Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ব্ল্যাকলিস্টেড ঠিকাদারদের কাজ দেবেন না : পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৬:৫৬ পিএম

সরকারি কোনো সংস্থা থেকে ব্ল্যাকলিস্টেড বা কালো তালিকাভুক্ত কোনো ঠিকাদার যেন অন্য কোনো সংস্থার কাজ না পায়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, ব্ল্যাকলিস্টেড ঠিকাদাররা যেন অন্য কোনো সংস্থার কাজ না পায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এদের খুঁজে বের করতে হবে এবং দ্রুত একটি সার্কুলার জারি করতে হবে। এক্ষেত্রে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) দ্রুত একটি সার্কুলার জারি করবে।

পাবলিক-প্রাইভেট স্টেকহোল্ডার কমিটির (পিপিএসসি) ১৩তম সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেল কক্ষে এ সভার আয়োজন করে সিপিটিইউ’র পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনেক ঠিকাদার আছে যারা কোনো একটি সংস্থা থেকে ব্ল্যাকলিস্টেড হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি অন্য সংস্থাগুলো হয়তো এদের নাম জানে না। তাই এসব ঠিকাদারের তালিকা করে তা অভ্যন্তরীণভাবে প্রচার করতে হবে। এসব ঠিকাদারদের কাজে রাখার কোনো মানে হয় না।

পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে পিপিএসসি গঠন করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, উন্নয়নের দু’টি বাঁধা আছে, একটির নাম নাই বা বললাম, অন্যটি ঠিকাদার। তারা কাজ নিয়ে বসে থাকে, শুরু করে না। ঠিকাদাররা অহেতুক প্রকল্পের কালক্ষেপণ করেন। এটা উন্নয়নের খারাপ দিক। আমরা দেখছি, কিছু কিছু সিমেন্ট কোম্পানি ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আমরাও ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি।

এম এ মান্নান বলেন, এবার প্রথম মাসেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ভালো বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা পিডিদের (প্রকল্প পরিচালক) টাকা সরাসরি দিয়ে দিয়েছি। এবার শুরুতেই আমরা ছক্কা মেরেছি। প্রকল্প দুই বারের বেশি সংশোধন করা যাবে না। তিন বার সংশোধনের জন্য আনলে আমি অনুমোদন দেবো না, তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হবে। মূল প্রবন্ধে বিআইজিডির ফেলো মির্জা হাসান জানান, সরকারি কাজে নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রথম পর্যায়ে পাইলট আকারে শুরু করা হয়েছিল। এখন ৪৮টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলাতেই তা সম্প্রসারণ করা হবে।

মির্জা হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৪টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দু’টির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বেশকিছু চ্যালেঞ্জও উঠে এসেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে পাবলিক- প্রাইভেট স্টেকহোল্ডার কমিটির সদস্যদের ভাষাগত সমস্যা, নারীদের কম অংশগ্রহণ থাকা, ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া, প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, এখন প্রকল্প শেষে অডিট করা হয়। তখন আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই প্রকল্প চলাকালীনই অডিট করা প্রয়োজন। তাছাড়া অডিটের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।

আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া। ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। এক বা একাধিকবার প্রকল্প সংশোধন করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়, জনগণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির সময়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সব বিষয় ভাবতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন, সিপিটিইউ’র মহাপরিচালক মো. আলী নূর, বিশ্বব্যাংকের লিড প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট জাফরুল ইসলাম এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। এছাড়া ঢাকা ওয়াসা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, টিআইবি, বেসিসসহ বেসরকারি সংস্থার প্রধানরা সভায় অংশ নেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিকল্পনামন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ