Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

মুক্তিযুদ্ধের সময় কারা ভারতে বসে রেখা-শ্রীদেবীর সিনেমা দেখেছেন -তালিকা প্রকাশের দাবি ফারুকের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৯, ৬:৫১ পিএম

মুক্তিযুদ্ধের সময় ট্রেনিং না নিয়ে কলকাতায় বসে কারা আরাম-আয়েশ করেছেন তাদের তালিকা করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা (আওয়ামী লীগ) বলছে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। আমার প্রশ্ন আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ক’জন ছিলেন কলকাতায়, ক’জন ছিলেন রণাঙ্গনে, ক’জন মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন, ক’জন রেখা-শ্রীদেবীর সিনেমা দেখেছেন ভারতে বসে? তার তালিকা করুন। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠন আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

জয়নুল আবদিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, রাজাকারের তালিকা তৈরি করা হবে। আমি অনুরোধ জানাব এই অবৈধ মন্ত্রীর কাছে, দয়া করে একাত্তরে কলকতায় বসে কারা সময় অতিক্রান্ত করেছেন, কারা সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং না নিয়ে আরাম-আয়েশে সময় কাটিয়েছেন তাদের একটা তালিকা তৈরি করুন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দাবিদার আমি এটা বিশ্বাস করতে পারি না। যদি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হয়ে থাকে তাহলে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান, সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র এনে দিয়েছেন, যিনি বহির্বিশ্বে তলাবিহীন দেশকে ঝুড়িতে পরিণত করেছেন তার স্ত্রী কেন কারাগারে?

বিএনপি হতাশ নয় মন্তব্য করে সাবেক বিরোধী দলীয় চিফহুইপ বলেন, সরকারকে বলতে চাই, আপনারা গণতান্ত্রিক সরকার নন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেন না। সময় খুব বেশি নাই। এখনও সময় আছে দয়া করে দেশনেত্রীর কোনো অঘটন ঘটার আগে তাকে মুক্তি দিন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। আপনারা ব্যাংক, শেয়ারবাজার খেয়েছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে করেছেন। কিন্তু একবার সুযোগ পেলে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী মাঠে নেমে আসবে, তখন কিন্তু পালাবারও পথ পাবেন না।

রোহিঙ্গাদের সমাবেশ সম্পর্কে সরকার পূর্বে জানতো না পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, যে সরকার নির্বাচিত নয়, গত দুই বছরে রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যে সরকার ব্যস্ত রয়েছে শুধু বেগম জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার জন্য। তাদের পক্ষে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা কখনোই সম্ভব নয়।

সরকারের গোয়েন্দারা বিএনপি নেতাদের নিয়ে ব্যস্ত অভিযোগ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দারা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাহারা দেয়। তারা ব্যস্ত রয়েছে পিজি হাসপাতালের ছোট্ট রুমে কোনও চিঠি আদান প্রদান করা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে? কিন্তু এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেলো, রোহিঙ্গারা এত বড় একটি সমাবেশ করলো, সমাবেশে ডিজিটাল টি-শার্ট, রঙিন পোস্টার, অবৈধ টেলিফোনের ব্যবহার হলো- অথচ সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী বললেন- ‘আমরা কিছুই জানি না’।

কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের আরিফা সুলতানা রুমা, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন