Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

মন্দার প্রান্তে দাঁড়িয়ে হংকং

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের শুরু থেকেই অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপ‚র্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হংকং। কিন্তু টানা তিন মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আধা স্বায়ত্তশাসিত এই চীনা শহর এখন পৌঁছে গেছে মন্দার প্রান্তে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনাকাটা আর খাবারের জন্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এই শহরের হোটেল রেস্তোরাঁগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। ব্যাংকগুলোর আর্থিক হিসাব সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। বড় কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বড় একটি ইকুইটি চুক্তি। এই পরিস্থিতিতে হংকংয়ে এ বছর খুচরা বিক্রির পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিনিয়োগকারীরা আশপাশের অন্য কোনো এশীয় শহরে ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। সব মিলিয়ে অর্থনীতির সবগুলো স‚চক চাপে পড়ায় গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মত অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি গতে যাচ্ছে হংকং। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রতিদিনই শহরের স্বাভাবিক জীবযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশের মারমুখি ভ‚মিকায় এ শহরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পড়ছে। বাজার বিশ্লেষক এডিসন লির ভাষায়, হংকংয়ের অর্থনীতি এত বড় সংকটের মুখে আর কখনো পড়েনি। অপরদিকে, জুন থেকে শুরু হওয়ার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মোকাবেলায় প্রথমবারের মতো পানিকামান ব্যবহারের পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছুড়ছে হংকংয়ের পুলিশ। রোববার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে দিনভর সহিংসতা হয়েছে বলে বিবিসি, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মলোটোভ ককটেল ও ইট ছুড়েছে। তাদের মোকাবিলায় পুলিশ কাঁদুনে গ্যাসের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো পানি কামান ব্যবহার করেছে। সকালে নগরীর সুয়েন ওয়ান এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর পরে পাশের সিম শা সুয়ি এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সকালে শান্তিপ‚র্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছয় পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পিস্তল তাগ করে এবং তাদের একজন এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বিক্ষোভকারীদের দিকে কর্মকর্তারা পিস্তল তাক করে রেখেছেন। সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভকারীরা ইঁদুর-বিড়াল কৌশল খাঁটিয়ে পুলিশকে বেকায়দায় ফেলে। পুলিশ এগিয়ে এলে তারা বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দেয়। ওই স্থানগুলোর রাস্তায় আগেই থেকেই স্থাপন করা অবরোধের সুযোগ নিয়ে দ্রæত পালিয়ে যায় তারা। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীও রয়েছে। গ্রেপ্তারদের ২৯ জন পুরুষ ও সাত জন নারী। অবৈধ সমাবেশ, আক্রমাণত্মক অস্ত্র সঙ্গে রাখা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার দায়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। আসছে দিন ও সপ্তাহগুলোতেও আরও বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করেছে আন্দোলনকারীরা। বুধবার হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজের সামনে সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে তারা। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর চীনের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মোকাবেলা করছে হংকং। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, চীনের ‘এক দেশ, দুই পদ্ধতির’ ব্যবস্থার অবসানের লক্ষ্যে লড়াই করছেন তারা। বিবিসি, রয়টার্স।


সা¤প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে রাজস্থানে ১৪৪ ধারা
ভারতের রাজস্থানে সা¤প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রোববার রাজ্যের মাধোপুর জেলার গঙ্গাপুর শহরে হিন্দু বিশ্ব পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতে এ সংঘর্ষের স‚ত্রপাত হয়। মাধোপুর পুলিশের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, হিন্দু বিশ্ব সভার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিটি স্থানীয় জামে মসজিদের কাছে পৌঁছাতেই তাদের সেøাগানের বিপরীতে মুসলিমরা সেøাগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে র্যালিতে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ইতিমধ্যে কারুলি ও ভারতপুর থেকে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। পিটিআই, ইন্ডিয়া টুডে।

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হংকং


আরও
আরও পড়ুন