Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরিই ডমিঙ্গোর প্রথম কাজ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ঢাকায় পা রেখেছেন আগের দিন। পরের দিন অর্থাৎ গতকাল দায়ীত্ব বুঝে নিয়েই লেগে পড়েছেন কাজে। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের দক্ষিন আফ্রিকান কোচ রাসেল ক্রেইগ ডমিঙ্গো। জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে মধুর বোঝাপড়া তৈরি করাই তার প্রথম কাজ।

ডমিঙ্গো উচ্ছ্বাসিত হয়েছেন ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের প্রমাণ পেয়ে। মঙ্গোলবার বিমানবন্দরে পা রেখেই এক ঝাঁক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডমিঙ্গা। কিন্তু এদিন কোন কথাই বলেননি। সোজা চলে যান গুলশানের হোটেলে। গতকাল সকালে হোটেল থেকে সোজা চলে আসেন শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এখানে বসেই বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন অনেক কথা। এর মাঝেই তুলে ধরেন ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের অতি আগ্রহের বিষয়টি, ‘আমি জীবনে এত রিপোর্টার একসঙ্গে দেখিনি। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বড় কোনো ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বড়জোর আট-নয়জন রিপোর্টার থাকে। কাল বিমানবন্দরে মনে হয় ১০০ ক্যামেরা ছিল। এতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে গেছি। এই যে বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেট নিয়ে এত আবেগ, এটাই হয়তো আমাকে এখানে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।’

হাস্যজ্জ্বল রাসেল ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমার কথা শোনার জন্য অনেকেই বেশ আগ্রহী মনে হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে কোচিং করানোয় আমি জানি, কিভাবে ভালো ক্রিকেটার তুলে আনতে হয়। আমি অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৯, ঘরোয়া লিগের পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিং করিয়েছি। কিভাবে খেলোয়াড় উঠে আসে এবং জাতীয় দলে কিভাবে ভালো খেলতে হয় এই প্রতিক্রিয়া আমি খুব ভালো জানি। জাতীয় দলে কিভাবে ভালো করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যায় এই বিষয়ে আমি খুবই সচেতন। জাতীয় দলে খেলতে হলে তাদের কি করতে হবে আমি সেদিকেই জোর দেব।’
ডমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ২০০৪ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এরপর লম্বা বিরতির পর আবার বাংলাদেশে আসেন টাইগার দলের কোচ হওয়ার জন্য সাক্ষাৎকার দিতে। সেই পর্ব পেরিয়ে এবার অন্তত বছর দুই নিয়মিত বাংলাদেশেই থাকবেন ডমিঙ্গো। বাংলাদেশে আসা-যাওয়া না থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি নিয়ে তার ভালো ধারণা আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দল হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে উন্নতি করেছে, ডমিঙ্গো তা আগেও বলেছেন। তবে বাংলাদেশ দল এখনও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্থান-পতনের মধ্যে আছে বলে জানান তিনি। ডমিঙ্গো জানান, তিনি দলের স্থায়ী উন্নতির পথ তৈরি করে দিতে চান, ‘আমার অন্যতম একটা কাজ হবে, জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটার তৈরি করা। যাতে করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সফলতা দীর্ঘমেয়াদি হয়।’ এজন্য তিনি গুরুত্ব দিতে চান টেস্ট ম্যাচকে। তার মতে, ‘নিয়মিত টেস্ট না খেললে দলের উন্নতি সম্ভব নয়।’

নিজের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা আর নিখুঁত পরিকল্পনায় ডমিঙ্গো সাফল্য এনে দিতে চান বাংলাদেশকে। তবে বাস্তবতাও মনে করিয়ে দিলেন, ‘এখানে পৃথিবী বদলে দিতে আসিনি। উপমহাদেশে সব সময়ই ক্রিকেট খেলা হয়। আমরা আশা করি না বাংলাদেশ ক্রিকেট আমাদের সঙ্গে মানিয়ে নেবে। বরং আমাদের মানিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে। প্রক্রিয়া তৈরির উপায় আমাদের বের করতে হবে। এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’

ডমিঙ্গোকে নিয়ে বাড়তি আশাবাদী হওয়ার কারণ তিনি কেবল জাতীয় দল নিয়েই থাকতে চান না। কাজ করবেন ‘এ’ দল, বয়স ভিত্তিদক দল নিয়েও। সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে হবে টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ। এরপর তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে চান। পাইপলাইন থেকে কিছু খেলোয়াড় তুলে আনাই তার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

শুরুতেই ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন ডমিঙ্গো। এই আবেগের আরেক নাম যে চাপ, সেটি নিশ্চয়ই অজানা নয় তার। এই চাপ কীভাবে সামলাবেন তাও জানিয়েছেন তিনি, ‘পাঁচ বছর ধরের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছি। মানুষ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে আমরা যেন প্রতিপক্ষকে নিয়মিত হারাই। এই প্রত্যাশা ও চাপ সম্পর্কে অবগত। আমি সামনের দিকে তাকাচ্ছি। এই মানুষগুলোর সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। একজন কোচ হিসেবে চাপ উপভোগ করি।’

তবে সবকিছুর আগে দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন ডমিঙ্গো, ‘শুরুতেই আমার লক্ষ্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন; সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। খেলোয়াড়ের বিশ্বাস অর্জনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আগামী দু-এক সপ্তাহ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করব। পর্যবেক্ষণটা হবে- খেলোয়াড়েরা আমার কাছ থেকে কেমন শিখতে পারছে।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ভালো দিকগুলোকেই নিতে চান ডমিঙ্গো। তার মতে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ হয়তো অষ্টম হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের সত্যিকারের পারফরম্যান্স কিন্তু বলছে তারা অষ্টম স্থানে থাকা কোনো দলের চেয়েও ঢের ভালো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়াকেও খুব বড় করে দেখতে চান না তিনি, ‘আমি মনে করি না শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে বলেই বাংলাদেশ খুব বাজে দল। আমি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি পড়িনি। বিশ্বকাপে তারা কিন্তু সত্যিই খুব ভালো খেলেছে। কয়েকটি ম্যাচে জেতার খুব কাছে গিয়েও বাংলাদেশ হেরেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তো ওই রান আউটটিই সর্বনাশ করেছে। এই দলটা বিশ্ব ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হয়ে ওঠার খুব কাছেই রয়েছে।’ তার মতে, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ খারাপ ক্রিকেট খেলেনি। বিশ্বকাপের ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারায় এমন ফল বলে মনে করেন তিনি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন