শতাংশ ছাত্রছাত্রীই নাস্তিক৷ তারপর থেকে ব্যাপারটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খেয়াল করেছি; বিভিন্ন দেশে প্রজন্মকে সুযোগ পেলেই প্রশ্ন করেছি।
    Total Reply(0) Reply
  • jahid ২০ আগস্ট, ২০১৯, ২:২৪ এএম says : 0
    আল্লাহ আছেন, তাই নাস্তিকতার কোন ভিত্তি নাই , আসুন , নামাজ পড়ি, ভাল কাজ করি, খারাপকে ঘৃণা করি,এটাই আসল আদর্শ জাহিদ সাভার, ঢাকা ।
    Total Reply(0) Reply
  • Redwan Khan ২০ আগস্ট, ২০১৯, ২:২৪ এএম says : 1
    সবার প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বইটা পড়া দরকার। অনুরোধ করছি। কারো কাছে না থাকলে পিডিএফ লিংক দিতে পারি।
    Total Reply(0) Reply
  • বিল্লাল হোসেন ২০ আগস্ট, ২০১৯, ২:২৫ এএম says : 0
    ওরা না‌স্তিক নয়। ওরা হ‌চ্ছে ইসলাম বি‌দ্বেষী। উচ্চা‌ভিলাসি লোভী। ও‌দের কথা লেখা সব ইসলাম ও মুহাম্মদ বি‌রোধী। ওরা জা‌নে এ বিষ‌য়ে বল‌লে মুসলমান ক্ষেপ‌বে আর ইউরো‌পের ভিসা কনফার্ম। যেসব দেশ এদের‌কে প্রশয় দেয় চি‌নে রাখুন ওরাই প‌রিকল্পনাকা‌রি। ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের বিরুদ্ধে এমন সব উসকানীমূলক লেখা, ছবি ও বক্তব্য প্রদান করে, যাতে করে ধর্মপ্রান মুসলিমরা ক্ষিপ্ত হয়। তখন তারা বিভিন্ন অমুসলিম দেশে ভিসার জন্য আবেদন করে এবং জানায় যে, এদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা তাদের যে কোন সময় মেরে ফেলবে। প্রমানস্বরুপ তারা বিভিন্ন রেফারেন্স দেখায়। অত:পর তারা খুব সহজেই তাদের কাঙ্খিত দেশের ভিসা পেয়ে যায়। ও‌দের য‌দি না‌ম্তিক মে‌নে নিই ত‌বে ওরা একটা জি‌নিস প্রমান দি‌য়ে দি‌চ্ছে পৃ‌থিবী‌তে ধর্ম একমাত্র ইসলামই। বিদেশে অ্যসাইলাম প্রত্যাশী এধরনের কিছু কুলাঙ্গারের কারণে দেশে জঙ্গিবাদ এবং ধর্মীয় হানাহানির সৃষ্টি হয়। এদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদান করা উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • Saddad Hossain ২০ আগস্ট, ২০১৯, ৯:১৬ এএম says : 0
    এ মতবাদটি অবাস্তব ও অজ্ঞতাজনিত দুর্বলতার কারণে জন্ম নিয়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahbub Rahman ২০ আগস্ট, ২০১৯, ৯:১৯ এএম says : 0
    অবিশ্বাস, ধর্মহীনতা আর নাস্তিক্যবাদের অবিরাম ধেয়ে আসা ঝড়ের মুখে পড়ে আজ আমাদের যুবসমাজ দিগ্বিদিকশূন্য। যে জাতি এক সময় গোটা পৃথিবীর নেতৃত্ব দিয়েছে, বিস্তৃত দুনিয়ার দিগ-দিগন্তে বিজয়াভিযান পরিচালনা করেছে, মহান খালিকের মহাপবিত্র রিসালাতের আলোকমালা অন্ধকার পৃথিবীর অলিতে গলিতে পৌঁছে দিয়েছে, বিশ্ব বিজেতা সেই জাতিই আজ বিশ্বের সবচেয়ে ভীতু ও পরাভূত জাতি। সব ধরণের জুলুম ও জাহালত আজ সে জাতির সর্বত্র জেঁকে বসেছে।তাদের নতুন প্রজন্ম স্বীয় দ্বীন-ধর্ম ও ঐতিহ্য থেকে সর্বদা পালানোর পথ খুঁজছে। সেই জাতিই আজ কুফর, নাস্তিক্যবাদ আর পৌত্তলিকতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।আজ গোটা মুসলিম উম্মাহর ভাবী উত্তরাধিকারী যুবসমাজ যেসব আগ্রাসন ও হুমকির সম্মুখীননাস্তিক্যবাদ রয়েছে তা সামনের কাতারে।
    Total Reply(0) Reply
  • Habib Ahsan ২০ আগস্ট, ২০১৯, ৬:২৬ এএম says : 0
    Atheist are of two types. Militant atheist are those who professes faith just to hold power over people in ancient/medival ages where no other alternative tools for governance were effective. Militant atheist jews created christanity in the Greeko-Roman era in order to surely subdue the white supremacist internally with jewish supremacy. Hitler and Stalin might realized this faith plot against the white civilization. Militant atheist Hindus created a militant cult Shikhism in the Moghul era to subdue the Islamic expansion in India as their Hinduism was too weak to hold and to use in killing Islam in Punjab.
    Total Reply(0) Reply
  • সফিক আহমেদ ২০ আগস্ট, ২০১৯, ৯:২০ এএম says : 0
    খুব সুন্দর একটি লেখা। লেখক উবায়দুর রহমান খান নদভী হুজুরকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাই।
    Total Reply(0) Reply
  • সালমান ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১০:৫১ এএম says : 0
    নাস্তিক্ব্যবাদ হচ্ছে মস্তিক্য বিকৃত মতবাদ
    Total Reply(0) Reply
  • ramzan ২০ আগস্ট, ২০১৯, ২:২০ পিএম says : 0
    অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, নাস্তিকরাও এক মহান স্রষ্টা সত্বায় বিশ্বাসী। যেমন, ইয়াহুদী, খ্রীস্টান, হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন প্রভৃতি বিশ্বের প্রাচীনতম প্রধান প্রধান ধর্মাবলম্বীরা এক মহান স্রষ্টা সত্বায় বিশ্বাসী যার ধর্মভেদে নাম ভিন্ন। কেহ বলেনঃ ঈশ্বর-ভগবান, কেহ বলেনঃ গড, কেহ বলেনঃ খোদা । আর আমরা মুসলমানরা বলিঃ আল্লাহ। যদিও নিকট অতীতেও আরব ইয়াহুদী-খ্রীস্টানরাও আল্লাহ-কে আল্লাহ বলে অভিহিত করতেন। মার্কিন মহিলা পাদ্রীকে দেখা গিয়েছিল তাঁর মোটর কারে আল্লাহ নামের লকেট ঝুলিয়ে রাখতে। সাদ্দাম হুসেনের উপপ্রধান মন্ত্রীর নাম ছিলঃ আবদুল আজিজ। এমনি মধ্যযুগীয় আরব-ইয়াহুদী খ্যাতনামা বিজ্ঞানীর নাম ছিলঃ মাশাআল্লাহ। চন্দ্র পৃষ্ঠে যে ১৩ জন মুসলিম নভো বিজ্ঞানীর নাম শিলাখন্ডে নাসা কর্তৃক লিখিত হয়েছিল তাতে মাশাআল্লাহর নামও ছিল। যাহোক, নাস্তিকরা যে মহান স্রষ্টা সত্বায় বিশ্বাস করেন সে সত্বাটির নামঃ প্রকৃতি (Nature) অপর নামঃ দৈবশক্তি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ফরমানঃ ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক সবাই আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে। সাধারণতঃ নাস্তিকরা স্রষ্টায় পরোক্ষভাবে স্বীকার করে এই বলেঃ আল্লাহ, গড, ঈশ্বর থাকলেও থাকতে পারে। তাই বলেঃ আল্লাহ, গড, ঈশ্বরের বিধি-বিধান মানতে হবে-এমনতর হতে পারে না (ডক্টর আহমদ শরীফ)। এভাবে নাস্তিকরা ধর্মীয় বিধি-বিধান মানতে অপারগ। অথচ আল্লাহপাক বলেনঃ ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক সবাই আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে। এমনকি অনিচ্ছায় আল্লাহর আইনও মেনে থাকে কখনও কখনও। যেমন, আল্লাহর আইনেই তাদের জন্ম-মৃত্যু। মধ্যবর্তীতে নয়-কে ছয় করার জন্য সীমিত সময়ের জন্য স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিসম্পন্ন করেছেন জ্বীন এবং মানব জাতিকে। সেই সাথে ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী জ্ঞান, বুদ্বি-বিবেকও দেয়া হয়েছে। সেই সাথে যুগে যুগে পাঠানো হয়েছিল অসংখ্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামদের, সাথে কিতাবুল্লাহ-সহিফা যাতে ভাল কোনটা, মন্দ কোনটা পরখ করতে পারা সম্ভব হয়। সর্বশেষ কিতাবুল্লাহর নাম আল কুরআন, অপর নামঃ ফুরক্বন (ভাল-মন্দের পার্থক্যকারী) ভাল-ন্যায়-সত্যের পরিণতি দুনিয়ায় অন্তরে প্রশান্তি আর আখেরাতে সর্ব শান্তি, তা চিরতরের জন্য। নাস্তিকরা আল্লাহর আইন মেনেই দুনিয়া থেকে চির বিদায় নেয় সত্য। এমনকি ইসলামী আইনে দাফন-কাফনও হয় । যদিও জীবিতকালে ইসলামী আইন মানতে তারা দুঃখজনকভাবে গাফেল, উদাসীন ।
    Total Reply(0) Reply
  • আহলুল্লাহ ইবরাহিম ফিরুজ ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ৪:২২ পিএম says : 0
    হুম হজরত সঠিক বলেছেন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ