Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

মুক্তাগাছায় ট্রাকভর্তি সরকারি চাল আটক

হালুয়াঘাটে খাদ্যগুদাম সিলগালা

ময়মনসিংহ ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম

 ময়মনসিংহে খাদ্য বিভাগের সরকরি চাল নিয়ে হরিলুট চলছে। বুধবার সন্ধ্যায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ট্রাকভর্তি সরকারি চাল। একই দিনে মজুদ ঘাটতি ও নিন্মমানের চাল সংরক্ষনের অভিযোগে সিলগালা করা হয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলার নাগলা খাদ্য গুদাম। এনিয়ে জেলা খাদ্য বিভাগের ভেতরে-বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মুক্তাগাছা থানার ওসি আলী মাহমুদ চাল আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এক ট্রাকভর্তি চাল আটক করা হয়েছে। তবে ট্রাক ড্রাইভার পালিয়েছে। শুনেছি এ চাল কোন একটি সরকারি দপ্তরে নেয়ার কথা ছিল। তবে কে এ চালের মালিক, তা এখনো সঠিক জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে মুক্তাগাছা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, আটক চাল গুদামের না। গুদামের মজুদ ঠিক আছে। আটক চালের বিষয়ে আমি অবগত নই।
সূত্র জানায়, মুক্তাগাছার প্রভাবশালি মিলার কামাল মাষ্টার ও আ. হালিম ভিজিএফ এর বরাদ্ধ চাল বাইরে থেকে কম মূল্যে ক্রয় করে বিতরণে সরবরাহ করেন। এ অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। পরে তারা ছয় শ’ টন পুরাতন চাল মুক্তাগাছার গুদাম কর্মকর্তা এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ম্যানেজ করে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় গুদামে ঢুকিয়ে বিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা রাজি না হওয়ায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। এ বিষয়ে মিলার কামাল মাষ্টার বলেন, আমরা খাদ্য বিভাগের সাথে কাজ করি সত্য। তবে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পুরোটা সত্য নয়।

এদিকে হালুয়াঘাটের নাগলা খাদ্য গুদাম সিলগালা করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার। তিনি জানান, বুধবার বিকেলে গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। তবে এখনো পরিদর্শন করা হয়নি। সূত্র জানায়, নাগলা গুদামে কম মূল্যে ৬০ টন পুরাতন চাউল ক্রয় করে মজুদ রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ওই গুদামে মজুদ ঘাটতি রয়েছে বেশ কিছু চাল। এমন অভিযোগেই গুদাম সিলাগালা হয়েছে।
তবে গুদাম ইনচার্জ হালুয়াঘাটের উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, গুদামের মজুদ ঠিক আছে। মজুদে কোন অনিয়ম নেই।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, দ্রæত সময়ের মধ্যে গুদাম পরিদর্শন করে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তবে এসব বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মুক্তাগাছা গুদামের মজুদ ঠিক আছে। আটক চাল গুদামের নয়। অপরদিকে হালুয়াঘাটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্বায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরিন কোন্দলের কারণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গুদাম সিলাগালা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ