Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জনগণ বারবার ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে ধোকা খায়-পঙ্কজ ভট্টাচার্য

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৬:২০ পিএম

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেছেন, বস্তিতে আগুণ লাগে না লাগিয়ে দেয়া হয় তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং বস্তি নিয়ে রাষ্ট্রের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। মনে রাখতে হবে বস্তিবাসীরা মানুষ। বস্তি কেন পুড়ে তা খতিয়ে দেখতে ও নি¤œ আয়ের মানুষদের আবাসনের জন্য জাতীয় বস্তি কমিশন গঠনেরও তিনি দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণ বারবার ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে ধোকা খায়।
প্রেসক্লাবের ভিআইডি লাউঞ্জে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার এক সংলাপে তিনি একথা বলেন। পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, বস্তিবাসীদের জন্য হাইকোর্টেও রোল জারি করা থাকলেও প্রতিবছর বস্তিতে আগুন লাগে আর বস্তি উচ্ছেদ হয়। কেন বস্তি পুড়ে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একটি পৃথক কমিশন গঠন করে সকল অগ্নিকান্ডের কারণ অনুধাবন করে বস্তিবাসীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ আবাসন কর্তৃপক্ষ তৈরি করে বস্তিবাসীদের ন্যায্য আবাসন অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বস্তিতে আগুণ লাগে না লাগিয়ে দেয়া হয় তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং বস্তি নিয়ে রাষ্ট্রের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। মনে রাখতে হবে বস্তিবাসীরা মানুষ আর তাদের অবদানের উপর এই রাষ্ট্র ও দেশ টিকে আছে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বস্তিবাসী সমাজে গালি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু ঢাকা শহরের নি¤œ আয়ের এই মানুষরা যদি একদিন কাজ না করেন তবে শহর অচল হয়ে যাবে। অথচ কি অদ্ভুত ভাবে নিয়মিত বিরতিতে আমাদের এই বস্তিগুলোকে পুড়তে দেখতে হয়। বক্তাবরা সকল অগ্নিকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের ও ক্ষতিপূরণের প্রদানের দাবি জানান।
সংলাপে বস্তিবাসী নেতারা বলেন, আমরা ভিক্ষা চাই না। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বস্তিবাসীদের জন্য যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার বাস্তবায়ন করা হোক। আর এই বস্তিবাসী ও নি¤œ আয়ের মানুষরাই যেনো আবাসন অধিকার পায়।
সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা: ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ কুমার কুন্ডু, পবার সাধারণ সম্পাদক প্রৌকশলী আব্দুস সোবহান, গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ, আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হালদার, বস্তিবাসী নেতা কুলসুম বেগম, রাফেজা বেগম ও প্রবাশ ফেরত নুরজাহান বেগম প্রমূখ।
সংলপ থেকে মিরপুর ঝিলপাড়ের চলন্তিকা বস্তিতে ভয়াবহ অগিকান্ডে আনুমানিক ৫০০০ পরিবারের ক্ষতির পরিমান ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার পাশাপাশি উক্ত স্থানে তাদের দ্রুত পূনবাসনের ব্যবস্থার দাবি জানান হয়। একিই সাথে নেতৃবৃন্দ বলেন, নগর বস্তিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী অবাসনের ব্যবস্থা সরকারী ভাবে করতে হবে। বস্তিবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত আবাসন তৈরীর কাজ শুরু করতে হবে। বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ফ্লাট প্রাপ্তির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজ লভ্য করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ