Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ফ্লাইওভার তুমি কার?

আর কত প্রাণ ঝরলে সড়কবাতি জ্বলবে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

দিনের অলোতে ঝলমল করলেও রাতের অন্ধকারে মলিন হয়ে যায় ঢাকার ফ্লাইওভারগুলো। দীর্ঘদিন এগুলোতে সড়কবাতি জ্বলে না। আর জ্বলবেই বা কী করে! এসব ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় যে সড়কবাতি লাগানো হয়েছিল সেগুলোর চিহ্নটুকুও নেই। শুধু সড়কবাতিই নয়, নির্মাণের পর থেকেই কখনো যথাযথ তদারকি করা হয়নি। উপরে সড়কবাতি না থাকার কারণে রাতে অন্ধকার হয়ে পড়ে। এছাড়া ভাল-মন্দ দেখভালের দায়িত্ব কার তাও সঠিকভাবে স্বীকার করছে না।

সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়, এগুলো দেখার দায়িত্ব তাদের নয়। কারণ তাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তাই ফ্লাইওভারে যদি বাতি না জ্বলে সে দায় আমাদের না। এটা যারা নির্মাণ করেছেন তাদের ব্যাপার। অন্যদিকে ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, আমরা সিটি কর্পোরেশনকে বলেছি, তারা যেন ফ্লাইওভারের দায়িত্ব বুঝে নেয়। কিন্তু তারা সম্পূর্ণভাবে এর দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছে না।

রাজধানীর প্রতিটা ফ্লাইওভারে ব্যবহৃত বাতিগুলো অনেক দিন ধরে অকেজো। ফলে রাতের বেলা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে ফ্লাইওভারগুলো। রাতের অন্ধকার দূর করতে অকেজো হয়ে পড়া বাতিগুলো ঠিক করে সচল রাখতে কার্যকর কোনো উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ছিনতাইয়ের প্রবণতা বাড়ছে, তেমনি ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। এলজিইডি, রাজউক, ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটা ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষে উদ্বোধনের সময় বাতিগুলো সচল ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রায় সবগুলোই অকেজো হয়ে গেছে। নিয়মিত চলাচলকারীরা জানান, ফ্লাইওভারগুলো চালুর সময় বাতিগুলো সচল ছিল। কিন্তু পরে সঠিক নজরদারির অভাবে ক্রমান্বয়ে সবগুলো বাতিই অকেজো হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক মাস পর বাতির স্ট্যান্ডগুলোও ফ্লাইওভারে পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিক নজরদারির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

গত দু-দিন সরেজমিনে ঘুরে রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোতে দেখা যায়, সবগুলো বাতিই অচল। প্রত্যেকটি থাকা শত শত বাতির মধ্যে কোথাও কোথাও দুয়েকটি মিটমিট করে জ্বলতে দেখা যায়। অবশিষ্ট বাতিগুলো স্ট্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও জ্বলতে দেখা যায়নি। ফলে রাতের বেলা সব ফ্লাইওভার অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। ফলে এগুলোতে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এমনকি গভীর রাতে ফ্লাইওভারগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িল ফ্লাইওভারে গিয়ে দেখা যায়, এর অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট। এই ফ্লাইওভারটি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়ির হেডলাইটের আলোই চালকদের ভরসা। ফলে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ফ্লাইওভারটির আশপাশের এলাকা অন্ধকার থাকার কারণেও নানা ধরনের অপরাধের ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিনে ঘুুরে দেখা যায়, রমনা থানা থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের সবগুলো বাতিই অচল। পুরো ফ্লাইওভারে স্থাপিত শতাধিক বাতির মধ্যে মাত্র তিনটি বাতি জ্বলতে দেখা যায়। বাকিগুলো স্ট্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও একটি বাতিও জ্বলতে দেখা যায়নি। ফলে রাতের বেলা ফ্লাইওভারটি অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকে। বাতিগুলো চালু হওয়ার সপ্তাহ খানেক পর আস্তে আস্তে বন্ধ হতে শুরু হয়। এগুলো মাদকসেবী কিছু চোরচক্রের সদস্য ভেঙে নিয়ে যায়। বিক্রি করে নেশাদ্রব্য কিনে রাতভর নেশা করে।

কুড়িল ফ্লাইওভার এলাকা ঘুরে আরও দেখা গেছে, পূর্বাচলগামী ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে এয়ারপোর্টগামী লুপ বেয়ে ফ্লাইওভারে উঠলেই চোখে পড়বে একপাশের কয়েকটি লাইটপোস্ট, যা দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো ল্যাম্পপোস্ট না অন্য কিছু। কিছু দূর গেলে চোখে পড়ে ফ্লাইওভারের ডান পাশে এমন সারি সারি লাইটপোস্ট। বাতি না থাকায় ফ্লাইওভারের এ পাশটা অন্ধকার। রাতের গাড়িগুলো তাই সতর্কভাবে হেডলাইটের অলোয় পথ চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এ লুপের বিমানবন্দর সড়কেরও একই অবস্থা। আবার ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে এমইএস লুপ, নিকুঞ্জ-কুড়িল লুপ বা খিলক্ষেত-কুড়িল লুপেরও একই অবস্থা। ন্ধকার।

এদিকে এলজিডি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইওভার নির্মাণে এলজিডি মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত থাকলেও এগুলো চালু হওয়ার পর তা দেখাশোনা করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৗশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মালিবাগ অংশের ফ্লাইওভার আমাদের বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে। এ বিষয়ে এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি। তাই এই ফ্লাইওভারটি এখনো এলজিইডির হাতেই রয়েছে। আর বনানী ও কুড়িল ফ্লাইওভার এখনো আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। যদি ফ্লাইওভারের কোনো বাতি না জ্বলে তাহলে সে দায় আমাদের না।
অন্য দিকে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল বলেন, মগবাজার ফ্লাইওভার চালু হয়েছে অনেক আগেই। আমরা সিটি কর্পোরেশনকে বলেছি, তারা যেন এ ফ্লাইওভারটি দায়িত্ব বুঝে নেয়। কিন্তু তারা সম্পূর্ণভাবে এর দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছে না। কীভাবে ফ্লাইওভারের বাকি দিকগুলো তদারকি করা হবে সেগুলো তো তাদের নির্ধারণ করার কথা।

 

 

 



 

Show all comments
  • ash ৩০ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৫৭ এএম says : 0
    HAY RE AI HOCHE AMADER BANGLADESH ! KONO SYSTEM BOLTE NAI, AMON AKTA DESH KONO SYSTEM E KAJ KORE NA, .............................
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ আককাছ আলী মোল্লা ৩০ আগস্ট, ২০১৯, ৮:৪৩ এএম says : 0
    নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসলে এসব দেখার দায়িত্ব বাড়তো।সবাই যেখানে চোর যত্ন করবে কে?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফ্লাইওভার

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
৩১ আগস্ট, ২০১৯
২৯ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ