Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জমি বেহাত হলেও হাত গুটিয়ে মিল্ক ভিটা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডকে (মিল্ক ভিটা) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বরাদ্দ দেয়া পাঁচ হাজার একর গো-চারণ ভূমির চার হাজার একরই বেহাত হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময়েও জমি উদ্ধারে সরকারি সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির কোনো তৎপরতা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিটি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মিল্ক ভিটার কার্যক্রমসহ দেশের দুধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠান সংসদীয় কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ওমর ফারুক চৌধুরী, ইসমাত আরা সাদেক, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও মো. জিল্লুল হাকিম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মিল্ক ভিটায় উৎপাদিত দুধসহ দেশের তরল দুধের গুণগত মান নিয়ে একটি কুচক্রী মহল সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা) কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য এমন অপপ্রচারের কারণে সুনাম নষ্ট হওয়ায় মিল্ক ভিটার দুধ বিক্রি কমেছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুধের গুণগত মান বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটি সূত্র জানায়, মিল্ক ভিটার ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে দেশের তরল দুধ নিয়ে একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে গুঁড়োদুধ নিয়েও অপপ্রচার চলছে বলে দাবি করা হয়। বলা হয়, মিল্ক ইউনিয়ন কর্তৃক যথাযথ গুণগত মানসম্পন্ন গুঁড়োদুধ বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন করলেও আমদানিকৃত বিদেশি গুঁড়োদুধের আমদানি শুল্ক কম থাকায় মিল্ক ইউনিয়নের গুঁড়োদুধ আশারূপ বিক্রি হচ্ছে না। আর বিগত চার বছর যাবৎ ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে এই শিল্পে সরকারি ভর্তুকি প্রদান করায় গুঁড়োদুধের উৎপাদন অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে কমিটির সদস্যরা দেশীয় দুগ্ধ শিল্প রক্ষায় সব ধরনের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ শিল্পে কোনো ঘাটতি থাকলে তা পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেগ গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্ক ভিটাকে পাঁচ হাজার একর জমি বরাদ্দ দেন। বেহাত হতে হতে এখন মিল্ক ভিটার হাতে আছে এক হাজার একরের মতো জমি। তিনি বলেন, মিল্ক ভিটার কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে অসাধু লোকজন জমি বরাদ্দ দিয়ে দখল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে জমি দখল করেছে। এই জমি উদ্ধারে মিল্ক ভিটা কখনও আইনি লড়াইয়ে যায়নি। কমিটি এই জমি উদ্ধারে মিল্ক ভিটাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। আ স ম ফিরোজ বলেন, মিল্ক ভিটার দুধে যেটুকু সিসা পাওয়া গেছে তা পানি থেকে গবাদি পশুর শরীরে গেছে। আমরা এ বিষয়ে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার সুপারিশ করেছি।
মিল্ক ভিটার এক কর্মকর্তা জানান, স¤প্রতি বিভিন্ন কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে সিসার উপস্থিতি পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পাবনা ও সিরাজগঞ্জে এসব জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই দুই জেলার প্রায় সাড়ে ৫০০ সমিতির ২৫ হাজার খামারি মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করেন বলে স¤প্রতি সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীঘাট দুগ্ধ সমিতির ব্যবস্থাপক অমিয় কুমার মন্ডল জানিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভুল থাকলে তা সংশোধনের সময় দিতে হবে। কিন্তু অবৈজ্ঞাতিক তথ্য নিয়ে ব্যবসার ক্ষতি করা ঠিক হবে না। তাই মিল্ক ভিটাতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি থাকলে তা প্রতিকারের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে বৈঠকে সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ীতে মিল্ক ভিটার দুগ্ধ কারখানা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে সঠিক মান বজায় রেখে সিসা, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত পণ্য উৎপাদনের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে মিল্ক ভিটার আয়-ব্যয় ও মুনাফা নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি বার্ষিক দুধ উৎপাদন তিন লাখ লিটারে উন্নীত করার সুপারিশ করে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ