Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় জাবি উপাচার্যকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ডুজার

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ৫:০১ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যিালয়ের (জাবি) দুই সাংবাদিককে গত ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের উপর উপাচার্য কর্তৃক এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জাবি উপাচার্যকে সাংবাদিক সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)।

আাজ সোমবার (২৬ আগস্ট) সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবির ও সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন উপাচার্যের কাজ বিশ^বিদ্যালয় পরিচালনা করা, সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করা নয়।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বণ্টনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান দৈনিক প্রথম আলোর জাবি প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের শরীফুল ইসলাম সীমান্ত। উপাচার্য দুই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখার পর তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে চান। এ প্রশ্ন করামাত্র উপাচার্য সাংবাদিকদের উপর প্রচÐ রেগে যান এবং এমন প্রশ্ন করার সাহস কোথায় পেল বলে সাংবাদিকদেরকে ধমকাতে থাকেন।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে জানালে উপাচার্য তথ্যের সোর্স বলতে বলেন। কিন্তু সাংবাদিকরা সোর্সের গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে সোর্সের নাম বলেননি। এতে উপাচার্য আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের এমন আচরণ সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের কাজই হলো কোনো অনিয়মের খবর পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা। সে হিসেবে সাংবাদিকরা উপাচার্যের কাছে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইতেই পারেন। উপাচার্যের উচিত ছিল সাংবাদিকদের তথ্য দেয়া। তথ্যটি সত্য না হলেও উপাচার্য সাংবাদিকদের সেটা জানাতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে হুমকি দিয়েছেন। উপাচার্যের কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে বিশ^বিদ্যালয় পরিচালনা করা, সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া নয়।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য নিশ্চয় অবগত আছেন যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তিনি সেটা সম্পর্ক যদি জনগণকে স্পষ্ট করতেন তাহলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু সেটা না করে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত। এর ফলে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

সাংবাদিকসমাজ সর্বসম্মতিক্রমে মাননীয় উপাচার্যের এ ধরনের স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক এবং সর্বপরি শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের জন্য অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহŸান জানান। অন্যথায় সকল বিশ^বিদ্যালয় সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এহেন আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি প্রদান করা হবে বলে হুশিয়ারি প্রদান করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ