Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

শর্ত মানলেই ফিরব

রোহিঙ্গা সঙ্কটের ২ বছর

বিশেষ সংবাদদাতা, কক্সবাজার | প্রকাশের সময় : ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন ও ‘গণহত্যার’ দুই বছর পূর্তি পালন করলো বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা। এ উপলক্ষে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গতকাল রোববার এক সমাবেশের আয়োজন করে তারা। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ সমাবেশ।

গত বছর থেকে এই দিনটিকে রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তারা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বানের স্্েরাতের মতো বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। জাতিসংঘের হিসেব মতে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ শিবিরে এখন আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭ জন। সমাবেশে আরাকান ‘রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ নামক সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিব্বুল্লাহ, আব্দুর রহিম ও মুহাম্মদ ইলিয়াছসহ অন্যান্য রোহিঙ্গা নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে তারা মিয়ানমারে ফিরতে ৫ দফা দাবির কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘বিশ্ববাসীর কাছে আমরা জানাতে চাই মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গাদের ওপর সেদিন গণহত্যা চালিয়ে নারী-শিশু-পুরুষ নির্বিশেষে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছিল। আমরা এর বিচার চাই।

হাজার বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের (রাখাইন) নাগরিক হলেও নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব এবং নাগরিক স্বাধীনতা চাই’। তারা আরো বলেন, আমরা ভিটে-বাড়ি ফেরত চাই এবং সহায় সম্পদের ক্ষতিপূরণ চাই।

বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য রোহিঙ্গা নেতারা বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা বাংলাদেশে থাকার জন্য আসেনি। বিশ্ব স¤প্রদায়ের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায়ের মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ উপলক্ষে ক্যাম্পগুলোতে সতর্ক অবস্থায় ছিলেন আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্যরা। ব্যানার-পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সমাবেশে যোগদান করেন। এ সময় তারা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন কুতুপালং ক্যাম্পের লম্বশিয়া পাহাড়ের সমাবেশস্থল। সমাবেশ শেষে নিহত রোহিঙ্গাদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এদিকে অনুপ্রবেশের দুই বছর পূর্তিতে স্থানীয়দের কাছ থেকে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জোরালো দাবি উঠলেও নানা কারণে ভন্ডুল হয়ে যাচ্ছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। সরকার দু’দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিয়েও তাদের স্বদেশে ফেরাতে ব্যর্থ হয়। রোহিঙ্গারা যেতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পন্ড হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে কতিপয় এনজিও›র উস্কানিতে বিভিন্ন শর্ত দিয়ে দেশে ফিরতে চাচ্ছে না বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়ার কারণে বিশ্ব সমাজে আমাদের সম্মান বেড়েছে। তবে এটা ঠিক যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে আমাদের বিশেষ করে কক্সবাজারের জন্য বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমি আন্তরিকভাবে চাইছি রোহিঙ্গারা দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত যাক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ