Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

তৃতীয় রমজানেও যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

গণপরিবহন সঙ্কট : বিকেলে ঘরে ফিরতে রোজাদারদের ভোগান্তি

প্রকাশের সময় : ১০ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : আগের দু’দিনের মতো গতকাল তৃতীয় রমজানেও যানজটে নাকাল ছিলো রাজধানীবাসী। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে গতকাল যানজটের চিত্র ছিলো আরো ভয়াবহ। বলতে গেলে যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে ঢাকা। বিশেষ করে মহাখালী, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, শ্যামলী, গাবতলি, সাতরাস্তা মোড়, মগবাজার, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ব্যক্তিগত গাড়িতে মতিঝিল থেকে বনানী যেতেই সময় লেগেছে তিন ঘণ্টার ওপর। যানজটে শ্রমজীবীদের কর্মঘণ্টার অধিকাংশ সময়ই অলস কেটে গেছে রাস্তায়। যানজট নিরসনে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন উদ্যোগই সফল হচ্ছে না। রাজধানীর যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু রোজার শুরুতে তা যেন আরো অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। দিনের প্রহর প্রহরে রাস্তাঘাট কিছুটা ফাঁকা থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট তীব্র আকার ধারন করে। শুধু প্রধান সড়কেই নয় যানজট দেখা গেছে সরু গলিতেও। ঢাকার সবগুলো রাস্তায়ই এখন যানজট আর যানজট। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে ঢাকার অধিকাংশ সড়কেই বেড়ে যায় গাড়ির চাপ। যানজটে একই স্থানে গাড়ি আটকে থাকায় গণপরিবহনের সঙ্কটও দেখা দেয়। বিকেল ৪টার পর রোজাদার মানুষের ঘরে ফিরতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পরিবহন সঙ্কটে সাধারণ মানুষ অতি দূরত্বের পথও পাড়ি দিয়েছেন পায়ে হেঁটে।
বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বনানীর কাকলী মোড়ে পাইপ বসানোর কাজ করছে। এ কারণে চার লেনের সড়কটির অর্ধেক অনেক দিন ধরেই বন্ধ। সেখানে যানবাহনের লম্বা সারি গিয়ে ঠেকেছে মহাখালী ফ্লাইওভার পর্যন্ত। কাকলিতে সড়কটির একই অবস্থা। সরু রাস্তার কারণে গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। কাকলীর যানজটের প্রভাবে গাড়ির ঝটলা মহাখালী-নাবিস্কো হয়ে চলে যায় সাতরাস্তা পর্যন্ত। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গাড়ি বের হওয়ায় চাপ বেড়ে যায়।
খানাখন্দের কারণে যাত্রাবাড়ি মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় সারাদিনই গাড়ির জট লেগে থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর (ট্রাফিক) ডেমরা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আলমগীর হোসেন। ওই ফ্লাইওভারের রাস্তা এতই করুণ দেখলে তা সড়ক বলেই মনে হয় না। কারো কারো অভিমত, ওই ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তাটি ভাংগা-চোরা হওয়ায় বাধ্য হয়েই ফ্লাইওভার দিয়ে যেতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে এটি একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে একটি মহল। রাস্তা ফ্রি হলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সিটিং সার্ভিস গাড়িতে মতিঝিলে পৌঁছাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু যানজটে দু’ঘণ্টারও বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। প্রগতি সরণির বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার, শাহজাদপুর, উত্তর বাড্ডা পার হতে যাত্রীদের এক থেকে দেড় ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। মানুষের এ দুর্ভোগের পরেও ট্রাফিক বিভাগ বলছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আন্তরিকভাবে তৎপর রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তৃতীয় রমজানেও যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী
আরও পড়ুন