Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

৭২’এ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ খুন শুরু করে

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

বিএনপি খুনীদের দল সরকারের এক মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, উনি ভুলে গেছেন যে, উনারা ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই খুন শুরু করেছিলেন। সেদিনও তারা রক্ষীবাহিনী তৈরি করে তাদের কর্মীনেতারা বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে খুন করেছে। সেদিন সিরাজ শিকদারকে খুন করা হয়েছিলো, এরকম অসংখ্য নেতা-কর্ম-সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়েছিলো। তিনি বলেন, বিএনপি কিন্তু খুনের সাথে সম্পৃক্ত নয়, বিএনপি কখনো খুনের দায়ে পড়ে নাই। এবার ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ এই ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে খুন করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, নিপীড়ন করেছে, গণতান্ত্রিক সমস্ত পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে, এখানে গণতান্ত্রিক স্পেস বলতে আর কিছু তারা রাখেনি।

গতকাল (রোববার) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের দুঃশাসনে দেশের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে সারাদেশে তারা (সরকার) একটা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। সেখানেই যাবেন সেখানে দেখবেন আওয়ামী লীগের লোকেরা লুটপাট ছাড়া আর কোনো কিছু করছে। যার ফলে আজকে সমস্ত কিছু ভেঙ্গে পড়ছে, শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। আজকে দুঃশাসন সমগ্র দেশে একটা অসহ্য, অস্বাভাবিক দুঃসহনীয় পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার খুব সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধবংস করছে। শুধু গণতন্ত্র নয় রাজনীতিকেই ধ্বংস করছে। ১/১১ তে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত হয়েছিলো বিরাজনীতিকরনের সেই ধারাই এখন চলছে। পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে তাদের প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে তাদের একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, এই দেশে বিচার ব্যবস্থা বলতে কিছু নাই, এদেশে এখন আইনের শাসন বলতে কিছু নেই, এদেশে এখন ন্যায়-নীতি কোনো কিছুই নেই। এখন শুধু একদল একনীতি একটাই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আজকে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই এই যে মনস্টার দানবকে সরাতে হবে। তা নাহলে একাত্তর সালে যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনা ধূলিস্মাৎ হয়ে যাবে।

সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার সর্বত্রভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অর্থনীতি ধবংস করেছে, তারা আজকে শিক্ষা ব্যবস্থা ধবংস করেছে, তারা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধবংস করেছে। আপনারা দেখুন ডেঙ্গু - কী আকার ধারণ করেছে, হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। সম্পূর্ণ এই সরকারের অব্যবস্থা ও তাদের অযোগ্যতার কারনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সরকার ব্যর্থ মন্তব্য করে বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজকে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গত দুই বছর ধরে রোহিঙ্গারা এদেশে এসছে। এই দুই বছরে সরকার এতোই ব্যর্থ হয়েছে যে, দিনক্ষণ তারিখ ঠিক করেও গত তিন দিন আগে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাবে মিয়ানমারে-একজনও ফেরত যায়নি। অর্থাৎ পুরোপুরিভাবে তারা ব্যর্থ হয়েছে এই সমস্যা সমাধান করতে। সাবেক মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের কর্মময় জীবন তুলে ধরে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য শামসুজ্জামান মেহেদীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিরাজুল হক, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রশিদ উজ-জামান মিল্লাত, নিলোফার চৌধুরী মনি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, ওয়ারেস আলী মামুন, সুজাত আলী, মরহুম নেতার জামাতা এম হাসান ও ভাতিজী সাদিয়া হক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মরহুম আবদুস সালাম তালুকদারের স্ত্রী মাহমুদা সালামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ