Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

চামড়া সঙ্কট রোধে নতুন পরিকল্পনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আগামীতে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সঙ্কট তৈরি করতে না পারে সে জন্য নতুনভাবে পরিকল্পনা করার হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার অভাবেই এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসারভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শিগগিরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, এফটিএ’র জন্য মার্কোসারভুক্ত চারদেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা। প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সস্মতির প্রয়োজন। এলক্ষে আগামী ডিসেম্বরে তারা একটি সভা করে আমাদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবে। আশা করছি সেখান থেকে আমরা ফলপ্রসূ রেজাল্ট পাবো।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কোসারভুক্ত দেশসমূহ সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে মূল্য নির্ধারন করে দেয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। ব্যবসায়ীরা অনুরোধ করার পরও তারা সে দাম মানলেন না। তাই কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বার বার বলা সত্তে¡ও ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মানেননি। তাই আগামী বছর যাতে এবারের মতো বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি না হয় এবং সাধারণ মানুষকে চামড়া নষ্ট করতে না হয় সেজন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, চামড়া নিয়ে এবার আমার শিক্ষা হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। যাতে কাঁচা চামড়া নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না হয়। তবে এবার চামড়া সংগ্রহে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিলো না।
চামড়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, স¤প্রতি কেবিনেটে যে নীতিমালা হয়েছে সে আলোকে কাজ করা হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে যাতে ব্যবসায়ীরা মূল্য পায় সে জন্য কাঁচা চামড়া রফতানি করা হবে।

বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, পেঁয়াজ আমদানি নির্ভর। ভারতের বন্যার কারণে ১২ টাকার কেজি পেঁয়াজ ২৫ টাকা হয়ে গেছে। সেই প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়ে। তবে যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে তাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। ঈদের ১৫ দিন আগে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। তখন আমাদের তদারকিতে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এখনও বাজারে মনিটরিং চলছে। আশা করছি পেঁয়াজের দাম নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা তৈরি হবে না।

এদিকে গত রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রপ্তানি সম্ভাবনাময় চামড়া খাতের উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রফতানিযোগ্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের গুনগতমান মান বজায় রাখার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই আরো একটি সভা করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া দাম অনুযায়ী ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের চামড়া লবণ দেয়ার পরে ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা- কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। ফলে এবার কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ না করায় তৃণমূল পর্যায়ে হাজার হাজার পিস চামড়া মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ