Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা যাবে অভিবাসী পরিবারগুলোকে

ট্রাম্পের নয়া অভিবাসন আইন

নিউ ইয়র্ক টাইমস | প্রকাশের সময় : ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ট্রাম্প প্রশাসন গত ১৪ আগস্ট এক আইন জারি করেছে। এ আইন বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারী অভিবাসী পরিবারগুলোকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখতে পারবে। এটা এক দশক পুরনো আদালতের একটি চুক্তিকে অপসারণ করেছে যাতে সরকার কতদিন অভিবাসী শিশুদের আটকে রাখতে পারবে এবং তাদের কতটা দেখাশোনা করতে হবে, তা নির্ধারণ করা ছিল।

ফ্লোরেন্স সমাধান নামে পরিচিত এ চুক্তিটি অপসারণ করার জন্য হোয়াইট হাউস এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে চাপ দিয়ে আসছিল। প্রশাসনের মতে, দেশের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসী আগমন ঠেকাতে এ পরিবর্তন দরকার।

যে নতুন আইনটি করা হয়েছে তা কার্যকর হওয়ার আগে একজন ফেডারেল বিচারকের অনুমোদন প্রয়োজন। তা হওয়ার সাথে সাথেই আদালতে আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ আইন আটক কেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতির মান নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোতে আটক পরিবারগুলোকে ২০ দিন আটক রাখার নির্দিষ্ট সময়সীমা বিলোপ করবে। এই সময়সীমাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মধ্য আমেরিকা ও যে কোনো স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা পরিবারগুলোকে ‘ধর ও ছাড়’ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করতে উৎসাহিত করেছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী কেভিন কে. ম্যাকঅ্যালিনান এক বিবৃতিতে বলেন, এই আইন কংগ্রেস কর্তৃক পাশ করা অভিবাসন আইন কার্যকর করতে ফেডারেল সরকারকে ক্ষমতা দিয়েছে। তিনি এটাকে এক জটিল আইন বলে উল্লেখ করেন যার ফলে সরকার অভিবাসী পরিবারগুলোকে আটক ও অভিবাসন ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষার ক্ষমতা লাভ করবে।

প্রশাসন গত শরতে আইনটির প্রস্তাব করে। এর ফলে জনসাধারণ সম্ভাব্য আইনটির ব্যাপারে মন্তব্য করার সুযোগ পায়। এটা এ সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার কথা। আর ৬০ দিন পর থেকে এটা কার্যকর হবে। যদিও প্রশাসন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে সম্ভাব্য আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে এটা কার্যকর হতে বিলম্ব হবে।
নতুন আইনের অধীনে প্রশাসন অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে আটক পরিবারগুলোকে কোনো পারিবারিক আবাসিক কেন্দ্রে অভিবাসন মামলায় তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে। কর্মকর্তারা বলেন, পরিবারের মামলাগুলো তিন মাসের মধ্যে সমাধান হতে পারে যদিও বহু মামলাই বহু বিলম্বিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেসব সাংবাদিককে গত মঙ্গলবার রাতে এই পরিকল্পনা তারা গোপন রাখবেন শর্তে ব্রিফ করেন, তারা বলেন যে বহু পরিবারকেই আশ্রয় প্রদান করে মুক্তিদান অথবা নিজ নিজ দেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত আটক রাখা হবে। কিছু পরিবারকে আদালত তাদের ভাগ্যের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত আটক কেন্দ্রের বাইরে বাস করার জন্য প্যারোল দেয়া হতে পারে।

২০ দিন আটক রাখার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সাল থেকে। আটক কেন্দ্রগুলোতে অভিবাসী শিশুদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেডারেল-কর্তৃপক্ষের বিরদ্ধে মামলা দায়েরের পর ১৯৯৭ সালে আদালতের আদেশের সংশোধিত আদেশ হিনেবে এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো সীমান্তে অভিবাসী আগমন রোধের উদ্যোগে এই আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করে। ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন যে সমগ্র অভিবাসীদের আটক সীমিত করার কারণে এ বছর মধ্য আমেরিকার পরিবারগুলোর অভিবাসী হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে।

কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার বলেন যে নতুন আইন বহাল করা হলে তা একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরণ করবে যে শিশুদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তিলাভের পাসপোর্ট নয়।
তারা ইঙ্গিত করেন যে যেসব পরিবার অবৈধ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করছে, এই আইন তাদের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে হ্রাস করতে সক্ষম হবে। যার ফলে অধিক পারিবারিক আবাসিক কেন্দ্র নির্মাণের সংখ্যাও হ্রাস পাবে।

সম্মতি আইন থেকে সরে আসা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির রূপকার স্টিফেন মিলারের ব্যক্তিগত লক্ষ্য। নয়া আইন প্রণয়ন শেষ করতে বিলম্বের জন্য মিলার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন। তারপর তাদের ওই বিভাগ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। (আগামীকাল শেষ হবে)

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্প


আরও
আরও পড়ুন