Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

লিভারের রোগে মুখের সমস্যা

ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন | প্রকাশের সময় : ৩০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

আমাদের দেশে লিভারের রুগী অনেক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাইরাস সংক্রমণের কারণে লিভারের রোগ হয়ে থাকে। অ্যালকোহল সেবন, লিপিড এবং কার্বোহাইড্রেট এর বিপাকক্রিয়ায় অচলাবস্থার কারণেও লিভারের রোগ দেখা দিতে পারে। লিভারের রোগের কারণে অনেক সময়ই মুখে প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয়ে বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মত লিভারের রোগের সাথে পেরিওডণ্টাল রোগের যোগসূত্র রয়েছে। পেরিওডণ্টাইটিস এর সাথে লিভারের রোগ যেমন নন অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজ, লিভার সিরোসিস এবং হেপাটোসেলুলার কারসিনোমার যোগসূত্র খুজে পাওয়া যায়। অর্থাৎ লিভারে সমস্যা থাকলে এ সব রোগের অবস্থার অবনতি ঘটে থাকে। তাই লিভারের রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার পেরিওডণ্টাল স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

দাঁত তোলা বা কোনো সার্জারির পর রক্তপাত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কখনো কখনো রক্তপাত বেশী হওয়ার কারণে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। রক্তপাত বেশী হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ লিভারের রোগ। লিভার ফেইলিউর বা লিভার অকার্যকারিতায় যে সব কারণে রক্ত জমাট বাধতে পারে না সেগুলো হলো- (ক) ভিটামিন কে’র বিপাকক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা (খ) ফিব্রিনোলাইসিসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া (গ) স্বাভাবিক রক্ত জমাট প্রক্রিয়ার উপাদানগুলোর বেশী পরিমাণে শরীর দ্বারা গ্রহণ করা। উপরোক্ত কারণে রক্তপাত রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এন্টিফিব্রিনোলাইটিক এজেন্ট এবং ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা প্রয়োগ মাঝে মাঝে কার্যকর হয়ে থাকে। আর এর সঙ্গে ভিটামিন কে’ও ভ‚মিকা রাখতে পারে। এ অবস্থায় ভিটামিন ‘কে’ ১০ মিলিগ্রাম ইনজেকশন আকারে প্রদান করে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। ক্রনিক লিভারের রোগে কোয়াগুলোপ্যাথির জন্য সামান্য আঘাতে মাড়ি থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে। তাই যে কোনো অপারেশনের আগে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রনিক লিভার ডিজিজে দাঁত ও মাড়িতে সবুজ দাগ এবং এনামেল হাইপোপ্লাসিয়া দেখা যেতে পারে। দাঁতের চিকিৎসা জটিল হতে পারে বিøডিং ডিজঅর্ডার এর কারণে।
হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা একেবারে কম নয়। সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত বা রক্তজাত দ্রব্যের মাধ্যমে এ ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে থাকে। যৌন মিলনেও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। বর্তমানে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে ড্রাগ নেওয়ার মাধ্যমে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি, লিভার ফেইলিউর, লিভার ক্যান্সার এবং এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। এছাড়া ধারণা করা হয় হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের সাথে মুখের অভ্যন্তরের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস এবং স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বা ক্যান্সার এর যোগসূত্র থাকতে পারে। হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের জন্য কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা এখনো আবিষ্কার হয়নি। নিরাপদ রক্ত গ্রহণ ও নিরাপদ যৌন মিলনই এটা প্রতিরোধ করতে পারে। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে আপনার শরীরে বি ভাইরাস উপস্থিত থাকলে কেবলমাত্র তখনই আপনি ডি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। তাই যথাসময়ে বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকা নিন। মনে রাখতে হবে কেবলমাত্র হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস হেপাটোসেলুলার ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব বিষয়ে সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ
মোবাইল: ০১৮১৭-৫২১৮৯৭

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লিভার

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৩০ নভেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন